ঢাকার কণ্ঠ

হরমুজ দখলে ট্রাম্পের চোখ? উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক

হরমুজ দখলে ট্রাম্পের চোখ? উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসানের পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৪ আগস্ট নিউইয়র্কে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। তবে এমন পদক্ষেপের বাস্তবায়ন আন্তর্জাতিক আইন ও মার্কিন আইনি কাঠামোর দিক থেকে বড় ধরনের জটিলতার মুখে পড়তে পারে।

ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, প্রণালিটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ঘোষণা দিয়ে এর অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদিও বলেছেন, হরমুজ অতীতেও ইরানের ছিল, এখনো ইরানের এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

আন্তর্জাতিক আইনে কী অবস্থান?

হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত এবং পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। প্রণালিটির জলসীমা নিয়ে ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী, উপকূলীয় রাষ্ট্রের আঞ্চলিক জলসীমা সর্বোচ্চ ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত হতে পারে।

ফলে শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণার মাধ্যমে হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত করা যাবে—এমন কোনো সরল আইনি পথ নেই। মার্কিন সংবিধানের আওতাতেও নতুন ভূখণ্ড যুক্ত করার বিষয়টি প্রেসিডেন্টের একক ঘোষণায় সম্পন্ন করা যায় না বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ?

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল ও তেলজাত পণ্য এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়েছে, যা সমুদ্রপথে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। একই সঙ্গে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপুল পরিমাণ এলএনজিও এই পথ দিয়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের মধ্যে প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

এদিকে হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ কেবল সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। চলতি সপ্তাহে ইরান ও ওমান প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে বলেও খবর এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য বাস্তবে মার্কিন নীতির আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন কি না, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এমন বক্তব্য হরমুজকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

বিষয় : ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হরমুজ দখলে ট্রাম্পের চোখ? উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসানের পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৪ আগস্ট নিউইয়র্কে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। তবে এমন পদক্ষেপের বাস্তবায়ন আন্তর্জাতিক আইন ও মার্কিন আইনি কাঠামোর দিক থেকে বড় ধরনের জটিলতার মুখে পড়তে পারে।

ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, প্রণালিটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ঘোষণা দিয়ে এর অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদিও বলেছেন, হরমুজ অতীতেও ইরানের ছিল, এখনো ইরানের এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

আন্তর্জাতিক আইনে কী অবস্থান?

হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত এবং পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। প্রণালিটির জলসীমা নিয়ে ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী, উপকূলীয় রাষ্ট্রের আঞ্চলিক জলসীমা সর্বোচ্চ ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত হতে পারে।

ফলে শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণার মাধ্যমে হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত করা যাবে—এমন কোনো সরল আইনি পথ নেই। মার্কিন সংবিধানের আওতাতেও নতুন ভূখণ্ড যুক্ত করার বিষয়টি প্রেসিডেন্টের একক ঘোষণায় সম্পন্ন করা যায় না বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ?

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল ও তেলজাত পণ্য এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়েছে, যা সমুদ্রপথে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। একই সঙ্গে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপুল পরিমাণ এলএনজিও এই পথ দিয়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের মধ্যে প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

এদিকে হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ কেবল সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। চলতি সপ্তাহে ইরান ও ওমান প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে বলেও খবর এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য বাস্তবে মার্কিন নীতির আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন কি না, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এমন বক্তব্য হরমুজকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত