ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে মঙ্গলবারের বাজারচিত্রে তেলের দাম বড় ধরনের উত্থানের বদলে প্রায় স্থির রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রভাব এবং ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন।
মঙ্গলবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৯২ ডলারের আশপাশে ছিল। দিনের এক পর্যায়ে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্টের দাম ৯২ দশমিক ৪৪ ডলারে উঠলেও পরে তা কিছুটা কমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দামও ৮৫ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছিল।
এর আগে সোমবার দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ২ শতাংশের বেশি কমে যায়। সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তাৎক্ষণিকভাবে তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা দেবে না এমন ধারণার কারণে বাজারে চাপ তৈরি হয়।
যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক ও তেল খাতের ওপর চাপ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের বৈশ্বিক আর্থিক যোগাযোগ ও আয়ের উৎস সংকুচিত করাই এ পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য। তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ক্ষেত্রে কিছু সময় দেওয়া হয়েছে।
বাজারের বড় উদ্বেগ অবশ্য ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে। তেহরান এরই মধ্যে জানিয়েছে, অর্থনৈতিক চাপ বাড়লে তারা তেল রপ্তানি কমানো কিংবা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে। আর সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তেলের দাম দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে আপাতত বাজারে সরবরাহ সংকটের চেয়ে নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চীনসহ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের অবস্থানও পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা থাকায় তেলের বাজারে ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। ফলে আগামী দিনগুলোতে ইরানের পদক্ষেপ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের ধরনই তেলের দামের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে মঙ্গলবারের বাজারচিত্রে তেলের দাম বড় ধরনের উত্থানের বদলে প্রায় স্থির রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রভাব এবং ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন।
মঙ্গলবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৯২ ডলারের আশপাশে ছিল। দিনের এক পর্যায়ে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্টের দাম ৯২ দশমিক ৪৪ ডলারে উঠলেও পরে তা কিছুটা কমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দামও ৮৫ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছিল।
এর আগে সোমবার দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ২ শতাংশের বেশি কমে যায়। সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তাৎক্ষণিকভাবে তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা দেবে না এমন ধারণার কারণে বাজারে চাপ তৈরি হয়।
যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক ও তেল খাতের ওপর চাপ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের বৈশ্বিক আর্থিক যোগাযোগ ও আয়ের উৎস সংকুচিত করাই এ পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য। তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ক্ষেত্রে কিছু সময় দেওয়া হয়েছে।
বাজারের বড় উদ্বেগ অবশ্য ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে। তেহরান এরই মধ্যে জানিয়েছে, অর্থনৈতিক চাপ বাড়লে তারা তেল রপ্তানি কমানো কিংবা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে। আর সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তেলের দাম দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে আপাতত বাজারে সরবরাহ সংকটের চেয়ে নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চীনসহ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের অবস্থানও পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা থাকায় তেলের বাজারে ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। ফলে আগামী দিনগুলোতে ইরানের পদক্ষেপ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের ধরনই তেলের দামের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন