ঢাকার কণ্ঠ

ডিভি লটারির যোগ্য নয় বাংলাদেশ! তাহলে কি এবারও স্বপ্নভঙ্গ?

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি চালুর বিষয়ে ফেডারেল আদালতের নির্দেশের পরও বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। বাংলাদেশ ২০১২ সাল থেকে এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অযোগ্য দেশের তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে আদালতের নির্দেশ স্থগিত চেয়ে আপিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন, ফলে নিবন্ধন শুরুর সময়সূচিও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।গত ১৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরকে ডিভি-২০২৭ লটারির নিবন্ধন চালুর নির্দেশ দেন। সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ও নিয়ম প্রকাশ এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করার কথা। নিবন্ধন কার্যক্রম অন্তত ৩০ দিন চালু রাখার নির্দেশও রয়েছে।তবে ২১ অক্টোবর ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের নির্দেশ স্থগিত চেয়ে আপিল করেছে। এ আবেদন মঞ্জুর হলে নিবন্ধন শুরুর প্রক্রিয়া আবারও বিলম্বিত হতে পারে। আপিল করলেই অবশ্য আদালতের আগের নির্দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না।কেন ডিভি লটারির অযোগ্য বাংলাদেশ?ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ ডিভি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অযোগ্য। ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি এ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করায় দেশটি অযোগ্য দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ডিভি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে যেসব দেশ থেকে তুলনামূলক কমসংখ্যক মানুষ অভিবাসন করেন, সেসব দেশের নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা বরাদ্দের বিধান রয়েছে। তবে লটারিতে নির্বাচিত হওয়া মানেই গ্রিন কার্ড পাওয়া নিশ্চিত নয়; আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও যাচাইপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।বাংলাদেশিদের কি কোনো সুযোগ আছে?বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে ডিভি-২০২৭-এর আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ও যোগ্য দেশের তালিকার ওপর। সাধারণ নিয়মে আবেদনকারীর জন্মদেশের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারিত হয়। তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কোনো কোনো আবেদনকারী স্বামী বা স্ত্রীর জন্মদেশ কিংবা মা-বাবার জন্মদেশের ভিত্তিতে যোগ্য হতে পারেন।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিবন্ধনের চূড়ান্ত নিয়ম ও যোগ্য দেশের তালিকা প্রকাশ না করা পর্যন্ত বাংলাদেশিদের আবেদনের সুযোগ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ স্থগিতের আবেদনেও কী সিদ্ধান্ত আসে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

ডিভি লটারির যোগ্য নয় বাংলাদেশ! তাহলে কি এবারও স্বপ্নভঙ্গ?