দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসানের পথে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেল। নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। কমিটির সদস্যরা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষরও করেছেন। এখন সরকারের অনুমোদন ও পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের অপেক্ষা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে পে-স্কেলসংক্রান্ত এসব তথ্য জানানো হয়।
সুপারিশ অনুযায়ী, ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর প্রস্তাবের কথাও এসেছে। অন্যদিকে ১ম থেকে ১০ম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।
নবম জাতীয় বেতন কমিশন এর আগে সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন গ্রেডে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল।
তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়ন কাঠামোয় সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে মূল বেতন কার্যকর এবং পরবর্তী ধাপে নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে সচিব কমিটির আলোচনাতেও একাধিক ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি উঠে এসেছিল।
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে এর আগে কয়েক দফা আলোচনা হলেও অর্থের সংস্থান, বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়েও সংশ্লিষ্ট সচিব কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হয়নি বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
এদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। সরকার এ বিষয়ে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করছে এবং পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত হলে তা জানানো হবে।
নতুন পে-স্কেলের চূড়ান্ত সুপারিশ হাতে আসায় এখন সরকারি চাকরিজীবীদের নজর সরকারের অনুমোদন, প্রজ্ঞাপন এবং বাস্তবায়নের সময়সূচির দিকে।
বিষয় : পে-স্কেল

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসানের পথে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেল। নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। কমিটির সদস্যরা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষরও করেছেন। এখন সরকারের অনুমোদন ও পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের অপেক্ষা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে পে-স্কেলসংক্রান্ত এসব তথ্য জানানো হয়।
সুপারিশ অনুযায়ী, ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর প্রস্তাবের কথাও এসেছে। অন্যদিকে ১ম থেকে ১০ম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।
নবম জাতীয় বেতন কমিশন এর আগে সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন গ্রেডে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল।
তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়ন কাঠামোয় সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে মূল বেতন কার্যকর এবং পরবর্তী ধাপে নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে সচিব কমিটির আলোচনাতেও একাধিক ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি উঠে এসেছিল।
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে এর আগে কয়েক দফা আলোচনা হলেও অর্থের সংস্থান, বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়েও সংশ্লিষ্ট সচিব কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হয়নি বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
এদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। সরকার এ বিষয়ে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করছে এবং পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত হলে তা জানানো হবে।
নতুন পে-স্কেলের চূড়ান্ত সুপারিশ হাতে আসায় এখন সরকারি চাকরিজীবীদের নজর সরকারের অনুমোদন, প্রজ্ঞাপন এবং বাস্তবায়নের সময়সূচির দিকে।

আপনার মতামত লিখুন