ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬। ০২:০৪ মিনিট

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, অনুমোদনের অপেক্ষায় প্রকল্প

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, অনুমোদনের অপেক্ষায় প্রকল্প

বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য তোলা হয়। সভায় মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে বিপিডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৪ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি টাকা জোগানের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের জন্য নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে না। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০১২ সালে রামপালে ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল বিপিডিবি। ওই জমির একাংশে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ব্লক-বি এলাকায় জমি উন্নয়ন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। সেখানেই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ন্যূনতম ৬৪০ ওয়াট পিক ক্ষমতার সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-টাইড ইনভার্টার এবং একটি পুলিং সাবস্টেশন স্থাপন করা হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল সার্কিট ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন এবং উপকেন্দ্রে দুটি ২৩০ কেভি বে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ডরমিটরি, রেস্ট হাউস ও মসজিদ এবং তিনতলা নিয়ন্ত্রণ ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশীয় পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাবও রয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে।

এদিকে একনেক সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক থেকে প্রকল্প ঋণ হিসেবে ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব রয়েছে।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাতটি প্রকল্পসহ নৌপরিবহণ, পররাষ্ট্র এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প।

বিষয় : রামপালে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, অনুমোদনের অপেক্ষায় প্রকল্প

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য তোলা হয়। সভায় মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে বিপিডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৪ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি টাকা জোগানের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের জন্য নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে না। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০১২ সালে রামপালে ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল বিপিডিবি। ওই জমির একাংশে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ব্লক-বি এলাকায় জমি উন্নয়ন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। সেখানেই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ন্যূনতম ৬৪০ ওয়াট পিক ক্ষমতার সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-টাইড ইনভার্টার এবং একটি পুলিং সাবস্টেশন স্থাপন করা হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল সার্কিট ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন এবং উপকেন্দ্রে দুটি ২৩০ কেভি বে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ডরমিটরি, রেস্ট হাউস ও মসজিদ এবং তিনতলা নিয়ন্ত্রণ ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশীয় পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাবও রয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে।

এদিকে একনেক সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক থেকে প্রকল্প ঋণ হিসেবে ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব রয়েছে।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাতটি প্রকল্পসহ নৌপরিবহণ, পররাষ্ট্র এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত