ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬। ০৪:২৪ মিনিট

জিয়াউর রহমানের সততাই ছিল তার সবচেয়ে বড় ইউএসপি: রুমিন ফারহানা

জিয়াউর রহমানের সততাই ছিল তার সবচেয়ে বড় ইউএসপি: রুমিন ফারহানা

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সততাই তার জনপ্রিয়তার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

সম্প্রতি এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক নেতাদের কথার ভান আর বাস্তবতা সহজেই বুঝতে পারে। তার দাবি, জিয়াউর রহমান লোক দেখানো নয়, প্রকৃত অর্থেই সৎ ছিলেন এবং রাজনীতিতে এই সততাই তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘মানুষ কিন্তু ভান এবং আসল বুঝতে পারে। আমার নিজের অল্প রাজনৈতিক জীবনে আমি দেখেছি, মানুষ ভান আর আসল বুঝতে পারে। জিয়াউর রহমান সত্যি সৎ ছিলেন। লোক দেখানো সৎ নন, তিনি অত্যন্ত সৎ ছিলেন।’

জিয়াউর রহমানের সততার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন একটি বিশ্বাস তৈরি হয়েছিল যে, রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলেও তিনি নিজের আত্মীয়স্বজনের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করবেন না। স্ত্রী-সন্তানদের জন্য সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলবেন না—এমন ধারণাই তাকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল।

তার ভাষায়, ‘এই লোকটা আসলেই সৎ’—এটাই ছিল জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে বড় ইউএসপি।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজনীতিবিদদের মধ্যে সততার ঘাটতি সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। একদিকে দুর্ভিক্ষ, অন্যদিকে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন—এ ধরনের বৈপরীত্য মানুষ গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিল।

সাধারণ মানুষ রাজনীতি বোঝে না—এমন ধারণারও সমালোচনা করেন তিনি। রুমিন বলেন, গ্রামের একজন কৃষকও অনেক সময় একজন রাজনীতিবিদকে রাজনীতি সম্পর্কে তিনবার বুঝিয়ে দিতে পারেন।

জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ হিসেবে তার মন্ত্রিসভা ও দল গঠনে যোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন রুমিন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তাদের নিজের মন্ত্রিসভা ও দলে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে জিয়াউর রহমানের ক্ষমতায় আসা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেন রুমিন। তার মতে, সামরিক বাহিনী থেকে উঠে আসা জিয়াউর রহমানের ক্ষমতায় আসার সঙ্গে অস্ত্রের শক্তির সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনা থাকলেও পরবর্তী সময়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

আলোচনায় বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বে তারেক রহমানের উত্থানের বিষয়টিও উঠে আসে। রুমিন বলেন, শুধু জিয়াউর রহমানের সন্তান হওয়ার কারণে তারেক রহমান একদিনে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসেননি। তরুণ বয়সে বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে তিনি দলের নেতৃত্বে উঠে এসেছেন।

তবে তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রায় পারিবারিক উত্তরাধিকারের প্রভাব ছিল বলেও স্বীকার করেন রুমিন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এমনটি বলা ঠিক হবে না যে তারেক রহমান রাজনীতিতে কোনো ভূমিকা না রেখেই সরাসরি দলের শীর্ষ পদে এসেছেন।

আলোচনায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা। তার মতে, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাবের বিপরীতে বিএনপিকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দলে পরিণত করতে খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ রাজনৈতিক ভাবমূর্তির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। রুমিন বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া যে অবস্থান তৈরি করেছিলেন, তা আমৃত্যু ধরে রেখেছেন।

তার ভাষ্য, খালেদা জিয়া যা বিশ্বাস করেছেন, তা-ই বলেছেন এবং রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার পথ বেছে নেননি। তাঁর এই অবস্থানই সাধারণ মানুষের মধ্যে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছিল বলে মন্তব্য করেন রুমিন।

বিষয় : রুমিন ফারহানা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জিয়াউর রহমানের সততাই ছিল তার সবচেয়ে বড় ইউএসপি: রুমিন ফারহানা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সততাই তার জনপ্রিয়তার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

সম্প্রতি এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক নেতাদের কথার ভান আর বাস্তবতা সহজেই বুঝতে পারে। তার দাবি, জিয়াউর রহমান লোক দেখানো নয়, প্রকৃত অর্থেই সৎ ছিলেন এবং রাজনীতিতে এই সততাই তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘মানুষ কিন্তু ভান এবং আসল বুঝতে পারে। আমার নিজের অল্প রাজনৈতিক জীবনে আমি দেখেছি, মানুষ ভান আর আসল বুঝতে পারে। জিয়াউর রহমান সত্যি সৎ ছিলেন। লোক দেখানো সৎ নন, তিনি অত্যন্ত সৎ ছিলেন।’

জিয়াউর রহমানের সততার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন একটি বিশ্বাস তৈরি হয়েছিল যে, রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলেও তিনি নিজের আত্মীয়স্বজনের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করবেন না। স্ত্রী-সন্তানদের জন্য সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলবেন না—এমন ধারণাই তাকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল।

তার ভাষায়, ‘এই লোকটা আসলেই সৎ’—এটাই ছিল জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে বড় ইউএসপি।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজনীতিবিদদের মধ্যে সততার ঘাটতি সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। একদিকে দুর্ভিক্ষ, অন্যদিকে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন—এ ধরনের বৈপরীত্য মানুষ গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিল।

সাধারণ মানুষ রাজনীতি বোঝে না—এমন ধারণারও সমালোচনা করেন তিনি। রুমিন বলেন, গ্রামের একজন কৃষকও অনেক সময় একজন রাজনীতিবিদকে রাজনীতি সম্পর্কে তিনবার বুঝিয়ে দিতে পারেন।

জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ হিসেবে তার মন্ত্রিসভা ও দল গঠনে যোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন রুমিন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তাদের নিজের মন্ত্রিসভা ও দলে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে জিয়াউর রহমানের ক্ষমতায় আসা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেন রুমিন। তার মতে, সামরিক বাহিনী থেকে উঠে আসা জিয়াউর রহমানের ক্ষমতায় আসার সঙ্গে অস্ত্রের শক্তির সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনা থাকলেও পরবর্তী সময়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

আলোচনায় বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বে তারেক রহমানের উত্থানের বিষয়টিও উঠে আসে। রুমিন বলেন, শুধু জিয়াউর রহমানের সন্তান হওয়ার কারণে তারেক রহমান একদিনে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসেননি। তরুণ বয়সে বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে তিনি দলের নেতৃত্বে উঠে এসেছেন।

তবে তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রায় পারিবারিক উত্তরাধিকারের প্রভাব ছিল বলেও স্বীকার করেন রুমিন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এমনটি বলা ঠিক হবে না যে তারেক রহমান রাজনীতিতে কোনো ভূমিকা না রেখেই সরাসরি দলের শীর্ষ পদে এসেছেন।

আলোচনায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা। তার মতে, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাবের বিপরীতে বিএনপিকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দলে পরিণত করতে খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ রাজনৈতিক ভাবমূর্তির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। রুমিন বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া যে অবস্থান তৈরি করেছিলেন, তা আমৃত্যু ধরে রেখেছেন।

তার ভাষ্য, খালেদা জিয়া যা বিশ্বাস করেছেন, তা-ই বলেছেন এবং রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার পথ বেছে নেননি। তাঁর এই অবস্থানই সাধারণ মানুষের মধ্যে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছিল বলে মন্তব্য করেন রুমিন।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত