চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ সুবিধার আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং গৃহহীন ১০০ পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, জনগণ সরকারকে নির্বাচিত করেছে, তাই তাদের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব। সরকার গঠনের পর এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ডের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করাই এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। বাঁশখালী উপজেলায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ কার্ড পাবে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারীরাও যাতে অর্থনৈতিকভাবে পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ সময় কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। বাঁশখালীর লবণ চাষিরাও এ কার্ডের আওতায় আসবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। লবণের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন মেগাপ্রকল্পের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র বাংলাদেশের বড় সম্পদ। এ সম্পদকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। মাতারবাড়ী থেকে মিরসরাই পর্যন্ত শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আনোয়ারায় চীনের জন্য বরাদ্দ করা এলাকায় কয়েক শ শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে চট্টগ্রামে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, বেকারত্ব কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, শিল্প-কারখানা ছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব নয়। একই সঙ্গে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা শিল্পায়ন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম পূর্বশর্ত।
বাঁশখালীর হাসপাতাল আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, আগামী ১০ বছরে এ খাতের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেছে। এখন জনগণের জন্য কাজ করার এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সময়। অন্য দেশগুলো পরিশ্রম করে এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই।
জনগণের জীবনমান ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যেই সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির কাছে সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণ পাশে থাকলে সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মানুষের নিজের ও পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ সুবিধার আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং গৃহহীন ১০০ পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, জনগণ সরকারকে নির্বাচিত করেছে, তাই তাদের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব। সরকার গঠনের পর এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ডের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করাই এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। বাঁশখালী উপজেলায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ কার্ড পাবে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারীরাও যাতে অর্থনৈতিকভাবে পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ সময় কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। বাঁশখালীর লবণ চাষিরাও এ কার্ডের আওতায় আসবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। লবণের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন মেগাপ্রকল্পের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র বাংলাদেশের বড় সম্পদ। এ সম্পদকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। মাতারবাড়ী থেকে মিরসরাই পর্যন্ত শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আনোয়ারায় চীনের জন্য বরাদ্দ করা এলাকায় কয়েক শ শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে চট্টগ্রামে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, বেকারত্ব কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, শিল্প-কারখানা ছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব নয়। একই সঙ্গে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা শিল্পায়ন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম পূর্বশর্ত।
বাঁশখালীর হাসপাতাল আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, আগামী ১০ বছরে এ খাতের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেছে। এখন জনগণের জন্য কাজ করার এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সময়। অন্য দেশগুলো পরিশ্রম করে এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই।
জনগণের জীবনমান ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যেই সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির কাছে সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণ পাশে থাকলে সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মানুষের নিজের ও পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।

আপনার মতামত লিখুন