ঢাকার ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তানের চেনা চিত্র যেন শুক্রবার বদলে গেছে। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নবনির্বাচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবন ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে যান চলাচল। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তাকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বিশিষ্টজনদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সরেজমিনে বঙ্গভবন এলাকার চিত্রে দেখা গেছে, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে পুরো এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বঙ্গভবনের সামনের অংশসহ আশপাশের সড়ক ও প্রবেশপথ পরিপাটি করে সাজানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। এদিকে শপথ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ বঙ্গভবন ও আশপাশের কয়েকটি সড়কে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। শুক্রবার দুপুর ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু সড়কে যান চলাচল বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত থাকবে। এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩টি ভোট পড়ে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পান ২৫৫ ভোট এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে শুক্রবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এরপর রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের জন্য বঙ্গভবনের উদ্দেশে যাওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘ সময় পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় এবারের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও রয়েছে বাড়তি আগ্রহ। এখন বঙ্গভবন প্রস্তুত অপেক্ষা শুধু নতুন রাষ্ট্রপতির শপথের।