দৈনিক জনকণ্ঠে গণছাঁটাইয়ের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেড় শতাধিক সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছাঁটাইপত্র প্রত্যাহার এবং বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানিয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে প্রতিষ্ঠানটিতে গণ-ছাঁটাই ও হয়রানির প্রতিবাদে দৈনিক জনকণ্ঠ সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে এ দাবি জানান ডিইউজের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম।
জনকণ্ঠের মালিকদের ফ্যাসিবাদের দোসর উল্লেখ তিনি বলেন, পত্রিকাটির ওপর এখনও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা ঘাপটি মেরে বসে আছে। জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষকে তিনি সাংবাদিক নেত্রীবৃন্দের সাথে আলোচনার মাধ্যমে অনতিবিলম্বে চলমান সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান। যে-কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দায় কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন দিদারুল আলম।
অবস্থান কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সিনিয়র সহসভাপতি রফিক মুহাম্মদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন, দৈনিক জনকণ্ঠের প্লানিং অ্যাডভাইজার জয়নাল আবদীন শিশির, ভারপ্রাপ্ত বার্তা সম্পাদক ও ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুনির জারিফ, বিশেষ প্রতিনিধি ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ জসিম প্রমুখ।
অবস্থান কর্মসূচি শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল আশপাশের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জনকণ্ঠ ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারীদের শ্রম-ঘামের ওপর ভর করে গত ৩৪ বছরে জনকণ্ঠের মালিকপক্ষ হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়েছে উল্লেখ করে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা থেকে টাকা নিয়ে তারা এদেশে ফ্যাসিবাদি বয়ান তৈরি করেছে। এখনও পতিত আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পাঁয়তারা করছে। সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে এমন ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ষড়যন্ত্রকারীদের কূমন্ত্রণায় প্ররোচিত হয়ে দৈনিক জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষ আইনের তোয়াক্কা না করে প্রতিষ্ঠান লে-অফ করা ছাড়াই দেড় শতাধিক সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দিয়েছেন। একেকটি বিভাগের শতভাগ কর্মীকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দিয়েছেন। ছাঁটাইকৃতদের ৯০ শতাংশই দীর্ঘ ৩০ থেকে ৩৪ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত। অথচ তাদেরকে ৫ আগস্ট পরবর্তী দখলবাজ এবং মব সৃষ্টিকারী হিসেবে অভিহিত করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং ছাঁটাইয়ের চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঠুনকো অযুহাত তৈরি করে অবশিষ্ট সাংবাদিকদেরও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ছাঁটাই ও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রতাহার এবং পত্রিকা চালু করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে কর্মসূচি থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিষয় : ডিইউজে জনকণ্ঠ সাংবাদিক ছাঁটাই

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬
দৈনিক জনকণ্ঠে গণছাঁটাইয়ের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেড় শতাধিক সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছাঁটাইপত্র প্রত্যাহার এবং বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানিয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে প্রতিষ্ঠানটিতে গণ-ছাঁটাই ও হয়রানির প্রতিবাদে দৈনিক জনকণ্ঠ সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে এ দাবি জানান ডিইউজের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম।
জনকণ্ঠের মালিকদের ফ্যাসিবাদের দোসর উল্লেখ তিনি বলেন, পত্রিকাটির ওপর এখনও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা ঘাপটি মেরে বসে আছে। জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষকে তিনি সাংবাদিক নেত্রীবৃন্দের সাথে আলোচনার মাধ্যমে অনতিবিলম্বে চলমান সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান। যে-কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দায় কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন দিদারুল আলম।
অবস্থান কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সিনিয়র সহসভাপতি রফিক মুহাম্মদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন, দৈনিক জনকণ্ঠের প্লানিং অ্যাডভাইজার জয়নাল আবদীন শিশির, ভারপ্রাপ্ত বার্তা সম্পাদক ও ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুনির জারিফ, বিশেষ প্রতিনিধি ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ জসিম প্রমুখ।
অবস্থান কর্মসূচি শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল আশপাশের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জনকণ্ঠ ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারীদের শ্রম-ঘামের ওপর ভর করে গত ৩৪ বছরে জনকণ্ঠের মালিকপক্ষ হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়েছে উল্লেখ করে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা থেকে টাকা নিয়ে তারা এদেশে ফ্যাসিবাদি বয়ান তৈরি করেছে। এখনও পতিত আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পাঁয়তারা করছে। সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে এমন ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ষড়যন্ত্রকারীদের কূমন্ত্রণায় প্ররোচিত হয়ে দৈনিক জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষ আইনের তোয়াক্কা না করে প্রতিষ্ঠান লে-অফ করা ছাড়াই দেড় শতাধিক সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দিয়েছেন। একেকটি বিভাগের শতভাগ কর্মীকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দিয়েছেন। ছাঁটাইকৃতদের ৯০ শতাংশই দীর্ঘ ৩০ থেকে ৩৪ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত। অথচ তাদেরকে ৫ আগস্ট পরবর্তী দখলবাজ এবং মব সৃষ্টিকারী হিসেবে অভিহিত করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং ছাঁটাইয়ের চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঠুনকো অযুহাত তৈরি করে অবশিষ্ট সাংবাদিকদেরও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ছাঁটাই ও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রতাহার এবং পত্রিকা চালু করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে কর্মসূচি থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন