ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬। ০৫:১২ মিনিট

লিমন-বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার কে এই হিশাম?

লিমন-বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার কে এই হিশাম?

যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হয়েছেন দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী লিমন ও বৃষ্টি। তারা ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ)-এর শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার কথা থাকলেও আর ফেরা হলো না তাদের। দুজনের বিয়ের কথাও প্রায় চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু হিশাম আবুঘারবিয়েহকে ঘিরে হঠাৎ করেই সবকিছু বদলে যায়।

লিমন ও বৃষ্টি একই সময়ে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের সাত দিন পর লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনো বৃষ্টির কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহকে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ জানায়, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং অন্যজনের সন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ সংলগ্ন পানিতে ডুবুরি দল তল্লাশি চালাচ্ছে, যেখানে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিশাম আবুঘারবিয়েহ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সাবেক শিক্ষার্থী। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তবে ঘটনার সময় তিনি আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন না।

আদালত ও স্থানীয় শেরিফ কার্যালয়ের নথি বিশ্লেষণে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে আগেও সহিংস আচরণের অভিযোগ ছিল। ২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত এবং একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে চুরির অভিযোগ আনা হয়। যদিও এসব অভিযোগকে লঘু অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল, তার আচরণ নিয়ে পরিবার আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিল।

তার সহিংস আচরণের কারণে পরিবারের এক সদস্য তার বিরুদ্ধে দুটি পারিবারিক সুরক্ষা নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন, যার মধ্যে একটি আদালত মঞ্জুর করে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে।

পারিবারিক সহিংসতার একটি ফোনকলের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হিশামকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখতে পায়, তিনি নিজেকে ঘরের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন এবং আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোয়াট টিম মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘ উত্তেজনার পর তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

তার বিরুদ্ধে মৃত্যুর তথ্য গোপন করা, অবৈধভাবে মরদেহ সরানো, আলামত নষ্ট করা, অবৈধভাবে আটক রাখা এবং পারিবারিক সহিংসতার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

হিলসবরো কাউন্টির চিফ ডেপুটি জোসেফ মাউরার জানান, লিমনের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

বৃষ্টির অবস্থান এখনো অজানা। তদন্তকারীরা একই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে লিমনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

এদিকে বৃষ্টির পরিবারের দাবি, তিনিও হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে পারেন। বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্তর জানান, বাসার ভেতরে পাওয়া রক্তের নমুনার সঙ্গে ডিএনএ মিল পাওয়া গেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি পুলিশ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিমন ও বৃষ্টি বৈধ ছাত্রভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে হিশাম আবুঘারবিয়েহ জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক।

লিমন ও বৃষ্টিকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে পরিবার ও বন্ধুদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তদন্তকারীরা বলছেন, এই ঘটনার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। বৃষ্টির সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


লিমন-বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার কে এই হিশাম?

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হয়েছেন দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী লিমন ও বৃষ্টি। তারা ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ)-এর শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার কথা থাকলেও আর ফেরা হলো না তাদের। দুজনের বিয়ের কথাও প্রায় চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু হিশাম আবুঘারবিয়েহকে ঘিরে হঠাৎ করেই সবকিছু বদলে যায়।

লিমন ও বৃষ্টি একই সময়ে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের সাত দিন পর লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনো বৃষ্টির কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহকে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ জানায়, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং অন্যজনের সন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ সংলগ্ন পানিতে ডুবুরি দল তল্লাশি চালাচ্ছে, যেখানে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিশাম আবুঘারবিয়েহ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সাবেক শিক্ষার্থী। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তবে ঘটনার সময় তিনি আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন না।

আদালত ও স্থানীয় শেরিফ কার্যালয়ের নথি বিশ্লেষণে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে আগেও সহিংস আচরণের অভিযোগ ছিল। ২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত এবং একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে চুরির অভিযোগ আনা হয়। যদিও এসব অভিযোগকে লঘু অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল, তার আচরণ নিয়ে পরিবার আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিল।

তার সহিংস আচরণের কারণে পরিবারের এক সদস্য তার বিরুদ্ধে দুটি পারিবারিক সুরক্ষা নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন, যার মধ্যে একটি আদালত মঞ্জুর করে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে।

পারিবারিক সহিংসতার একটি ফোনকলের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হিশামকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখতে পায়, তিনি নিজেকে ঘরের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন এবং আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোয়াট টিম মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘ উত্তেজনার পর তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

তার বিরুদ্ধে মৃত্যুর তথ্য গোপন করা, অবৈধভাবে মরদেহ সরানো, আলামত নষ্ট করা, অবৈধভাবে আটক রাখা এবং পারিবারিক সহিংসতার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

হিলসবরো কাউন্টির চিফ ডেপুটি জোসেফ মাউরার জানান, লিমনের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

বৃষ্টির অবস্থান এখনো অজানা। তদন্তকারীরা একই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে লিমনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

এদিকে বৃষ্টির পরিবারের দাবি, তিনিও হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে পারেন। বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্তর জানান, বাসার ভেতরে পাওয়া রক্তের নমুনার সঙ্গে ডিএনএ মিল পাওয়া গেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি পুলিশ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিমন ও বৃষ্টি বৈধ ছাত্রভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে হিশাম আবুঘারবিয়েহ জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক।

লিমন ও বৃষ্টিকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে পরিবার ও বন্ধুদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তদন্তকারীরা বলছেন, এই ঘটনার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। বৃষ্টির সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত