ঢাকার কণ্ঠ

বিশ্বকাপ ‘বিক্রির’ বিতর্কে মুখ খুলল ফিফা

বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও সমর্থকদের সমালোচনার পর বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে সংস্থাটি।এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ফিফা জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও পরামর্শের পথ এখনো খোলা রয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি দাবি করেছে, বিশ্বকাপ বা ফুটবলকে ‘বিক্রি করে দেওয়ার’ কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফার এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাদের অধীন ৫৫টি সদস্য দেশ একযোগে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে এবং এটি প্রত্যাহার না হলে বিশ্বকাপ বর্জনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।এদিকে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফও একই অবস্থান নিয়েছে। সংস্থাটির ৪১টি সদস্য দেশও ফিফার এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে।চারদিক থেকে সমালোচনার মুখে ফিফা এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। তবে সব সদস্য দেশ যেন সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে মতামত দিতে পারে, সে জন্য উন্মুক্ত আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে।ফিফা আরও বলেছে, ফুটবল বিক্রি করে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। বরং বিশ্ব ফুটবলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়িয়ে সব অঞ্চলে এর সুফল পৌঁছে দিতেই ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে একটি নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেসরকারি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ছাড়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে তা কার্যকর করতে হলে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টির সমর্থন প্রয়োজন। ইতোমধ্যে উয়েফা ও কনকাকাফের মোট ৯৬টি সদস্য দেশ প্রকাশ্যে বিরোধিতা করায় প্রস্তাবটি অনুমোদন পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।ফিফা জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলোর উদ্বেগ ও মতামতকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে। সংস্থাটির দাবি, এফএফই গঠনের উদ্দেশ্য বিশ্ব ফুটবলে বাণিজ্যিক সুফল বাড়ানো, ফুটবলের মূল চেতনা বা পরিচালনায় কোনো পরিবর্তন আনা নয়।

বিশ্বকাপ ‘বিক্রির’ বিতর্কে মুখ খুলল ফিফা