আ.লীগ কর্মী বিশালের মামলায় আসামি হলেন বিএনপি নেতা রিফাত মোল্লা!
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে তেঘরিয়া বাস কাউন্টার দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে শুভাঢ্যা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য ও সাবেক মেম্বার ওহেদুজ্জামানের নাতি মো. বিশাল চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরণের অভিযোগ এনে তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফরের ছেলে রিফাত মোল্লাসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। রিফাত মোল্লা বিএনপির সক্রিয় নেতা বলে জানা গেছে। [TECHTARANGA-POST:6666]গত ৬ মে বিশাল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আজ শুক্রবার (৮ মে) সংশ্লিষ্ট দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।এ বিষয়ে ঢাকার কণ্ঠকে মামলার বাদী মো. বিশাল জানান, মামলাটির কোন অগ্রগতি নেই। এজন্য সাধারণ জনগণ মিলে আমরা ঝাড়ু মিছিল করেছি। এক প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগের কোন পদবি নেই উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সাবেক মেম্বার হাজি ওহেদুজ্জামানের আমার নানা হয়। তার সঙ্গে আমার বহুদিনের আগে একটি পুরনো ছবি ছিল। সেই দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে জলঘোলা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আসামি বিভিন্নভাবে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করছে বলে তিনি জানান।[TECHTARANGA-POST:6675]এবিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম মামলা দায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি ঢাকার কণ্ঠকে বলেন, মামলা দায়েরের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে জন্য একাধিক টিম কাজ করছে। তথ্য প্রযুক্তির যুগ তারা বুঝতে পেরে গা ঢাকা দিয়েছে।মামলার অপর আসামিরা হলে, মো. মেহেদী হাসান (২৪), মো. হাসান (২৪), স্বপন (২৫), শহিদ (৩৮), আকাশ (৩১), শাহিন (৩৩), নাঈম (২৭), মো. রবিন (২৯), শিবলু, মো. রিপন, রাকিব, সিয়াম, ইয়াছিন, আঃ আজিজ, সাজ্জাদ, নিশাদ, অনুপ (৩০) ও রমজান (৩৫)। এছাড়াও মামলায় আরও ২৫/৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশাল দীর্ঘদিন যাবৎ তেঘরিয়া স্ট্যান্ডে বিভিন্ন বাস কাউন্টারে কমিশনে নিয়ে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উল্লেখিত আসামিরা দীর্ঘদিন যাবৎ প্রতিনিয়ত এই কাউন্টারে এসে চাঁদা দাবী করে এবং চাঁদার টাকা জোর পূর্বকভাবে নিয়ে যায়। সর্বশেষ গত ৬ মে দুপুর অনুমান ১টায় আসামি রিফাত মোল্লার নেতৃত্বে ২ থেকে ১৭ নং আসামি সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫/৩০ জন বেআইনি জনতাবদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন তেঘরিয়া যাত্রী ছাউনিতে বাস কাউন্টারে এসে চাঁদা হিসাবে প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা দাবি করে।আরও বলা হয়, চাঁদার টাকা দেওয়া সম্ভব নয় মর্মে জানালে আসামিরা বাদীসহ অন্যান্যদের এলোপাথারীভাবে কিল, ঘুষি, লাথি মারতে থাকে। একপর্যায়ে রিফাত মোল্লার কোমর থেকে পিস্তল বের করে ফাঁকা গুলি ছুড়তে থাকে। এসময় অন্যান্য আসামিরা ককটেল বিস্ফোরন আতঙ্ক সৃষ্টি করে। অপরাপর আসামিরা তেঘরিয়া বাস কাউন্টারে ভাংচুর চালিয়ে এক লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। বাদীর ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামি রিফাত মোল্লার পিস্তল উঁচিয়ে এই ব্যাপারে মামলা মোকদ্দমা করলে হত্যা হুমকি দিয়ে চলে যায়। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩৮৫/৪২৭/৩৭৯/৫০৬ এবং বিস্ফোরক পদার্থ তৎসহ ৩/৬ আইনে করা হয়েছে। এদিকে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনে লুৎফর চেয়ারম্যানের ছেলে বিএনপির কর্মী রিফাত মোল্লাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে আওয়ামী লীগের কর্মী বিশালের নেতৃত্বে থানা ঘেরাও করে ঝাড়ু মিছিল করতে দেখা গেছে।উল্লেখ্য, গত বুধবার ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে ৪-৫টি বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছিলেন। এই ঘটনায় কমপক্ষে ৭-৮জন গুরুতর আহত হয়।