মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ, বিশ্ববাজারে এলএনজির মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থসংকটে পেট্রোবাংলার বিল পরিশোধে অনিশ্চয়তার কারণে দেশের গ্যাস সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পেট্রোবাংলার অনুকূলে জরুরি ভিত্তিতে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দের সুপারিশ করেছে অর্থ বিভাগ।
অর্থ বিভাগের নথিতে বলা হয়েছে, এই অর্থ চলতি জুলাই মাসের শেষ ১৫ দিনের জন্য প্রয়োজন। সময়মতো এলএনজির বিল পরিশোধ করা না গেলে বিদেশি সরবরাহকারীরা নতুন কার্গো পাঠাতে অনীহা দেখাতে পারে, যা শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে এলএনজি আমদানির অর্থায়ন দ্রুত নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং বিকল্প সরবরাহ উৎস খোঁজার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে শুধু এলএনজি আমদানিতেই অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এতে বাজেট ঘাটতি আরও বাড়বে এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হবে।
অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত সরবরাহকৃত এলএনজির বিপরীতে পেট্রোবাংলার প্রাক্কলিত ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। যদিও চলতি অর্থবছরে এ খাতে ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। নতুন পরিস্থিতিতে অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
জ্বালানি বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে একটি এলএনজি কার্গো আমদানিতে ব্যয় হতো ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা। বর্তমানে স্পট মার্কেট থেকে একই পরিমাণ এলএনজি কিনতে ৬৫০ থেকে ৯৫০ কোটি টাকা, কখনো তারও বেশি ব্যয় হচ্ছে। এ অবস্থায় সময়মতো বিল পরিশোধ করা না গেলে বিদেশি সরবরাহকারীরা নতুন কার্গো পাঠাতে অনাগ্রহী হতে পারে, যা শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার কারখানায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
বিষয় : এলএনজি

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ, বিশ্ববাজারে এলএনজির মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থসংকটে পেট্রোবাংলার বিল পরিশোধে অনিশ্চয়তার কারণে দেশের গ্যাস সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পেট্রোবাংলার অনুকূলে জরুরি ভিত্তিতে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দের সুপারিশ করেছে অর্থ বিভাগ।
অর্থ বিভাগের নথিতে বলা হয়েছে, এই অর্থ চলতি জুলাই মাসের শেষ ১৫ দিনের জন্য প্রয়োজন। সময়মতো এলএনজির বিল পরিশোধ করা না গেলে বিদেশি সরবরাহকারীরা নতুন কার্গো পাঠাতে অনীহা দেখাতে পারে, যা শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে এলএনজি আমদানির অর্থায়ন দ্রুত নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং বিকল্প সরবরাহ উৎস খোঁজার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে শুধু এলএনজি আমদানিতেই অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এতে বাজেট ঘাটতি আরও বাড়বে এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হবে।
অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত সরবরাহকৃত এলএনজির বিপরীতে পেট্রোবাংলার প্রাক্কলিত ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। যদিও চলতি অর্থবছরে এ খাতে ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। নতুন পরিস্থিতিতে অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
জ্বালানি বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে একটি এলএনজি কার্গো আমদানিতে ব্যয় হতো ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা। বর্তমানে স্পট মার্কেট থেকে একই পরিমাণ এলএনজি কিনতে ৬৫০ থেকে ৯৫০ কোটি টাকা, কখনো তারও বেশি ব্যয় হচ্ছে। এ অবস্থায় সময়মতো বিল পরিশোধ করা না গেলে বিদেশি সরবরাহকারীরা নতুন কার্গো পাঠাতে অনাগ্রহী হতে পারে, যা শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার কারখানায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন