শীতকাল এলেই অনেক নারী অভিযোগ করেন—লেপ-কম্বলের ভেতরেও হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়। একই পরিবেশে থাকা পুরুষদের তুলনায় নারীদের শরীর কেন বেশি ঠান্ডা অনুভব করে—এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে মানবদেহের গঠন, হরমোন ও বিপাকক্রিয়ায়।স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, শীতের সময় নারীদের হাত-পায়ের ত্বকের তাপমাত্রা পুরুষদের তুলনায় গড়ে প্রায় ২.৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট কম থাকে। এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক কারণ।নারীদের বেশি ঠান্ডা লাগার প্রধান কারণগুলো১. বিপাকীয় হার কম হওয়াপুরুষদের শরীরে পেশির পরিমাণ বেশি থাকায় তাদের বেসাল মেটাবলিক রেট (BMR) নারীদের তুলনায় প্রায় ২০–২৫ শতাংশ বেশি। পেশি শরীরে তাপ উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখে। নারীদের পেশি কম হওয়ায় শরীর স্বাভাবিকভাবেই কম তাপ তৈরি করে।২. হরমোনজনিত প্রভাবনারীদের শরীরে থাকা ইস্ট্রোজেন হরমোন রক্তনালিকে সংকুচিত করতে পারে। এর ফলে হাত ও পায়ে রক্ত চলাচল কমে যায়। বিশেষ করে ঋতুচক্রের সময় হরমোনের ওঠানামার কারণে নারীরা ঠান্ডার প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়েন।৩. শরীরের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থাশীতের সময় মানবদেহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ—যেমন হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্ক—উষ্ণ রাখতে চায়। নারীদের শরীরে এই সুরক্ষা ব্যবস্থা তুলনামূলক বেশি সক্রিয় হয়। ফলে হাত-পা থেকে রক্ত সরিয়ে শরীরের কেন্দ্রে পাঠানো হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ভ্যাসোকনস্ট্রিকশন বলা হয়।৪. শরীরের চর্বির বিন্যাসনারীদের শরীরে চামড়ার নিচে থাকা সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট পুরুষদের তুলনায় বেশি থাকে। এই চর্বি ভেতরের অঙ্গগুলোকে উষ্ণ রাখলেও ত্বকের উপরিভাগে রক্ত চলাচল কমিয়ে দেয়। ফলে হাত-পা তুলনামূলক ঠান্ডা অনুভূত হয়।কখন ঠান্ডা লাগা চিন্তার কারণ হতে পারে?যদি হালকা ঠান্ডাতেই হাত-পা নীল হয়ে যায়, অবশ লাগে বা ঝিনঝিন করে, তাহলে এটি সাধারণ শীতজনিত সমস্যা নাও হতে পারে। এসব লক্ষণ রেনোডস ডিজিজ, রক্তস্বল্পতা কিংবা থাইরয়েড সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। এমন ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।শীতে শরীর উষ্ণ রাখার কার্যকর উপায়প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করুন, এতে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়আয়রন ও ভিটামিন বি-১২ সমৃদ্ধ খাবার খানহাত ও পায়ে কুসুম গরম তেল দিয়ে মালিশ করুনশীতের সময় উলের মোজা ও গ্লাভস ব্যবহার করুনশীতে নারীদের শরীর বেশি ঠান্ডা লাগা একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। তবে নিয়মিত যত্ন, সঠিক খাবার এবং সচেতন জীবনযাপনের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।