ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা পর্যালোচনা করছে সরকার। এসব চুক্তির মধ্যে কোনগুলো দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কোনগুলো পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে, তা যাচাই করে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। চিফ হুইপের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা।তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে এমন কিছু চুক্তি করা হয়েছিল, যেগুলো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। দেশের স্বার্থ রক্ষার পরই অন্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। চিফ হুইপ আরও বলেন, সরকার দেশের স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন চুক্তি ও সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করছে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে করা চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার ভাষায়, সরকারের মূলনীতি হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তির সংখ্যা নিয়ে আগের সরকারি তথ্যেও দেখা যায়, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে দুই দেশের মধ্যে বিপুলসংখ্যক চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও প্রটোকল সই হয়েছে। ২০১৭ সালে সংসদে দেওয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর থেকে ভারতের সঙ্গে ১৩৪টি এমন চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও প্রটোকল হয়েছিল; এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে ১০৬টি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর মধ্যে যোগাযোগ, সীমান্ত নিরাপত্তা, জ্বালানি, বাণিজ্য ও অন্যান্য খাতে বিভিন্ন ধরনের সমঝোতা ও চুক্তি রয়েছে। অতীতেও এসব চুক্তির স্বচ্ছতা ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০১৭ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশও ভারতের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো সংসদে উপস্থাপন করে আলোচনা করার দাবি জানিয়েছিল। এদিকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সরকার একদিকে জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বললেও, অন্যদিকে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলে আসছে। এর আগে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতেই এগিয়ে নেওয়া হবে। ফলে ১০১টি চুক্তির পর্যালোচনায় কোন কোন চুক্তি বহাল থাকবে, কোনগুলো সংশোধন বা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে সেদিকেই এখন নজর রয়েছে। সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।