ঢাকার কণ্ঠ

কক্সবাজার পল্টনে মাছের জোয়ার,গত দু' দিনে প্রায় ৩০ কোটি টাকা বেচাকেনা

আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৩ দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে শেষ মুহূর্তে সাগর থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ নিয়ে কক্সবাজারের পল্টনে ফিরছে একের পর এক মাছ ধরার ট্রলার। এতে মাছের আড়ত ও ঘাটজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে মাছ নামানো, বাছাই, বরফ দেওয়া, প্যাকেটজাত ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর ব্যস্ততা।নিষেধাজ্ঞার আগে মাছ ধরার সুযোগ শেষ হয়ে আসায় জেলেরা সাগরে তাদের শেষ দফার অভিযান শেষ করে ঘাটে ফিরছেন। আর ট্রলারভর্তি মাছ ঘাটে আসায় পল্টন এলাকায় যেন দেখা দিয়েছে মাছের জোয়ার। বিশাল বিশাল স্তূপ করে রাখা হচ্ছে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। কোথাও শ্রমিকরা মাছ বাছাই করছেন, কোথাও পলিবক্সে বরফ দিয়ে মাছ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। আবার আড়তগুলোতে চলছে দরদাম ও বেচাকেনা।ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিনে কক্সবাজার পল্টনে প্রায় ৩০ কোটি টাকার মাছ বেচাকেনা হয়েছে। পল্টন ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ট্রলার থেকে নামানো হচ্ছে বিপুল পরিমাণ মাছ। একদিকে মাছের স্তূপ, অন্যদিকে শত শত পলিবক্স ও বরফ। শ্রমিকদের ব্যস্ততায় মুখর পুরো এলাকা। কেউ ট্রলার থেকে মাছ নামাচ্ছেন, কেউ মাছ বাছাই করছেন, আবার কেউ বরফ দিয়ে প্যাকেটজাত করে পরিবহনের জন্য প্রস্তুত করছেন।জেলেরা বলছেন,২৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা ঘিরে জেলেদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদিকে নিষেধাজ্ঞার আগে ভালো পরিমাণ মাছ আহরণ করতে পারায় অনেকেই সন্তুষ্ট, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় সাগরে যেতে না পারায় আয়-রোজগার বন্ধ থাকার বিষয়টি নিয়েও রয়েছে তাদের দুশ্চিন্তা।বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে পরিবার চালানোর জন্য সরকারি সহায়তা যথাসময়ে পাওয়া জরুরি। এছাড়া “নির্বিচারে ট্রলিংয়ে ধ্বংস হচ্ছে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের পোনা—সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ক্ষতিকর ট্রলিং বন্ধের দাবি।”এদিকে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক হাবিবুল ইসলাম জানান, গত তিন মাসে এ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন মাছ অবতরণ হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭১ মেট্রিক টন ইলিশ রয়েছে। এসব মাছ অবতরণের বিপরীতে সরকার প্রায় ২২ লাখ টাকা রাজস্ব পেয়েছে বলে জানান তিনি।তিনি বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে আসন্ন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সমন্বয় করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে যাতে কোনোভাবেই অবৈধভাবে মাছ আহরণ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে হাবিবুল ইসলাম বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে একটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও শেষ হলে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের বর্তমান অব্যবস্থাপনাগুলো অনেকটাই দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কক্সবাজার পল্টনে মাছের জোয়ার,গত দু' দিনে প্রায় ৩০ কোটি টাকা বেচাকেনা