ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬। ০৫:৫৬ মিনিট

এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা

এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদারে পাঁচ বছর মেয়াদি নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতাধীন এনহ্যান্সড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক (ইআইএফ)-এর তৃতীয় পর্যায়ের জন্য প্রণীত কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট (সিপিডি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রোববার (১৯ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সিপিডি ভ্যালিডেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। একদিকে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি, অন্যদিকে রপ্তানি খাতে নন-ট্যারিফ বাধা, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

বাণিজ্য সচিব বলেন, ইআইএফ’র পূর্ববর্তী পর্যায়গুলোর সুপারিশ নতুন কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টে গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে ১২টি কার্যক্রম রাখা হয়েছে, যা বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, শুধু নীতিমালা বা গবেষণা প্রতিবেদন প্রণয়ন নয়, বরং সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নই মূল বিষয়। সংস্কারের সুফল মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে।

আতাউর রহমান খান বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, উদারীকরণ, আইন ও বিধিমালার সংস্কার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কর্মশালায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন বলেন, ডব্লিউটিওর ইআইএফ কর্মসূচির মাধ্যমে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দেওয়া হয়। এ কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইডেনসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ অর্থায়ন করে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ইআইএফ’র আওতায় ইতোমধ্যে দু’টি পর্যায়ের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। প্রথম পর্যায় ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল এবং দ্বিতীয় পর্যায় ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এখন তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হবে এবং এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ অর্থায়ন সহায়তা পাবে। চলতি বছর থেকেই পাঁচ বছর মেয়াদি এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও ইআইএফ’র পরামর্শক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট প্রণয়নের ক্ষেত্রে ডায়াগনস্টিক ট্রেড ইন্টিগ্রেশন স্টাডি (ডিটিআইএস), রপ্তানি নীতি, শিল্পনীতি, বাণিজ্য নীতি, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্ট এবং বিনিয়োগ সুবিধা বিষয়ক উদ্যোগগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫২টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হলেও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্ভাব্য সহায়তা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা ১২টি কার্যক্রমে সীমিত করা হয়েছে।

এসব কার্যক্রমের মধ্যে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও অংশীজনদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, ইআইএফ’র তৃতীয় পর্যায়ের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের পরও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

সূত্র: বাসস

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদারে পাঁচ বছর মেয়াদি নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতাধীন এনহ্যান্সড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক (ইআইএফ)-এর তৃতীয় পর্যায়ের জন্য প্রণীত কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট (সিপিডি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রোববার (১৯ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সিপিডি ভ্যালিডেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। একদিকে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি, অন্যদিকে রপ্তানি খাতে নন-ট্যারিফ বাধা, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

বাণিজ্য সচিব বলেন, ইআইএফ’র পূর্ববর্তী পর্যায়গুলোর সুপারিশ নতুন কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টে গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে ১২টি কার্যক্রম রাখা হয়েছে, যা বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, শুধু নীতিমালা বা গবেষণা প্রতিবেদন প্রণয়ন নয়, বরং সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নই মূল বিষয়। সংস্কারের সুফল মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে।

আতাউর রহমান খান বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, উদারীকরণ, আইন ও বিধিমালার সংস্কার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কর্মশালায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন বলেন, ডব্লিউটিওর ইআইএফ কর্মসূচির মাধ্যমে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দেওয়া হয়। এ কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইডেনসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ অর্থায়ন করে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ইআইএফ’র আওতায় ইতোমধ্যে দু’টি পর্যায়ের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। প্রথম পর্যায় ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল এবং দ্বিতীয় পর্যায় ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এখন তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হবে এবং এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ অর্থায়ন সহায়তা পাবে। চলতি বছর থেকেই পাঁচ বছর মেয়াদি এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও ইআইএফ’র পরামর্শক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট প্রণয়নের ক্ষেত্রে ডায়াগনস্টিক ট্রেড ইন্টিগ্রেশন স্টাডি (ডিটিআইএস), রপ্তানি নীতি, শিল্পনীতি, বাণিজ্য নীতি, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্ট এবং বিনিয়োগ সুবিধা বিষয়ক উদ্যোগগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫২টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হলেও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্ভাব্য সহায়তা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা ১২টি কার্যক্রমে সীমিত করা হয়েছে।

এসব কার্যক্রমের মধ্যে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও অংশীজনদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, ইআইএফ’র তৃতীয় পর্যায়ের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের পরও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

সূত্র: বাসস


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত