ঢাকার কণ্ঠ

ক্যাম্পাস

কেরানীগঞ্জে বাঘৈর হাইস্কুলের এসএসসি ফলে ধস, পাসের হার ৪৬.৫৩ শতাংশ

ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাঘৈর হাইস্কুলে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়টি থেকে ১০১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৪৭ জন। এতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক ৫৩ শতাংশে। এ বছর কেরানীগঞ্জের বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পাসের হারের দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা বিদ্যালয়গুলোর একটি।এবার বাঘৈর হাইস্কুল থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০১ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৪ জনই অকৃতকার্য হয়েছে। এছাড়া কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ (এ+) অর্জন করতে পারেনি। এমন ফলাফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পরীক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং শিক্ষকদের একাডেমিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।অভিভাবকদের দাবি, এবারের ফলাফল থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। শিক্ষার্থীদের দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করে অতিরিক্ত ক্লাস, নিয়মিত পরীক্ষা গ্রহণ, শিক্ষক-অভিভাবক সমন্বয় এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।স্থানীয় শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একটি বিদ্যালয়ের ফলাফলকে শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। এর সঙ্গে বিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকদের উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মূল্যায়ন, অভিভাবকদের ভূমিকা এবং বিদ্যালয় পরিচালনার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাও জড়িত। তাই বাঘৈর হাইস্কুলের এবারের ফলাফল পর্যালোচনা করে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছরও বিদ্যালয়টি আশানুরূপ ফলাফল অর্জন করতে পারেনি। পরপর দুই বছর ফলাফল খারাপ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আরও গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।১০১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৪৭ জন পাস এবং কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ না পাওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ও ফলাফল নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এ বিষয়ে বাঘৈর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল মনসুর আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।তবে, কেরানীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, “যেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি, সেগুলোর কারণ খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও তদারকির মাধ্যমে আগামী বছর ফলাফল উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

কেরানীগঞ্জে বাঘৈর হাইস্কুলের এসএসসি ফলে ধস, পাসের হার ৪৬.৫৩ শতাংশ