সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পে-স্কেলের খসড়া ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পর্যায়ে রয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারির নির্দিষ্ট তারিখ ও বেতন বৃদ্ধির হার এখনো চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানিয়েছিলেন, নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় এর ঘোষণা আসতে পারে। সচিব কমিটি খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে।
সচিব কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো এবং পরবর্তী ধাপে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকরের প্রস্তাব রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কত ধাপে এবং কীভাবে এটি বাস্তবায়ন হবে, সে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভাই নেবে।
এদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল এ বছরের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হবে। এর আগে সরকার ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছিল।
কার বেতন কত হতে পারে?
চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেডভিত্তিক নিচের অঙ্কগুলোকে সম্ভাব্য বা প্রস্তাবিত বেতন হিসেবে দেখতে হবে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত সচিব কমিটি ও পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
| গ্রেড | সম্ভাব্য মূল বেতন |
|---|---|
| ১ম | ১,৬০,০০০ টাকা |
| ২য় | ১,৩২,০০০–১,৫৩,০০০ টাকা |
| ৩য় | ১,১৩,০০০–১,৪৮,৮০০ টাকা |
| ৪র্থ | ১,০০,০০০–১,৪২,৪০০ টাকা |
| ৫ম | ৮৬,০০০–১,৩৯,৭০০ টাকা |
| ৬ষ্ঠ | ৭১,০০০–১,৩৪,০০০ টাকা |
| ৭ম | ৫৮,০০০–১,২৬,৮০০ টাকা |
| ৮ম | ৪৭,২০০–১,১৩,৭০০ টাকা |
| ৯ম | ৪৫,১০০–১,০৮,৮০০ টাকা |
| ১০ম | ৩২,০০০–৭৭,৩০০ টাকা |
| ১১তম | ২৫,০০০–৬০,৫০০ টাকা |
| ১২তম | ২৪,৩০০–৫৮,৭০০ টাকা |
| ১৩তম | ২৪,০০০–৫৮,০০০ টাকা |
| ১৪তম | ২৩,৫০০–৫৬,৮০০ টাকা |
| ১৫তম | ২২,৮০০–৫৫,২০০ টাকা |
| ১৬তম | ২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা |
| ১৭তম | ২১,৪০০–৫১,৯০০ টাকা |
| ১৮তম | ২১,০০০–৫০,৯০০ টাকা |
| ১৯তম | ২০,৫০০–৪৯,৬০০ টাকা |
| ২০তম | ২০,০০০–৪৮,৪০০ টাকা |
তবে এসব অঙ্ক এখনো চূড়ান্ত নয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই কোন গ্রেডে কত মূল বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা কার্যকর হবে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এর আগে নবম জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব ছিল।
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে একাধিক বৈঠক ও পর্যালোচনা হয়েছে। বাস্তবায়নের কৌশল, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সচিব কমিটি খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে।
ফলে এখন সরকারি চাকরিজীবীদের মূল আগ্রহ মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও প্রজ্ঞাপন প্রকাশের দিকে। চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির অঙ্কগুলো নিশ্চিত হিসেবে না দেখার পরামর্শ রয়েছে।
বিষয় : পে-স্কেল

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পে-স্কেলের খসড়া ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পর্যায়ে রয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারির নির্দিষ্ট তারিখ ও বেতন বৃদ্ধির হার এখনো চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানিয়েছিলেন, নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় এর ঘোষণা আসতে পারে। সচিব কমিটি খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে।
সচিব কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো এবং পরবর্তী ধাপে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকরের প্রস্তাব রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কত ধাপে এবং কীভাবে এটি বাস্তবায়ন হবে, সে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভাই নেবে।
এদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল এ বছরের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হবে। এর আগে সরকার ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছিল।
কার বেতন কত হতে পারে?
চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেডভিত্তিক নিচের অঙ্কগুলোকে সম্ভাব্য বা প্রস্তাবিত বেতন হিসেবে দেখতে হবে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত সচিব কমিটি ও পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
| গ্রেড | সম্ভাব্য মূল বেতন |
|---|---|
| ১ম | ১,৬০,০০০ টাকা |
| ২য় | ১,৩২,০০০–১,৫৩,০০০ টাকা |
| ৩য় | ১,১৩,০০০–১,৪৮,৮০০ টাকা |
| ৪র্থ | ১,০০,০০০–১,৪২,৪০০ টাকা |
| ৫ম | ৮৬,০০০–১,৩৯,৭০০ টাকা |
| ৬ষ্ঠ | ৭১,০০০–১,৩৪,০০০ টাকা |
| ৭ম | ৫৮,০০০–১,২৬,৮০০ টাকা |
| ৮ম | ৪৭,২০০–১,১৩,৭০০ টাকা |
| ৯ম | ৪৫,১০০–১,০৮,৮০০ টাকা |
| ১০ম | ৩২,০০০–৭৭,৩০০ টাকা |
| ১১তম | ২৫,০০০–৬০,৫০০ টাকা |
| ১২তম | ২৪,৩০০–৫৮,৭০০ টাকা |
| ১৩তম | ২৪,০০০–৫৮,০০০ টাকা |
| ১৪তম | ২৩,৫০০–৫৬,৮০০ টাকা |
| ১৫তম | ২২,৮০০–৫৫,২০০ টাকা |
| ১৬তম | ২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা |
| ১৭তম | ২১,৪০০–৫১,৯০০ টাকা |
| ১৮তম | ২১,০০০–৫০,৯০০ টাকা |
| ১৯তম | ২০,৫০০–৪৯,৬০০ টাকা |
| ২০তম | ২০,০০০–৪৮,৪০০ টাকা |
তবে এসব অঙ্ক এখনো চূড়ান্ত নয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই কোন গ্রেডে কত মূল বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা কার্যকর হবে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এর আগে নবম জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব ছিল।
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে একাধিক বৈঠক ও পর্যালোচনা হয়েছে। বাস্তবায়নের কৌশল, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সচিব কমিটি খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে।
ফলে এখন সরকারি চাকরিজীবীদের মূল আগ্রহ মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও প্রজ্ঞাপন প্রকাশের দিকে। চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির অঙ্কগুলো নিশ্চিত হিসেবে না দেখার পরামর্শ রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন