ঢাকার কণ্ঠ

ওজন কমাতে চান? প্রতিদিনের খাবারে রাখুন এই ৭টি জিনিস

উৎসব বা বিশেষ কোনো আয়োজন সামনে এলে অনেকেই শরীরের বাড়তি মেদ কমানোর পাশাপাশি ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে চান। তবে দ্রুত ওজন কমানোর জন্য না খেয়ে থাকা বা কঠোর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এতে উল্টো দুর্বলতা ও ত্বকের শুষ্কতা দেখা দিতে পারে। তাই পরিমাণ কমানোর চেয়ে পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।দিনের শুরুতে শসা ও লেবু মিশ্রিত পানি খাওয়া যেতে পারে। শসায় পানির পরিমাণ বেশি এবং ক্যালরি তুলনামূলক কম। আর লেবু ভিটামিন সি-এর একটি উৎস, যা শরীরে কোলাজেন তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। তবে এটি কোনো বিশেষ ‘মেদ ঝরানোর পানীয়’ নয়—সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবেই নেওয়া ভালো।সকালের খাবারে চিনি ছাড়া বা কম চিনি দেওয়া টক দই রাখা যেতে পারে। এতে প্রোটিন থাকে এবং কিছু ধরনের দইয়ে উপকারী জীবন্ত ব্যাকটেরিয়াও থাকতে পারে। প্রোটিন ও ঘনত্বের কারণে দই পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে, ফলে অপ্রয়োজনীয় নাশতা কমানোর ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। গ্রিন টিও পরিমিতভাবে খাদ্যতালিকায় রাখা যায়। এতে পলিফেনলসহ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তবে গ্রিন টি একা ওজন কমিয়ে দেয় না; ওজন নিয়ন্ত্রণে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।চিয়া সিড ও তিসির বীজেও রয়েছে আঁশ এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। খাবারের সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে এগুলো যোগ করলে আঁশের পরিমাণ বাড়ে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূত হতে পারে। তিসির বীজে উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও রয়েছে।সবজি হিসেবে টমেটো ও গাজর নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে। গাজরে বিটা-ক্যারোটিন এবং টমেটোতে লাইকোপেনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। সালাদ, স্যুপ বা রান্না করা খাবারের সঙ্গে এসব সবজি যোগ করলে কম ক্যালরিতে পুষ্টি পাওয়া সম্ভব।বিকেলের নাশতায় অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ভাজাপোড়ার পরিবর্তে পরিমিত পরিমাণে কাঠবাদাম বা আখরোট খাওয়া যেতে পারে। এসব বাদামে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তবে বাদামে ক্যালরিও বেশি হওয়ায় পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।তবে শুধু কয়েকটি নির্দিষ্ট খাবার খেলেই দ্রুত ওজন কমবে এমন ধারণা ঠিক নয়। ওজন নিয়ন্ত্রণে মোট খাদ্যগ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সামগ্রিক জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি পানীয় ও অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার কমিয়ে শাকসবজি, ফল, পূর্ণশস্য ও পর্যাপ্ত প্রোটিনের দিকে নজর দেওয়া ভালো। ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম এবং বৈচিত্র্যময় পুষ্টিকর খাবার গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত মেদ কমানোর আশায় না খেয়ে থাকার বদলে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই নিরাপদ ও টেকসই পদ্ধতি।

ওজন কমাতে চান? প্রতিদিনের খাবারে রাখুন এই ৭টি জিনিস