ঢাকার কণ্ঠ

নতুন বিতর্কে হোটেল আল্-গণি কর্তৃপক্ষ, এখনো নিখোঁজ সেই কিশোর!

কক্সবাজারে খাবার হোটেল আল্-গণি রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে ঘিরে আবারও আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রতিষ্ঠানটির কলাতলী শাখার কর্মচারী সিদ্দিক (১৭) নামের এক কিশোর সমুদ্র সৈকতের সি-গাল পয়েন্টে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। নিখোঁজ সিদ্দিক টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি ব্লক-৯ এর বাসিন্দা বলে জানা যায়। এদিকে বিচ কর্মী ইনচার্জ মাহাবুব উদ্দিন জানান,নিখোঁজ কিশোর সিদ্দিক এর আজ (সোমবার)ও কোথাও খোঁজ মেলেনি। তবে তাঁরা সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে খোজাখুজি করছে তাঁরা। সূত্রে আরও জানা যায়, ভোরে আল্-গণি রেস্টুরেন্টের তিন কর্মচারী সি-গাল পয়েন্ট এলাকায় সমুদ্রে গোসল করতে নামেন। রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে স্রোতের টানে সিদ্দিক নিখোঁজ হন। পরে লাইফগার্ড কর্মীরা তাকে উদ্ধারে অনুসন্ধান শুরু করেন।এদিকে সচেতন মহল এর অভিযোগ, পর্যটননগরী কক্সবাজারে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে পরিচিত খাবার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আল-গণি রেস্টুরেন্ট অন্যতম। কিন্তু বাহ্যিক চাকচিক্য ও ব্যস্ততার আড়ালে প্রতিষ্ঠানটির খাদ্যমান, নিরাপত্তা,পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম উৎকন্ঠা। এছাড়া এধরণের  প্রতিষ্ঠান কিভাবে রোহিঙ্গা কিশোরদের চাকুরি দিতে পারে, যা রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকান্ড। সেই বিষয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। স্হানীয়দের দাবি, খাবারের অর্ডার দেওয়ার আগে অনেক সময় স্পষ্টভাবে মূল্য জানানো হয় না। খাবার পরিবেশনের পর বিল পরিশোধের সময় অতিরিক্ত দাম দেখে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। খাবারের মূল্য তালিকা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করা এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন।ভোক্তাদের স্বার্থে হোটেলটির খাবারের মূল্য, মূল্যতালিকা ও বিলের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।এদিকে এর আগে চলতি বছরের ১৬ মে আল্-গণি রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে অর্ধশতাধিক পর্যটক অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তাদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যৌথ অভিযান চালায়ি প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে সর্তক ও অর্থদণ্ড দেয়। তবে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিল, তাদের বারবিকিউ খেয়ে পর্যটকরা অসুস্থ হননি।পরপর এসব ঘটনায় পর্যটননির্ভর কক্সবাজারে রেস্তোরাঁ ও খাবার হোটেলগুলোর নিরাপত্তা, কর্মীদের তদারকি এবং খাদ্যমান নিশ্চিতকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে সর্বশেষ কর্মচারী নিখোঁজের ঘটনায় আল্-গণি কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এর নিয়মিত নজরদারি জরুরি।এদিকে কিছু দিন আগে আল্ গণির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে খুরুশকূল এলাকায় হায়দার নামে এক ব্যক্তির জায়গা দখল করার অভিযোগ ও রয়েছে। মোটা অংকের বিনিময়ে  এই কাজে ব্যবহার করেছে হোটেল এর কর্মচারী ও একটি ভূমিদস্যু চক্র।এ বিষয়ে জানতে, হোটেল আল্ গণির কলাতলির শাখার স্বত্বাধিকারী মো: রুবেল এর দু'টো নম্বরে ফোন করলে, ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

নতুন বিতর্কে হোটেল আল্-গণি কর্তৃপক্ষ, এখনো নিখোঁজ সেই কিশোর!