পরিবারের অভাব দূর করার স্বপ্ন নিয়ে ধার-দেনা করে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া দক্ষিণপাড়ার যুবক মো. জাকির হোসেন (২৫)। স্বপ্ন ছিল কঠোর পরিশ্রম করে বাবার ঋণ শোধ করবেন, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। তিন বছর পর জীবিত নয়, কফিনবন্দি লাশ হয়ে ফিরলেন তিনি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে জাকিরের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। একমাত্র সন্তানের কফিন জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ বাবা মো. মোজাম্মেল। মা জরিনা বেগম বারবার সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বিলাপ করতে থাকেন। একমাত্র বোনসহ স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শোকের ছায়া নেমে আসে গজারিয়া দক্ষিণপাড়াজুড়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দিনমজুর বাবা মো. মোজাম্মেল ও মা জরিনা বেগমের একমাত্র ছেলে জাকির হোসেন তিন বছর আগে পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করার আশায় ঋণ করে মালয়েশিয়ায় যান। ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটনের মধ্যে বেড়ে ওঠা জাকিরের স্বপ্ন ছিল একটি সুখী ও স্বচ্ছল সংসার গড়ে তোলা।
স্বজনরা জানান, মৃত্যুর প্রায় এক সপ্তাহ আগে মালয়েশিয়ায় জ্বরে আক্রান্ত হন জাকির। পরে স্ট্রোক করলে গত ২৪ জুন সেখানে তার মৃত্যু হয়। প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (৬ জুলাই) রাতে তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়।
স্থানীয়রা জানান, মালয়েশিয়ায় কম বেতনের চাকরি করায় বাবার নেওয়া ঋণের পুরো টাকা পরিশোধ করতে পারেননি জাকির। বর্তমানে পরিবারের ওপর প্রায় ৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকার ঋণের বোঝা রয়ে গেছে। একদিকে একমাত্র সন্তান হারানোর অসহনীয় শোক, অন্যদিকে ঋণের চাপ—সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে দরিদ্র পরিবারটি।
যে ছেলেকে ঘিরে দিনমজুর বাবা-মা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ সেই ছেলের নিথর দেহই তাদের শেষ স্মৃতি। পরিবারের হাল ধরতে যে যুবক বিদেশে গিয়েছিলেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত কফিনবন্দি হয়ে ফিরে এলেন নিজের চিরচেনা গ্রামের মাটিতে।
বিষয় : মালয়েশিয়া ফিরলেন লাশ হয়ে

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
পরিবারের অভাব দূর করার স্বপ্ন নিয়ে ধার-দেনা করে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া দক্ষিণপাড়ার যুবক মো. জাকির হোসেন (২৫)। স্বপ্ন ছিল কঠোর পরিশ্রম করে বাবার ঋণ শোধ করবেন, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। তিন বছর পর জীবিত নয়, কফিনবন্দি লাশ হয়ে ফিরলেন তিনি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে জাকিরের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। একমাত্র সন্তানের কফিন জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ বাবা মো. মোজাম্মেল। মা জরিনা বেগম বারবার সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বিলাপ করতে থাকেন। একমাত্র বোনসহ স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শোকের ছায়া নেমে আসে গজারিয়া দক্ষিণপাড়াজুড়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দিনমজুর বাবা মো. মোজাম্মেল ও মা জরিনা বেগমের একমাত্র ছেলে জাকির হোসেন তিন বছর আগে পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করার আশায় ঋণ করে মালয়েশিয়ায় যান। ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটনের মধ্যে বেড়ে ওঠা জাকিরের স্বপ্ন ছিল একটি সুখী ও স্বচ্ছল সংসার গড়ে তোলা।
স্বজনরা জানান, মৃত্যুর প্রায় এক সপ্তাহ আগে মালয়েশিয়ায় জ্বরে আক্রান্ত হন জাকির। পরে স্ট্রোক করলে গত ২৪ জুন সেখানে তার মৃত্যু হয়। প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (৬ জুলাই) রাতে তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়।
স্থানীয়রা জানান, মালয়েশিয়ায় কম বেতনের চাকরি করায় বাবার নেওয়া ঋণের পুরো টাকা পরিশোধ করতে পারেননি জাকির। বর্তমানে পরিবারের ওপর প্রায় ৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকার ঋণের বোঝা রয়ে গেছে। একদিকে একমাত্র সন্তান হারানোর অসহনীয় শোক, অন্যদিকে ঋণের চাপ—সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে দরিদ্র পরিবারটি।
যে ছেলেকে ঘিরে দিনমজুর বাবা-মা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ সেই ছেলের নিথর দেহই তাদের শেষ স্মৃতি। পরিবারের হাল ধরতে যে যুবক বিদেশে গিয়েছিলেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত কফিনবন্দি হয়ে ফিরে এলেন নিজের চিরচেনা গ্রামের মাটিতে।

আপনার মতামত লিখুন