আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন কোরবানির পশুর হাটের ইজারা সম্পন্ন হলেও গত বছরের তুলনায় এবার অধিকাংশ হাটের ইজারা মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে সরকারের রাজস্ব আয়েও বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আওতাধীন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পশুর হাটে সরকারি মূল্যের সামান্য বেশি দামে ইজারা বিক্রি হলেও গত বছরের তুলনায় এবারের দর অনেক কম এসেছে। এছাড়া কয়েকটি হাট সরকারি মূল্য না পাওয়ায় ইজারাই দেওয়া সম্ভব হয়নি।আমবাগিচা বালুর মাঠ হাটে কমেছে প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ টাকাগত বছর আমবাগিচা বালুর মাঠ হাট (আগানগর হাট) ইজারা হয়েছিল ১ কোটি ৭০ লাখ টাকায়। এবার হাটটির সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৫৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকা এবং ইজারা বিক্রি হয়েছে ৫৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকায়। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় ১,১০,১৭,০০০ টাকা টাকা কম দামে ইজারা হয়েছে। হাটটির ইজারাদার হয়েছেন আনোয়ার হোসেন।শুভাঢ্যা কন্টেনার পোর্ট হাটেও বড় পতনগত বছর শুভাঢ্যা কন্টেনার পোর্ট হাটের (হাসনাবাদ হাট) ইজারা মূল্য ছিল ৬১ লাখ টাকা। এবার সরকারি মূল্য ধরা হয় ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং বিক্রি হয়েছে ২৩ লাখ ১০ হাজার টাকায়। এতে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৮ লাখ টাকা কমে গেছে। হাটটির ইজারাদার হয়েছেন সেলিম মেম্বার।জিঞ্জিরা হাটে অর্ধেকে নেমেছে ইজারাগত বছর জিঞ্জিরা হাট ইজারা হয়েছিল ১৫ লাখ ২৫ হাজার টাকায়। এবার সরকারি মূল্য ছিল ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং বিক্রি হয়েছে ৭ লাখ টাকায়। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় ৮ লাখ টাকা কম দামে ইজারা হয়েছে। ইজারাদার হয়েছেন মোজাম্মেল আলী বাবু।বিসিক শিল্প নগরী পশুর হাটেও কমেছে দরগত বছর নতুন সোনাকান্দা হাট নামে পরিচিত বর্তমান বিসিক শিল্প নগরী পশুর হাটের ইজারা হয়েছিল ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। এবার সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। ইজারাদার হয়েছেন শাহবুদ্দিন।মিলিয়নিয়ার সিটি হাটেও কমেছে মূল্যগত বছর মিলিয়নিয়ার সিটি সংলগ্ন বালুর মাঠ হাট ইজারা হয়েছিল ৭১ লাখ ২৪ হাজার টাকায়। এবার একই হাটের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং বিক্রি হয়েছে ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকায়। হাটটির ইজারাদার হয়েছেন সাইফুল ইসলাম। এতে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা কমেছে।কয়েকটি হাটের ইজারা হয়নিএদিকে সরকারি মূল্য না পাওয়ায় খারাকান্দি, রাজাবাড়ি, বাঘাসুর ও রসুলপুর বালুর মাঠ পশুর হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, পশুর বাজারে অনিশ্চয়তা, ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইজারাদাররা আগের মতো উচ্চ দর দিচ্ছেন না।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাটগুলোর ইজারা মূল্যের এমন বড় পতনে সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তারা হাট ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর পরিকল্পনা ও তদারকির দাবি জানিয়েছেন।