দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস আগাম জানতে এবং সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়াতে নির্মিত প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থিত স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পর্দা উন্মোচনের মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি উদ্বোধন করেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয় প্রকল্পটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং চীনের 'সেকেন্ড ইন্সটিটিউট অব ওশানোগ্রাফি'র যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত হয়েছে। এরমধ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬০ কোটি টাকার কারিগরি ও যান্ত্রিক সহায়তা দিচ্ছে।প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, বর্তমানে বিদেশি সংস্থার তথ্যের ওপর নির্ভর করায় পূর্বাভাস পেতে ২০ থেকে ৩০ ঘণ্টা সময় লাগে। এই গ্রাউন্ড স্টেশনটি চালু হলে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে উপকূলীয় এলাকার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।বঙ্গোপসাগরে উড়ন্ত একাধিক ওশান ও আর্থ অব্জার্ভেশন স্যাটেলাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম এই উপগ্রহ কেন্দ্র। যা ব্যবহার করে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবং মেঘের গতিবিধি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা আগেই ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা দেওয়া যাবে। এছাড়াও স্টেশনটি বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার উপযুক্ত অঞ্চল চিহ্নিত করতে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের লবণাক্ততা ও তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে সহায়তা করবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ মেরিন ডেটা হাবে রূপান্তর করার লক্ষ্যে 'এসজিএসএমআরএস ২০৩৫ মাস্টারপ্ল্যান' প্রণয়ন করা হচ্ছে [৬]। এছাড়া কক্সবাজারে একটি দ্বিতীয় ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।