ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি ও টিপসই নেওয়ার পর তার নামে ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই কাগজ দেখিয়ে তার সঙ্গে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিয়ে হয়েছে বলে এলাকায় প্রচার করা হয়। তবে ওই নারী দাবি করেছেন, তিনি কোনো বিয়েতে সম্মতি দেননি। ভুক্তভোগী মোছাম্মৎ আছিয়া বেগম (৪৩) ফুলবাড়িয়া উপজেলার ২ নম্বর পুটিজানা ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় এক যুগ আগে তার স্বামী মারা যান। এরপর পাঁচ সন্তানকে নিয়ে তিনি স্বামীর বাড়িতে বসবাস করছেন। সন্তানদের বড় করে বিয়ে দেওয়ার পর তার নাতি-নাতনিও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় আবদুস ছাত্তার ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে প্রায় দেড় মাস আগে আছিয়া বেগমকে নিজের দোকানে নিয়ে যান। সেখানে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেওয়া হয়। পরে ফোন করে আবার ডেকে একটি কাগজে তার টিপসই নেওয়া হয়। কয়েকদিন পর ওই টিপসই ব্যবহার করে তার নামে বিয়ের কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন। প্রকাশ্যে আসা কাবিননামায় বর হিসেবে স্থানীয় আবদুল কদ্দুসের নাম রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি আগে ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে আছিয়া বেগম এতে রাজি হননি বলে তার পরিবার জানিয়েছে। কাবিননামায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর এবং ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম রয়েছে, তাদের কয়েকজন দাবি করেছেন, তারা এমন কোনো বিয়েতে সাক্ষী হননি। সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. গোলাম মোস্তফাও বলেছেন, কাগজে থাকা তার সিল ও স্বাক্ষর জাল করা হয়ে থাকতে পারে। অভিযোগের বিষয়ে আবদুস ছাত্তার তা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে তিনি ওই নারীর কোনো টিপসই নেননি এবং স্থানীয় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। অন্যদিকে, উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক জানিয়েছেন, ছাত্তার তাদের দলের কোনো পদধারী নেতা নন; বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে একাধিক দফা সালিশ হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের কেউ কেউ সেখানে উপস্থিত হননি। বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে সমাধান না হলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সোহাগও ভুক্তভোগী নারীকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।