ঢাকার কণ্ঠ

ফ্রান্সে ফের উত্তাল রাজপথ, একদিনেই গ্রেপ্তার ১ হাজার ৩১৪ জন

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা ও সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষের জেরে আবারও দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। দিনের বেশির ভাগ সময় বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও শেষ দিকে প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।রোববার (২৫ অক্টোবর) ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, শনিবারের বিক্ষোভে মোট ১ হাজার ৩১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘর্ষে ৫৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ। তবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। প্যারিসে বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। অন্যদিকে, কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করেন এবং কয়েকটি স্থানে ব্যারিকেড তৈরি করেন।রাজধানী প্যারিসের পাশাপাশি মার্সেই, বোর্দো ও লিওঁ শহরেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মার্সেইয়ে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। বোর্দোতে কয়েকটি স্থানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। নিষিদ্ধ এলাকায় জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লিওঁতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ।সংঘর্ষে কয়েকজন বিক্ষোভকারীও গুরুতর আহত হয়েছেন। তুলুজে ২০ বছর বয়সী এক তরুণের হাতে বিস্ফোরণজনিত আঘাতের খবর জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ক্লেরমঁ-ফেরাঁ শহরেও একজন গুরুতর আহত হন। এসব ঘটনার বিষয়ে তদন্তের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।এর আগে ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল। সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম, শিক্ষা খাতের সমস্যা ও সরকারি সেবা নিয়ে মানুষের অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে।বিক্ষোভকারী ও শ্রমিক সংগঠনগুলো আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩১ অক্টোবর আরও বিক্ষোভ এবং ৫ নভেম্বর দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো।

ফ্রান্সে ফের উত্তাল রাজপথ, একদিনেই গ্রেপ্তার ১ হাজার ৩১৪ জন