পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই চীনা নাগরিকের বাসায় ডাকাতির অভিযোগে চার পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে লুট হওয়া ২০ লাখ পাকিস্তানি রুপি উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। খবর ডন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ডেইলি পাকিস্তান, এএজে নিউজ ও মিনিট মিরর-এর।পুলিশের বরাতে ডন জানায়, গত ১৮ অক্টোবর ইসলামাবাদের এফ-৭/১ এলাকার একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার চার পুলিশ সদস্য রাজধানী পুলিশের বিভিন্ন জোনে কর্মরত ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে আরও একজন সহযোগী ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।যেভাবে ঘটেছিল ডাকাতিমামলার বিবরণ অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি বাড়ির কর্মচারীদের থাকার জায়গায় প্রবেশ করেন। তিনি দিনের পালায় দায়িত্ব পালন করা এক নিরাপত্তারক্ষী ও এক চালককে ঘুম থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। সেখানে পুলিশের ঘূর্ণায়মান বাতিযুক্ত একটি গাড়ি অপেক্ষা করছিল। গাড়িতে চারজন সশস্ত্র ব্যক্তি ছিলেন, যাঁদের মধ্যে তিনজনের পরনে পুলিশের পোশাক ছিল।পরে তাঁরা নিরাপত্তারক্ষী ও চালককে গাড়িসহ বাড়ির ভেতরে নিয়ে যান। একপর্যায়ে জানালা দিয়ে মূল ভবনে প্রবেশ করে দুই চীনা নাগরিককে জিম্মি করেন এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা দুই গৃহকর্মীকেও বসার ঘরে আটকে রাখেন। এ সময় নগদ ২০ লাখ পাকিস্তানি রুপি ও প্রায় ১৫ হাজার রুপি মূল্যের একটি মুঠোফোন লুট করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করেন। পরে অভিযান চালিয়ে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাড়ির এক নিরাপত্তারক্ষী অন্য এক রক্ষীর বিরুদ্ধে ডাকাতদের সহযোগিতা করার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বলেও মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্টের পর থেকে ইসলামাবাদে চীনা নাগরিকদের বাসায় ডাকাতির এটি চতুর্থ ঘটনা। এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর জি-১০/৪ এলাকায় দুই চীনা নাগরিকের বাসায় ডাকাতির ঘটনায় তিন কর্মরত পুলিশ সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় প্রায় ৮০ লাখ পাকিস্তানি রুপির অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুটের অভিযোগ ওঠে। তবে সেটি বর্তমান ঘটনার থেকে আলাদা মামলা।পুলিশ জানিয়েছে, সর্বশেষ ঘটনায় প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা এবং অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় রাজধানীতে বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন।