দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশনে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে ১২ কেজির বেসরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করেছে কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।এই সুপারিশ কার্যকর হলে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়বে ১৩৯ টাকা। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রস্তাব, ব্যয়ের হিসাব ও মতামত পর্যালোচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করবে বিইআরসি।গণশুনানিতে এলপিজি আমদানিকারক, অপারেটর, মজুত ও বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠান, পরিবেশক এবং খুচরা বিক্রেতাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাঁরা এলপিজির মূল্য, সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণ ব্যয় এবং পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব তুলে ধরেন।কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি প্রতি কেজি এলপিজির খুচরা মূল্য ১৫৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৬৪ টাকা ৬৮ পয়সা করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি মজুত ও বোতলজাতকরণ, পরিবেশক এবং খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।বিইআরসি জানিয়েছে, কমিশন আইন, ২০০৩-এর ৩৪(৬) ধারা অনুযায়ী এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। শুনানিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর যুক্তি ও মতামত বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর পর্যন্ত লিখিত মতামত জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এরপর প্রস্তাব ও মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।এদিকে, ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এলপিজি সিলিন্ডার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, বাজারে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগের সমাধান নিশ্চিত করা জরুরি।এর আগে ৪ অক্টোবর বিইআরসি ১২ কেজির বেসরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।নতুন সুপারিশ চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে কি না, তা জানতে এখন বিইআরসির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন ভোক্তারা। দাম বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করা এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধ করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।