ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬। ০৫:৫৭ মিনিট

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ শুরু, বিনা খরচে যাবেন ১০ হাজার

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ শুরু, বিনা খরচে যাবেন ১০ হাজার

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন ব্যবস্থায় দেশটিতে কর্মী পাঠাতে বাংলাদেশের ৩৩৮টি রিক্রুটিং ও প্রসেসিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে দেশটি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘদিন বন্ধ ও সীমিত থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা এবং কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ জন্য মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করা হয়েছে।

তালিকায় ৩৩৮টি এজেন্সি

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং আরও ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি থাকবে। সব মিলিয়ে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৩৮টি।

২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী এজেন্সি নির্বাচনের প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এর আগে যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তী আলোচনা ও যাচাইয়ের পর ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি পাওয়া যায়।

তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে চাকরির চাহিদাপত্র বা জব অর্ডার সংগ্রহ করতে পারবে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধি মেনে কর্মী নির্বাচন এবং নিয়োগের প্রক্রিয়াও পরিচালনা করতে পারবে। কলিং ভিসা, ই-ভিসা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে বোয়েসেলসহ নির্ধারিত প্রসেসিং এজেন্সিগুলো সহায়তা করবে।

১০ হাজার কর্মী যাবেন বিনা খরচে

বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ হাজার কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে নেওয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়া নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নিয়োগব্যবস্থা গড়ে তোলা।

তবে কর্মী বাছাই, আবেদন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও যাত্রার সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত আগ্রহীদের সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ছাড়া কোনো দালাল বা প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা দেওয়া কিংবা আগাম আর্থিক লেনদেন করা উচিত নয়।

স্বাস্থ্য পরীক্ষার কেন্দ্র নিয়ে সিদ্ধান্ত

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ এখনো চলমান। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।

এদিকে, অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত কেন্দ্রগুলো বাদ দিয়ে বিদ্যমান অনুমোদিত তালিকার অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। কোনো একটি মেডিকেল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

সরকারের প্রত্যাশা, নতুন ব্যবস্থায় বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অংশগ্রহণ বাড়বে এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজার আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল হবে। তবে ১০ হাজার কর্মীর বিনা খরচে যাওয়ার সুযোগ বাস্তবায়নে পরবর্তী নির্দেশনা ও নিয়োগের নির্দিষ্ট সময়সূচি গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বিষয় : মালয়েশিয়া কর্মী নিয়োগ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ শুরু, বিনা খরচে যাবেন ১০ হাজার

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন ব্যবস্থায় দেশটিতে কর্মী পাঠাতে বাংলাদেশের ৩৩৮টি রিক্রুটিং ও প্রসেসিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে দেশটি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘদিন বন্ধ ও সীমিত থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা এবং কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ জন্য মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করা হয়েছে।

তালিকায় ৩৩৮টি এজেন্সি

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং আরও ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি থাকবে। সব মিলিয়ে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৩৮টি।

২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী এজেন্সি নির্বাচনের প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এর আগে যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তী আলোচনা ও যাচাইয়ের পর ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি পাওয়া যায়।

তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে চাকরির চাহিদাপত্র বা জব অর্ডার সংগ্রহ করতে পারবে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধি মেনে কর্মী নির্বাচন এবং নিয়োগের প্রক্রিয়াও পরিচালনা করতে পারবে। কলিং ভিসা, ই-ভিসা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে বোয়েসেলসহ নির্ধারিত প্রসেসিং এজেন্সিগুলো সহায়তা করবে।

১০ হাজার কর্মী যাবেন বিনা খরচে

বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ হাজার কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে নেওয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়া নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নিয়োগব্যবস্থা গড়ে তোলা।

তবে কর্মী বাছাই, আবেদন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও যাত্রার সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত আগ্রহীদের সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ছাড়া কোনো দালাল বা প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা দেওয়া কিংবা আগাম আর্থিক লেনদেন করা উচিত নয়।

স্বাস্থ্য পরীক্ষার কেন্দ্র নিয়ে সিদ্ধান্ত

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ এখনো চলমান। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।

এদিকে, অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত কেন্দ্রগুলো বাদ দিয়ে বিদ্যমান অনুমোদিত তালিকার অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। কোনো একটি মেডিকেল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

সরকারের প্রত্যাশা, নতুন ব্যবস্থায় বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অংশগ্রহণ বাড়বে এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজার আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল হবে। তবে ১০ হাজার কর্মীর বিনা খরচে যাওয়ার সুযোগ বাস্তবায়নে পরবর্তী নির্দেশনা ও নিয়োগের নির্দিষ্ট সময়সূচি গুরুত্বপূর্ণ হবে।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত