সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে সরকার ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং এতে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টিকে বাংলাদেশ ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখছে। হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় ভূমিকা রেখে আসছে। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।তাঁর ভাষ্য, বিশ্বে জাতিসংঘের কাঠামোর অধীনে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ যদি ভূমিকা রাখতে পারে, তাহলে মুসলিম বিশ্বের সংকটের সময়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা স্বাভাবিক।মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বা কূটনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, ‘বাঁচার আগে মরার চিন্তা করলে তো লাভ নেই।’ তিনি বলেন, বিশ্ব রাজনীতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই কোনো একটি নির্দিষ্ট ব্লকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সমন্বিত ও নমনীয় পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের যেকোনো অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে বাংলাদেশ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ গত কয়েক দিন ধরেই ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়ে আসছে। ২৪ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে। এরপর ২৭ আগস্ট সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, চুক্তিভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশকে যুক্ত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলে সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। এদিকে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে ভারতও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে। গত কয়েক দিনে এ নিয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যও প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে চীনের সঙ্গে প্রস্তাবিত ‘টু প্লাস টু’ কৌশলগত সংলাপ নিয়েও কথা বলেন হুমায়ুন কবির। পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা পর্যায়ের এই সংলাপকে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত সহযোগিতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে এর দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।