শনির উপগ্রহ এনসেলাডাসে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আশার কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণাগারে এনসেলাডাসের ভূগর্ভস্থ মহাসাগরের মতো পরিবেশ তৈরি করে পৃথিবীর একটি অণুজীবকে সেখানে বেড়ে উঠতে দেখা গেছে।
গবেষণায় জাপানের ওকিনাওয়া ট্রাফের গভীর সমুদ্রের হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট থেকে পাওয়া Methanothermococcus okinawensis নামের এক ধরনের মিথেনোজেন অণুজীব ব্যবহার করা হয়। এটি হাইড্রোজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে মিথেন উৎপন্ন করে।
গবেষকেরা পানি, লবণ ও খনিজের মিশ্রণের মাধ্যমে এনসেলাডাসের সমুদ্রের রাসায়নিক পরিবেশের অনুকরণ করেন। সেখানে পানির সঙ্গে পাথরের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় হাইড্রোজেন তৈরি হয়, যা অণুজীবটির বিপাকক্রিয়ার জন্য শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কৃত্রিম পরিবেশে পানির পিএইচ ১১ পর্যন্ত পৌঁছালেও অণুজীবটি বেড়ে উঠতে সক্ষম হয়। কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকলেও অণুজীবটি বিপাকক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে তা ব্যবহার করতে পেরেছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে এনসেলাডাসে প্রাণ পাওয়া গেছে। গবেষণাটি শুধু দেখিয়েছে, পৃথিবীর একটি অণুজীব সেখানে ধারণা করা পরিবেশে স্বল্পমেয়াদে টিকে ও বেড়ে উঠতে পারে। পরীক্ষাটি কয়েক দিনের ছিল; দীর্ঘ সময় এমন পরিবেশে প্রাণ টিকে থাকতে পারবে কি না, তা এখনো অজানা।
এনসেলাডাসের বরফের নিচে বিশাল লবণাক্ত মহাসাগর থাকার প্রমাণ আগে থেকেই পাওয়া গেছে। নাসার ক্যাসিনি মহাকাশযান ও জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণেও উপগ্রহটির পৃষ্ঠ থেকে জলীয় বাষ্প ও বরফকণার নির্গমন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
একই সময়ে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, এনসেলাডাসের বাষ্পীয় ফোয়ারা থেকে বের হওয়া বরফকণায় সমুদ্রের বিভিন্ন উপাদান আলাদা হয়ে তুলনামূলকভাবে ঘনীভূত হতে পারে। এতে ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানে সম্ভাব্য জৈবচিহ্ন শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার প্রস্তাবিত L4 মিশন এনসেলাডাসে অবতরণ করে সম্ভাব্য প্রাণের চিহ্ন অনুসন্ধানের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী ২০৪২ সালের দিকে উৎক্ষেপণ এবং ২০৫০-এর দশকে সেখানে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬
শনির উপগ্রহ এনসেলাডাসে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আশার কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণাগারে এনসেলাডাসের ভূগর্ভস্থ মহাসাগরের মতো পরিবেশ তৈরি করে পৃথিবীর একটি অণুজীবকে সেখানে বেড়ে উঠতে দেখা গেছে।
গবেষণায় জাপানের ওকিনাওয়া ট্রাফের গভীর সমুদ্রের হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট থেকে পাওয়া Methanothermococcus okinawensis নামের এক ধরনের মিথেনোজেন অণুজীব ব্যবহার করা হয়। এটি হাইড্রোজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে মিথেন উৎপন্ন করে।
গবেষকেরা পানি, লবণ ও খনিজের মিশ্রণের মাধ্যমে এনসেলাডাসের সমুদ্রের রাসায়নিক পরিবেশের অনুকরণ করেন। সেখানে পানির সঙ্গে পাথরের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় হাইড্রোজেন তৈরি হয়, যা অণুজীবটির বিপাকক্রিয়ার জন্য শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কৃত্রিম পরিবেশে পানির পিএইচ ১১ পর্যন্ত পৌঁছালেও অণুজীবটি বেড়ে উঠতে সক্ষম হয়। কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকলেও অণুজীবটি বিপাকক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে তা ব্যবহার করতে পেরেছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে এনসেলাডাসে প্রাণ পাওয়া গেছে। গবেষণাটি শুধু দেখিয়েছে, পৃথিবীর একটি অণুজীব সেখানে ধারণা করা পরিবেশে স্বল্পমেয়াদে টিকে ও বেড়ে উঠতে পারে। পরীক্ষাটি কয়েক দিনের ছিল; দীর্ঘ সময় এমন পরিবেশে প্রাণ টিকে থাকতে পারবে কি না, তা এখনো অজানা।
এনসেলাডাসের বরফের নিচে বিশাল লবণাক্ত মহাসাগর থাকার প্রমাণ আগে থেকেই পাওয়া গেছে। নাসার ক্যাসিনি মহাকাশযান ও জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণেও উপগ্রহটির পৃষ্ঠ থেকে জলীয় বাষ্প ও বরফকণার নির্গমন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
একই সময়ে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, এনসেলাডাসের বাষ্পীয় ফোয়ারা থেকে বের হওয়া বরফকণায় সমুদ্রের বিভিন্ন উপাদান আলাদা হয়ে তুলনামূলকভাবে ঘনীভূত হতে পারে। এতে ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানে সম্ভাব্য জৈবচিহ্ন শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার প্রস্তাবিত L4 মিশন এনসেলাডাসে অবতরণ করে সম্ভাব্য প্রাণের চিহ্ন অনুসন্ধানের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী ২০৪২ সালের দিকে উৎক্ষেপণ এবং ২০৫০-এর দশকে সেখানে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন