ঢাকার কণ্ঠ
আপডেট : বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ । ১১:৪৪ মিনিট

কেরানীগঞ্জে অনলাইন ক্যাসিনোতে আসক্ত হয়ে সর্বশান্ত বহুপরিবার!

কেরানীগঞ্জে অনলাইন ক্যাসিনোতে আসক্ত হয়ে সর্বশান্ত বহুপরিবার!

কেরানীগঞ্জে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির স্মার্টফোনে অনলাইন ক্যাসিনো (জুয়া) আসক্ত হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে বহু পরিবার। সর্বনাশা এই খেলায় দিনমজুর, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, পেশাজীবীসহ ছাত্র-যুবকেরা আসক্ত হয়ে বিপথগামী ও নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। “কোটিপতি বাবার সব সম্পদ হারিয়ে পথে বসেছে সন্তান”—এমন ভয়ংকর তথ্য এখন কেরানীগঞ্জজুড়ে শোনা যাচ্ছে।

অনেকের ধারণা, ‘গেম খেলা’র আড়ালে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র এই জুয়ার ফাঁদ তৈরি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত এই গেমিং ব্যবস্থায় সামান্য লাভের প্রলোভনে লাখ লাখ টাকা হারানো যেন অবধারিত।

জানা গেছে, অ্যান্ড্রয়েড ফোনের বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে গেমিং প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে শুরু হয় এই জুয়া খেলা। কিছু অ্যাপে অল্প সময়েই বড় অংকের টাকা হারানোর ঘটনা ঘটছে। প্রতারণার শিকার এক ভুক্তভোগী জানান, “এটা এমন এক আসক্তি—যেখান থেকে ফেরার পথ নেই।” পরিবার, সন্তান, দাম্পত্য—কোনো কিছুর প্রতিই মনোযোগ থাকে না।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যাবসায়ী এলাকায় একসময়ের প্রতিষ্ঠিত একাধিক ব্যবসায়ী দ্রুত লাভের আশায় বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। পূর্বে বিভিন্ন প্রতারণামূলক বিনিয়োগ ও হুন্ডি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এখন নতুন করে অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ছেন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মধ্যবিত্ত পরিবারের এক হোমিও চিকিৎসকও এই জুয়ায় আসক্ত হয়ে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি ও উপার্জিত অর্থ হারিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চিকিৎসক বলেন, “কত টাকা হারিয়েছি, তা নিজেও জানি না। সংসারে অশান্তি বেড়েছে, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার উপক্রম।”

একসময়ের এমএলএম বা অনলাইন ব্যবসার নামে প্রতারণার ধারাবাহিকতায় এই অনলাইন গেমিং এখন নতুন রূপে সামনে এসেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এর আগেও মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের বিপথে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এই আসক্তিতে দিনমজুর, রিকশাচালক, হোটেলকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষ জড়িয়ে পড়ছেন। কর্মচঞ্চল যুবকেরা হয়ে পড়ছেন কর্মবিমুখ। আয় কমে যাওয়ায় পরিবারে বাড়ছে অশান্তি, কলহ ও বিচ্ছেদের ঘটনা।

ভুক্তভোগী পরিবারের নারী সদস্যদের অভিযোগ, উপার্জনের টাকা দিয়ে মোবাইলে ডাটা কিনে সারাদিন গেম খেলায় ব্যস্ত থাকে অনেকেই। ফলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

ব্যবসায়ীদের অনেকেই তাদের বিনিয়োগের হিসাব মিলাতে পারছেন না। দোকানের পণ্য কমে যাচ্ছে, বেতন-বিল বকেয়া বাড়ছে, ঋণের বোঝা বাড়ছে। পরে জানা যাচ্ছে—সব টাকা চলে গেছে অনলাইন জুয়ায়।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ ছড়ালেও কার্যকর কোনো প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।

সচেতন মহলের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অনলাইন ক্যাসিনো জুয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ার পাশাপাশি সমাজে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিষয় : অনলাইন ক্যাসিনো

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কেরানীগঞ্জে অনলাইন ক্যাসিনোতে আসক্ত হয়ে সর্বশান্ত বহুপরিবার!

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

কেরানীগঞ্জে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির স্মার্টফোনে অনলাইন ক্যাসিনো (জুয়া) আসক্ত হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে বহু পরিবার। সর্বনাশা এই খেলায় দিনমজুর, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, পেশাজীবীসহ ছাত্র-যুবকেরা আসক্ত হয়ে বিপথগামী ও নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। “কোটিপতি বাবার সব সম্পদ হারিয়ে পথে বসেছে সন্তান”—এমন ভয়ংকর তথ্য এখন কেরানীগঞ্জজুড়ে শোনা যাচ্ছে।

অনেকের ধারণা, ‘গেম খেলা’র আড়ালে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র এই জুয়ার ফাঁদ তৈরি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত এই গেমিং ব্যবস্থায় সামান্য লাভের প্রলোভনে লাখ লাখ টাকা হারানো যেন অবধারিত।

জানা গেছে, অ্যান্ড্রয়েড ফোনের বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে গেমিং প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে শুরু হয় এই জুয়া খেলা। কিছু অ্যাপে অল্প সময়েই বড় অংকের টাকা হারানোর ঘটনা ঘটছে। প্রতারণার শিকার এক ভুক্তভোগী জানান, “এটা এমন এক আসক্তি—যেখান থেকে ফেরার পথ নেই।” পরিবার, সন্তান, দাম্পত্য—কোনো কিছুর প্রতিই মনোযোগ থাকে না।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যাবসায়ী এলাকায় একসময়ের প্রতিষ্ঠিত একাধিক ব্যবসায়ী দ্রুত লাভের আশায় বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। পূর্বে বিভিন্ন প্রতারণামূলক বিনিয়োগ ও হুন্ডি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এখন নতুন করে অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ছেন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মধ্যবিত্ত পরিবারের এক হোমিও চিকিৎসকও এই জুয়ায় আসক্ত হয়ে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি ও উপার্জিত অর্থ হারিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চিকিৎসক বলেন, “কত টাকা হারিয়েছি, তা নিজেও জানি না। সংসারে অশান্তি বেড়েছে, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার উপক্রম।”

একসময়ের এমএলএম বা অনলাইন ব্যবসার নামে প্রতারণার ধারাবাহিকতায় এই অনলাইন গেমিং এখন নতুন রূপে সামনে এসেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এর আগেও মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের বিপথে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এই আসক্তিতে দিনমজুর, রিকশাচালক, হোটেলকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষ জড়িয়ে পড়ছেন। কর্মচঞ্চল যুবকেরা হয়ে পড়ছেন কর্মবিমুখ। আয় কমে যাওয়ায় পরিবারে বাড়ছে অশান্তি, কলহ ও বিচ্ছেদের ঘটনা।

ভুক্তভোগী পরিবারের নারী সদস্যদের অভিযোগ, উপার্জনের টাকা দিয়ে মোবাইলে ডাটা কিনে সারাদিন গেম খেলায় ব্যস্ত থাকে অনেকেই। ফলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

ব্যবসায়ীদের অনেকেই তাদের বিনিয়োগের হিসাব মিলাতে পারছেন না। দোকানের পণ্য কমে যাচ্ছে, বেতন-বিল বকেয়া বাড়ছে, ঋণের বোঝা বাড়ছে। পরে জানা যাচ্ছে—সব টাকা চলে গেছে অনলাইন জুয়ায়।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ ছড়ালেও কার্যকর কোনো প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।

সচেতন মহলের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অনলাইন ক্যাসিনো জুয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ার পাশাপাশি সমাজে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত