অনেকেই মনে করেন, শুধু অ্যালকোহল পান করলেই লিভারের ক্ষতি হয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত পানীয়ও দীর্ঘমেয়াদে লিভারের জন্য সমান ক্ষতিকর হতে পারে। বর্তমানে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এনএএফএলডি)-এ আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা কিছু জনপ্রিয় পানীয় ধীরে ধীরে লিভারে চর্বি জমিয়ে নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।১. চিনি মেশানো সফট ড্রিংকসগরমে তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই কোমল পানীয় পান করেন। কিন্তু এসব পানীয়ে থাকা অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ ও চিনি লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত সফট ড্রিংকস পান করলে ফ্যাটি লিভারের পাশাপাশি স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।২. প্যাকেটজাত ফলের রসপ্যাকেটজাত ফলের রসকে অনেকে স্বাস্থ্যকর মনে করলেও বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এতে থাকে অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম ফ্লেভার, রং ও সংরক্ষণকারী উপাদান। এতে তাজা ফলের মতো প্রয়োজনীয় আঁশ ও পুষ্টিগুণ পাওয়া যায় না। বরং নিয়মিত পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি এবং লিভারে চর্বি জমার আশঙ্কা তৈরি হয়।৩. এনার্জি ড্রিঙ্কসক্লান্তি দূর করতে জনপ্রিয় এনার্জি ড্রিঙ্কসে সাধারণত উচ্চমাত্রার চিনি, ক্যাফেইন ও বিভিন্ন উদ্দীপক উপাদান থাকে। অতিরিক্ত পান করলে লিভারের ওপর বিপাকীয় চাপ বাড়ে, যা প্রদাহ সৃষ্টি করে দীর্ঘমেয়াদে লিভারের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।লিভার সুস্থ রাখতে যা করবেনবিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধু অ্যালকোহল এড়িয়ে চললেই হবে না, বরং অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত পানীয় গ্রহণও কমাতে হবে। এর পরিবর্তে পর্যাপ্ত পানি, তাজা ফল, চিনি ছাড়া ঘরে তৈরি লেবুর শরবত, ডাবের পানি এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে লিভার সুস্থ রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়। পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা ও ওজন নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিতে হবে।চিকিৎসকদের ভাষ্য, লিভারের ক্ষতি অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই শুরু হয়। তাই প্রতিদিনের ছোট ছোট খাদ্যাভ্যাসই ভবিষ্যতে বড় ধরনের লিভার রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।