ঢাকার কণ্ঠ

মেটার বিরুদ্ধে ভয়ংকর অভিযোগ, ঝুঁকিতে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম!

শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি, গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি তৈরির অভিযোগে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে বহুল আলোচিত বিচার। ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মামলাটির উদ্বোধনী বক্তব্য শুরু হয়েছে। মামলাটি মেটার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নকশা ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।মামলাটির সূত্রপাত ২০২৩ সালে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের অভিযোগ, শিশু ও তরুণদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে এবং ব্যবহার বাড়াতে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার ও অ্যালগরিদম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা ক্ষতিকর ও আসক্তিমূলক আচরণকে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে।তবে আজকের ফেডারেল ট্রায়ালে ৩০টি অঙ্গরাজ্য একসঙ্গে তাদের সব দাবি উপস্থাপন করছে না। বিচারক ইয়ভন গনজালেস রজার্সের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব আইনের অভিযোগগুলো একসঙ্গে বিচার হচ্ছে। এর পাশাপাশি শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সংক্রান্ত ফেডারেল আইন ভঙ্গের অভিযোগও মামলায় রয়েছে।বদলে যেতে পারে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের ফিচারমামলায় অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বেশ কিছু পরিচিত ফিচারে পরিবর্তনের দাবিও জানানো হয়েছে।এর মধ্যে রয়েছে শিশু-কিশোরদের জন্য লাইক গণনা সীমিত বা বন্ধ করা, অনন্ত স্ক্রল বা ‘ইনফিনিট স্ক্রোল’ নিয়ন্ত্রণ, ভিডিওর স্বয়ংক্রিয় প্লেব্যাক বন্ধ করা এবং কিছু কনটেন্ট বা ডিজাইন ফিচার পরিবর্তন। অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের যাচাইকরণ ও আরও শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থার দাবিও রয়েছে।অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, এসব ডিজাইন সিদ্ধান্ত ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্মে আরও বেশি সময় ধরে রাখতে সহায়তা করে এবং শিশু-কিশোরদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে মেটা যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি। তারা বলছে, কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি সাংঘর্ষিক হয়ে উঠেছে।১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানার ঝুঁকিমামলাটির আর্থিক ঝুঁকিও বিশাল। মেটা আদালতে জানিয়েছে, চার অঙ্গরাজ্যের আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে দাবি প্রমাণিত হলে সম্ভাব্য জরিমানার পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে বাদীপক্ষের ক্ষতিপূরণের হিসাব ও আইনি দাবির ধরন নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন অঙ্ক উঠে এসেছে।এর আগে নিউ মেক্সিকোতেও মেটার বিরুদ্ধে পৃথক মামলায় বড় ধরনের আইনি পরাজয়ের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে একটি জুরি মেটাকে শিশুদের ক্ষতির অভিযোগে দায়ী করে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পরবর্তী ধাপে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার আরোপ করা হয়, ফলে ওই মামলায় মেটার মোট আর্থিক দায় দাঁড়ায় ৯৪২ মিলিয়ন ডলার।মেটার দাবি, শিশুদের সুরক্ষায় কাজ করছে তারামেটা অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তরুণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে। আদালতে নিজেদের অবস্থান ও পদক্ষেপের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করবে বলেও জানিয়েছে কোম্পানিটি।বিচারটি কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে এবং এতে মেটার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মামলায় অঙ্গরাজ্যগুলো জয়ী হলে শুধু বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানাই নয়, শিশু-কিশোরদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নকশা ও ব্যবহারের নিয়মেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

মেটার বিরুদ্ধে ভয়ংকর অভিযোগ, ঝুঁকিতে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম!