মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের (ফিফা) সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ভুটান সফর শেষে দোহাগামী পথে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আবারও ঢাকায় আসেন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার এই প্রধান। স্বল্প সময়ের এই যাত্রাবিরতিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেশের ফুটবল উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিমের মতে, ফিফা সভাপতির এমন ঘন ঘন ঢাকায় আসা বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য ইতিবাচক ঘটনা। তাঁর ভাষ্য, বিশ্বের ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল সংস্থার প্রধান হিসেবে ইনফান্তিনোর পক্ষে সব দেশ সফর করা সম্ভব নয়। সে বিবেচনায় অল্প সময়ের ব্যবধানে দুবার তাঁর সান্নিধ্য পাওয়া বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।মঙ্গলবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইনফান্তিনো পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম, সাব্বির আহমেদ আরেফসহ ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তাঁদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কথাবার্তা হয়। এ সময় ফিফা সভাপতিকে বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের নতুন হোম জার্সিও উপহার দেওয়া হয়। জার্সিতে তাঁর পছন্দের ৯ নম্বর থাকায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন বলে জানান ফাহাদ করিম।তবে এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা। ফাহাদ করিম জানান, দেশের ঘরোয়া লিগ ও ফুটবলের কাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে বাফুফের কার্যক্রম সম্পর্কে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইনফান্তিনো। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় ফুটবলের বিকাশে আঞ্চলিক পর্যায়ে ক্লাবভিত্তিক টুর্নামেন্ট বা কর্মসূচি আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।ফাহাদ করিমের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ক্লাবগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা গেলে আঞ্চলিক ফুটবলের মান বাড়তে পারে। পাশাপাশি ক্লাবগুলোর অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিরও সুযোগ তৈরি হবে।এর আগে ১৮ অক্টোবর মরক্কো থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেন ইনফান্তিনো। সেদিন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও ফেডারেশনের অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। সেখানে বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো, তৃণমূল পর্যায়ে খেলাটির প্রসার এবং ফিফার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।বাফুফে মনে করছে, ফিফার সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখা এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আরও সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ইনফান্তিনোর এই দুই যাত্রাবিরতিকে আনুষ্ঠানিক বাংলাদেশ সফর বলা যাচ্ছে না; বরং যাত্রাপথে সংক্ষিপ্ত অবস্থানের সময় ফুটবল নিয়ে আলোচনা হয়েছে।বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য এখন বড় প্রশ্ন হলো, এই যোগাযোগকে কতটা বাস্তব উন্নয়নে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে। ঘরোয়া প্রতিযোগিতার মান বাড়ানো, আধুনিক প্রশিক্ষণ অবকাঠামো তৈরি, তৃণমূল পর্যায়ে খেলোয়াড় গড়ে তোলা এবং আঞ্চলিক ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে ফিফার সঙ্গে আলোচনার সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।ফাহাদ করিমের বিশ্বাস, বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্ব এবং সরকারের সহযোগিতায় দেশের ফুটবল উন্নয়নে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, ইনফান্তিনোর এই সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে আলোচনা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।