ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ০২:৫৫ মিনিট

মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রী, পুলিশের তদন্ত শুরু

মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রী, পুলিশের তদন্ত শুরু

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ ঘটনায় আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ডিবিপ্রধান জানান, সংশ্লিষ্ট উপপুলিশ কমিশনারকে ঘটনাটি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনের ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে একজন প্রতিমন্ত্রী পুলিশের মতো দায়িত্ব পালন করতে পারেন কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করেননি তিনি।

এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে তাঁকে গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নিতে দেখা যায়। ভিডিওতে কয়েকজনকে ধাওয়া করার দৃশ্যও ছিল। পরে ওই অভিযানে ছয়জনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয় বলে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ মাদক কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার ইশরাক হোসেনের প্রেস কর্মকর্তার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনাটির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। সেখানে প্রতিমন্ত্রীর দাবি, নিরাপত্তাঝুঁকি ও হামলার আশঙ্কার কারণে তিনি এবং তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার জন্য অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। তাঁর দাবি, আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি ও সহায়তায় অভিযান চালানো হয়। এগুলো প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্য; এ বিষয়ে পুলিশের পর্যালোচনা এখনো সম্পন্ন হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অস্থায়ী মাদক বিক্রির আস্তানা উচ্ছেদ এবং মাদকজাতীয় পদার্থসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। ছয়জনকে আটক করে আলামতসহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তবে জব্দ করা পদার্থের পরীক্ষার ফল এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

ইশরাক হোসেন তাঁর বক্তব্যে ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন। মাদক কারবারে যে দলের লোকই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনায় আইন লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, এখন সেই বিষয়টি পুলিশের পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।

বিষয় : প্রতিমন্ত্রী অস্ত্র ডিএমপি ইশরাক

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রী, পুলিশের তদন্ত শুরু

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ ঘটনায় আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ডিবিপ্রধান জানান, সংশ্লিষ্ট উপপুলিশ কমিশনারকে ঘটনাটি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনের ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে একজন প্রতিমন্ত্রী পুলিশের মতো দায়িত্ব পালন করতে পারেন কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করেননি তিনি।

এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে তাঁকে গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নিতে দেখা যায়। ভিডিওতে কয়েকজনকে ধাওয়া করার দৃশ্যও ছিল। পরে ওই অভিযানে ছয়জনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয় বলে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ মাদক কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার ইশরাক হোসেনের প্রেস কর্মকর্তার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনাটির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। সেখানে প্রতিমন্ত্রীর দাবি, নিরাপত্তাঝুঁকি ও হামলার আশঙ্কার কারণে তিনি এবং তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার জন্য অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। তাঁর দাবি, আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি ও সহায়তায় অভিযান চালানো হয়। এগুলো প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্য; এ বিষয়ে পুলিশের পর্যালোচনা এখনো সম্পন্ন হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অস্থায়ী মাদক বিক্রির আস্তানা উচ্ছেদ এবং মাদকজাতীয় পদার্থসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। ছয়জনকে আটক করে আলামতসহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তবে জব্দ করা পদার্থের পরীক্ষার ফল এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

ইশরাক হোসেন তাঁর বক্তব্যে ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন। মাদক কারবারে যে দলের লোকই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনায় আইন লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, এখন সেই বিষয়টি পুলিশের পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত