ঢাকার কণ্ঠ
আপডেট : সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬ । ১১:৪২ মিনিট

কদমতলীতে অটোচালক ইমন হত্যার দায়ে আসামি আল-আমিনের যাবজ্জীবন

কদমতলীতে অটোচালক ইমন হত্যার দায়ে আসামি আল-আমিনের যাবজ্জীবন
ছবি: ঢাকার কণ্ঠ

রাজধানীর কদমতলীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক কিশোর ইমন কাজীকে হত্যা ও মরদেহ গুমের ঘটনায় করা মামলায় মো. আল-আমিন শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৩ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন চৌধুরী এই রায় ঘোষণা করেন। 

সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. জহিরুল ইসলাম (কাইয়ুম) এতথ্য নিশ্চিত করেন৷

রায়ে হত্যা মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আল-আমিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও হত্যার আলামত নষ্ট ও মরদেহ গুমের দায়ে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

তবে দুটি সাজা একইসঙ্গে কার্যকর হবে এবং আসামির হাজতবাসের সময় মূল কারাদণ্ড থেকে বাদ যাবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। 

মামলার অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩০ মে সন্ধ্যায় অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ইমন কাজী। ওইদিন রাত ৯টার পর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে গেণ্ডারিয়ার ফরাশগঞ্জ মাপুর মাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে চালকবিহীন অটোরিকশা ও এর ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজের চার দিন পর ৩ জুন রাতে পশ্চিম মোহাম্মদবাগের সোনামাবিয়া জামে মসজিদসংলগ্ন একটি পতিত জমির ঝোপ থেকে হাত-পা বাঁধা ও বস্তাবন্দি অবস্থায় ইমনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা লিটন কদমতলী থানায় মামলা করেন।

২০২৩ সালের ৫ জুন বরিশালের হিজলা থানার গোবিন্দপুর খয়া গ্রাম থেকে আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেখানো মতে ভাড়া বাসা থেকে রক্তমাখা বিছানার চাদর ও ইমনের ব্যবহৃত স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। এরপরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন তিনি।

২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ডিবি ওয়ারী বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. রোকনুজ্জামান খাঁন তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। একই বছরের ২০ অক্টোবর আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। 

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পারিবারিক পরকীয়ার সন্দেহ ও ধার দেওয়া ৫ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ইমনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আল-আমিন। ওই বছরের ৩০ মে সন্ধ্যায় তাকে ভাড়া বাসায় ডেকে কোকের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে বাজার থেকে বস্তা ও রশি কিনে মরদেহ বস্তাবন্দি করে নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে আসে।

বিষয় : কদমতলীতে অটোচালক ইমন হত্যা আল-আমিনের যাবজ্জীবন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কদমতলীতে অটোচালক ইমন হত্যার দায়ে আসামি আল-আমিনের যাবজ্জীবন

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজধানীর কদমতলীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক কিশোর ইমন কাজীকে হত্যা ও মরদেহ গুমের ঘটনায় করা মামলায় মো. আল-আমিন শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৩ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন চৌধুরী এই রায় ঘোষণা করেন। 

সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. জহিরুল ইসলাম (কাইয়ুম) এতথ্য নিশ্চিত করেন৷

রায়ে হত্যা মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আল-আমিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও হত্যার আলামত নষ্ট ও মরদেহ গুমের দায়ে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

তবে দুটি সাজা একইসঙ্গে কার্যকর হবে এবং আসামির হাজতবাসের সময় মূল কারাদণ্ড থেকে বাদ যাবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। 

মামলার অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩০ মে সন্ধ্যায় অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ইমন কাজী। ওইদিন রাত ৯টার পর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে গেণ্ডারিয়ার ফরাশগঞ্জ মাপুর মাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে চালকবিহীন অটোরিকশা ও এর ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজের চার দিন পর ৩ জুন রাতে পশ্চিম মোহাম্মদবাগের সোনামাবিয়া জামে মসজিদসংলগ্ন একটি পতিত জমির ঝোপ থেকে হাত-পা বাঁধা ও বস্তাবন্দি অবস্থায় ইমনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা লিটন কদমতলী থানায় মামলা করেন।

২০২৩ সালের ৫ জুন বরিশালের হিজলা থানার গোবিন্দপুর খয়া গ্রাম থেকে আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেখানো মতে ভাড়া বাসা থেকে রক্তমাখা বিছানার চাদর ও ইমনের ব্যবহৃত স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। এরপরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন তিনি।

২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ডিবি ওয়ারী বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. রোকনুজ্জামান খাঁন তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। একই বছরের ২০ অক্টোবর আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। 

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পারিবারিক পরকীয়ার সন্দেহ ও ধার দেওয়া ৫ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ইমনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আল-আমিন। ওই বছরের ৩০ মে সন্ধ্যায় তাকে ভাড়া বাসায় ডেকে কোকের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে বাজার থেকে বস্তা ও রশি কিনে মরদেহ বস্তাবন্দি করে নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে আসে।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত