য়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা দখলে নিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবারের এই অগ্রগতি তাদের লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির আরও কাছে নিয়ে গেছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর এটিকে হুথিদের সবচেয়ে বড় ভূখণ্ডগত সাফল্যগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। মোখা লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে। এই প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে বিবেচিত। ফলে মোখায় হুথিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হওয়ায় সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দিনের লড়াইয়ে হুথিরা ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে দ্রুত অগ্রসর হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা হোদেইদা ও তাইজের বেশ কিছু এলাকায় চাপ বাড়িয়েছে এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। দক্ষিণ হোদেইদার হোকখা ও আশপাশের এলাকা থেকে সরকারি বাহিনী পিছু হটে মোখা ও বাব আল-মান্দেবের কাছাকাছি প্রতিরক্ষা অবস্থান নেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। এদিকে সংঘাতের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীও পাল্টা বিমান হামলা চালাচ্ছে। হুথিদের দাবি অনুযায়ী, বুধবার ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় ৪০টির বেশি হামলা হয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার হিসাবে, সাম্প্রতিক লড়াইয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সংঘাতে নিহতের সংখ্যা নিয়েও বড় ধরনের হতাহতের খবর এসেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে গত সপ্তাহ থেকে ৫০০-এর বেশি মানুষ নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। নিহতদের বড় অংশই যোদ্ধা বলে জানা গেলেও সংঘাতের কারণে বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে। যাকার বা Zuqar দ্বীপ নিয়েও উত্তেজনা রয়েছে। দ্বীপটি হানিশ দ্বীপপুঞ্জের অংশ এবং বাব আল-মান্দেবের কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের পাশে অবস্থিত। তবে সর্বশেষ নির্ভরযোগ্য যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইয়েমেনি বাহিনী দাবি করেছিল হুথিদের চারটি বিস্ফোরক নৌকা দ্বীপটির কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেগুলো প্রতিহত করা হয়। তাই যাকার দ্বীপ ইতোমধ্যে হুথিদের দখলে—এ তথ্যকে এই মুহূর্তে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বলা যাচ্ছে না। মোখা ও পশ্চিম উপকূলের আরও এলাকা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে বাব আল-মান্দেবের ওপর তাদের সামরিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এই পরিস্থিতি শুধু ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকেই তীব্র করবে না, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন পথের নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।