যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত একটি হুমকিমূলক ভিডিও নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে এবং সুরক্ষাধীন ব্যক্তিদের জন্য সম্ভাব্য যেকোনো হুমকিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় তিন মিনিটের ভিডিওটি ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচার করা হয়। এতে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হুমকিমূলক বক্তব্যের পাশাপাশি নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারসহ তিনি প্রকাশ্যে যেসব স্থানে অবস্থান করেন বলে জানা যায়, সেসব জায়গার গ্রাফিক দেখানো হয়েছে। ভিডিওতে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কেও বিভিন্ন দাবি করা হয়। এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ভিডিওতে ব্যারন ট্রাম্পকে ঘিরে ১ কোটি ডলারের পুরস্কারের দাবিও করা হয়েছে। তবে এই অর্থের বিষয়ে কোনো স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে এটিকে আপাতত ভিডিওতে করা একটি দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং জানিয়েছেন, সংস্থাটি ভিডিওটি সম্পর্কে অবগত। সুরক্ষাধীন ব্যক্তিদের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত যেকোনো বিষয়ই তারা তদন্ত করে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য বা সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে না বলেও জানান তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যারনকে প্রকাশ্যে লক্ষ্য করে এমন হুমকি এবারই প্রথম বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরান-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে বিভিন্ন হুমকিমূলক প্রচার দেখা গেছে। সিক্রেট সার্ভিসের তদন্তের পাশাপাশি মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, ভিডিওটি ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইরান থেকে প্রচারিত ধারাবাহিক হুমকিমূলক কনটেন্টের অংশ হতে পারে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্রাম্প পরিবারের সুরক্ষা ব্যবস্থাও বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত পর্যালোচনা ও সমন্বয় করা হয়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই নতুন এই ভিডিও সামনে এলো। ফলে ট্রাম্প পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ভিডিওটি কোনো বাস্তব হামলার পরিকল্পনার প্রমাণ কি না, সে বিষয়ে এখনো মার্কিন কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।