ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬। ০৭:১০ মিনিট

সংসদে বাকবিতণ্ডা-হট্টগোল: পরিস্থিতি দেখে উদ্বিগ্ন স্পিকার, দিলেন সতর্কবার্তা

সংসদে বাকবিতণ্ডা-হট্টগোল: পরিস্থিতি দেখে উদ্বিগ্ন স্পিকার, দিলেন সতর্কবার্তা

বর্তমান জাতীয় সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। সংসদে একে অপরের বক্তব্যে বাধা দেওয়া এবং কথা বলার পরিবেশ নষ্ট করার প্রবণতাকে তিনি গণতান্ত্রিক সংসদের জন্য ভালো লক্ষণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্বকালে স্পিকার বলেন, অনেক ত্যাগের পর দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গণতন্ত্রকে কার্যকর ও বহাল রাখার দায়িত্ব প্রত্যেক সংসদ সদস্যের। সংসদের কার্যপ্রণালির বিধিমালা মেনে চলার জন্যও তিনি সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি সতর্ক করে বলেন, স্পিকার যখন কথা বলেন, তখন সংসদ সদস্যদের বসে তা শোনা সংসদীয় নিয়মের অংশ। নিয়ম-কানুন না মানা হলে সংসদের কার্যক্রম দীর্ঘদিন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিন প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি প্রশ্ন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমাদের মন্তব্যের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্নটির ধরন নিয়ে মন্তব্য করলে বিরোধী দলের সদস্যরা প্রতিবাদ জানান এবং অধিবেশন কক্ষে হট্টগোল শুরু হয়।

একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কথা বলার সুযোগই যদি না দেওয়া হয়, তাহলে বাকস্বাধীনতা কোথায় থাকে। তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সদস্যরা আপত্তি জানান এবং বক্তব্যের কিছু অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। তিনি সংসদে এ ধরনের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশের দাবি জানান এবং সদস্যদের পারস্পরিক সম্মান ও শালীনতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার বলেন, সংসদে প্রত্যেক সদস্যের কথা বলার স্বাধীনতা রয়েছে। তবে একজন সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সময় অন্যরা দাঁড়িয়ে গেলে বা শব্দ করে বাধা দিলে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

স্পিকার আরও বলেন, সংসদ হলো যুক্তি ও বক্তব্যের মাধ্যমে মতের পার্থক্য তুলে ধরার জায়গা। একজনের বক্তব্যের জবাব অন্যজন যুক্তি দিয়ে দিতে পারেন, কিন্তু কারও কথা বলার স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়। তিনি সংসদ পরিচালনায় সব পক্ষের সহযোগিতা চান।

নিজের দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্পিকার বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি জাতীয় সংসদের সঙ্গে যুক্ত। অতীতেও সংসদে নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তবে অতীতের তুলনায় বর্তমান সংসদকে আরও কার্যকর ও দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

অধিবেশন ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার পর উভয় পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান স্পিকার। সংসদীয় বিধি মেনে পরস্পরের বক্তব্য শোনার পরিবেশ নিশ্চিত করলেই গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি মত দেন।

বিষয় : জাতীয় সংসদ কমিটির বৈঠক স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সংসদে বাকবিতণ্ডা-হট্টগোল: পরিস্থিতি দেখে উদ্বিগ্ন স্পিকার, দিলেন সতর্কবার্তা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বর্তমান জাতীয় সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। সংসদে একে অপরের বক্তব্যে বাধা দেওয়া এবং কথা বলার পরিবেশ নষ্ট করার প্রবণতাকে তিনি গণতান্ত্রিক সংসদের জন্য ভালো লক্ষণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্বকালে স্পিকার বলেন, অনেক ত্যাগের পর দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গণতন্ত্রকে কার্যকর ও বহাল রাখার দায়িত্ব প্রত্যেক সংসদ সদস্যের। সংসদের কার্যপ্রণালির বিধিমালা মেনে চলার জন্যও তিনি সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি সতর্ক করে বলেন, স্পিকার যখন কথা বলেন, তখন সংসদ সদস্যদের বসে তা শোনা সংসদীয় নিয়মের অংশ। নিয়ম-কানুন না মানা হলে সংসদের কার্যক্রম দীর্ঘদিন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিন প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি প্রশ্ন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমাদের মন্তব্যের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্নটির ধরন নিয়ে মন্তব্য করলে বিরোধী দলের সদস্যরা প্রতিবাদ জানান এবং অধিবেশন কক্ষে হট্টগোল শুরু হয়।

একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কথা বলার সুযোগই যদি না দেওয়া হয়, তাহলে বাকস্বাধীনতা কোথায় থাকে। তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সদস্যরা আপত্তি জানান এবং বক্তব্যের কিছু অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। তিনি সংসদে এ ধরনের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশের দাবি জানান এবং সদস্যদের পারস্পরিক সম্মান ও শালীনতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার বলেন, সংসদে প্রত্যেক সদস্যের কথা বলার স্বাধীনতা রয়েছে। তবে একজন সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সময় অন্যরা দাঁড়িয়ে গেলে বা শব্দ করে বাধা দিলে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

স্পিকার আরও বলেন, সংসদ হলো যুক্তি ও বক্তব্যের মাধ্যমে মতের পার্থক্য তুলে ধরার জায়গা। একজনের বক্তব্যের জবাব অন্যজন যুক্তি দিয়ে দিতে পারেন, কিন্তু কারও কথা বলার স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়। তিনি সংসদ পরিচালনায় সব পক্ষের সহযোগিতা চান।

নিজের দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্পিকার বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি জাতীয় সংসদের সঙ্গে যুক্ত। অতীতেও সংসদে নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তবে অতীতের তুলনায় বর্তমান সংসদকে আরও কার্যকর ও দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

অধিবেশন ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার পর উভয় পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান স্পিকার। সংসদীয় বিধি মেনে পরস্পরের বক্তব্য শোনার পরিবেশ নিশ্চিত করলেই গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি মত দেন।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত