ঢাকার কণ্ঠ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ । ০৯:৫৫ মিনিট

একই সন্তানের হাতে খুন সৎ মা ও আপন মা, পার্থক্য শুধু ১০ বছরের

একই সন্তানের হাতে খুন সৎ মা ও আপন মা, পার্থক্য শুধু ১০ বছরের

ফরিদপুরে সামেলা (সাহেলা) আক্তার (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলে আব্দুর রাহিম শেখের (৩৫) বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুর শহরের বায়তুল আমান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফরিদপুর পৌরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বায়তুল আমান এলাকার নিজ বাড়ির উঠানে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরিবারের অন্য সদস্যরা বাইরে থাকায় রাহিম শেখ ধারালো অস্ত্র ও ভোঁতা বস্তু দিয়ে মায়ের মাথায় একাধিক আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই সামেলা আক্তারের মৃত্যু হয়। পরে প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেন।

নিহতের মেয়ে কাকলী আক্তার জানান, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায়ই মায়ের কাছে টাকা চাইতেন, আর টাকা না পেলে মারধর করতেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি কাজে বের হওয়ার সময় রাহিম বাড়িতেই ছিলেন। পরে খবর পান, তার ভাই মাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, ২০১৬ সালে রাহিম শেখ তার সৎ মাকেও একইভাবে হত্যা করেছিলেন। ওই ঘটনায় প্রায় ছয় বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফেরেন তিনি। এরপরও তার আচরণ স্বাভাবিক হয়নি। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের মারধর, টাকা দাবি এবং অস্বাভাবিক আচরণ ছিল তার নিত্যদিনের ঘটনা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাহিম শেখ মাথায় আঘাত করে তার মাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন। তার কক্ষ থেকে ফয়েল পেপার, মোমবাতি, সিগারেটের প্যাকেটসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

বিষয় : খুন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


একই সন্তানের হাতে খুন সৎ মা ও আপন মা, পার্থক্য শুধু ১০ বছরের

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরে সামেলা (সাহেলা) আক্তার (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলে আব্দুর রাহিম শেখের (৩৫) বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুর শহরের বায়তুল আমান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফরিদপুর পৌরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বায়তুল আমান এলাকার নিজ বাড়ির উঠানে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরিবারের অন্য সদস্যরা বাইরে থাকায় রাহিম শেখ ধারালো অস্ত্র ও ভোঁতা বস্তু দিয়ে মায়ের মাথায় একাধিক আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই সামেলা আক্তারের মৃত্যু হয়। পরে প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেন।

নিহতের মেয়ে কাকলী আক্তার জানান, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায়ই মায়ের কাছে টাকা চাইতেন, আর টাকা না পেলে মারধর করতেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি কাজে বের হওয়ার সময় রাহিম বাড়িতেই ছিলেন। পরে খবর পান, তার ভাই মাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, ২০১৬ সালে রাহিম শেখ তার সৎ মাকেও একইভাবে হত্যা করেছিলেন। ওই ঘটনায় প্রায় ছয় বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফেরেন তিনি। এরপরও তার আচরণ স্বাভাবিক হয়নি। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের মারধর, টাকা দাবি এবং অস্বাভাবিক আচরণ ছিল তার নিত্যদিনের ঘটনা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাহিম শেখ মাথায় আঘাত করে তার মাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন। তার কক্ষ থেকে ফয়েল পেপার, মোমবাতি, সিগারেটের প্যাকেটসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত