ঢাকার কণ্ঠ

নানা পাটেকরের অজানা এক মানবিক গল্প

নানা পাটেকরের অজানা এক মানবিক গল্প

ভারতের গোয়ায় নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নানা পাটেকর। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নানা পাটেকরের প্রয়াণের পর তার নানা মানবিক ও উদারতার গল্প সামনে আসছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে বিশিষ্ট চিত্রনাট্যকার, ঔপন্যাসিক ও অভিনেতা রণবীর পুষ্প নানা পাটেকরের বড় মনের পরিচয় দিয়ে একটি দারুণ ঘটনার কথা শেয়ার করেছিলেন।

নানা পাটেকরের রাগী স্বভাব নিয়ে কিছু মানুষের সমালোচনার জবাবে রণবীর পুষ্প জানান, প্রযোজকদের জন্য নাকি তিনি সমস্যার কারণ হতে পারতেন—এমন গুঞ্জন পুরোপুরি ভিত্তিহীন। বরং কৃষকদের আত্মহত্যার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি নানা পাটেকরের যে গভীর সহমর্মিতা ছিল, তা অনুকরণীয়।

কৃষক পরিবারগুলোকে সাহায্য করার জন্য তিনি দেড় কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি কেনা বাতিল করেছিলেন এবং সেই টাকা ১৫ হাজার টাকার চেকের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছিলেন।

সিদ্ধার্থ কান্নানের পডকাস্টে রণবীর পুষ্প বলেন, ‘একদিন তিনি খবরে দেখলেন কৃষকদের আত্মহত্যার পর পরিবারগুলো শোকে ভেঙে পড়েছে। অথচ ঠিক পরের দিনই তার দেড় কোটি টাকা দিয়ে একটি গাড়ি কেনার কথা ছিল। কিন্তু গাড়ি না কিনে তিনি তার এক শিল্পীকে ফোন করে বলেন, ১৫ হাজার টাকার চেক বানিয়ে সেগুলো কৃষক পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণ করতে। যিনি কৃষকদের চোখের জল মুছতে জানেন, তিনি কারও ক্ষতি করতে পারেন না। তিনি ‘নাম ফাউন্ডেশন’ গড়ে তুলেছিলেন, যা আজ পর্যন্ত অজস্র মানুষের তহবিল সংগ্রহ করেছে। তিনি নিজেও একটি খামারবাড়িতে সাধারণ জীবনযাপন করতেন।’

নানা পাটেকরের মেজাজ নিয়ে রণবীর পুষ্প স্পষ্ট জানান, তিনি কেবল অন্যায়ের প্রতিবাদেই মেজাজ হারাতেন। একবার রাস্তায় ময়লা ফেলার কারণে এক নাগরিককে ধমক দেওয়ার একটি ঘটনার কথা স্মরণ করেন তিনি।

রণবীর পুষ্প জানান, ‘তিনি গাড়ি থামিয়ে বোতলটি কুড়িয়ে নেন। এরপর ট্রাফিক সিগন্যালে গিয়ে ওই গাড়ির চালককে থামতে বলেন এবং কাঁচ নামাতে বলেন। নানা তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘ভারতকে পরিষ্কার কে রাখবে? গান্ধীজি তো চলে গেছেন, কিন্তু আপনি তো এই পৃথিবীতেই আছেন। তাহলে দেশটাকে পরিষ্কার রাখা কি একজন নাগরিক হিসেবে আপনার দায়িত্ব নয়? আমি যদি আপনার গাড়িটাকে ডাস্টবিন ভেবে এই বোতলটি ভেতরে ছুড়ে দিই, তবে কেমন লাগবে?’

‘অগ্নিসাক্ষী’ সিনেমায় চিত্রনাট্যকার হিসেবে নানা পাটেকরের সঙ্গে কাজ করেছিলেন রণবীর পুষ্প। ওই সিনেমায় নানা মূল চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।

বিষয় : নানা পাটেকর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


নানা পাটেকরের অজানা এক মানবিক গল্প

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের গোয়ায় নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নানা পাটেকর। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নানা পাটেকরের প্রয়াণের পর তার নানা মানবিক ও উদারতার গল্প সামনে আসছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে বিশিষ্ট চিত্রনাট্যকার, ঔপন্যাসিক ও অভিনেতা রণবীর পুষ্প নানা পাটেকরের বড় মনের পরিচয় দিয়ে একটি দারুণ ঘটনার কথা শেয়ার করেছিলেন।

নানা পাটেকরের রাগী স্বভাব নিয়ে কিছু মানুষের সমালোচনার জবাবে রণবীর পুষ্প জানান, প্রযোজকদের জন্য নাকি তিনি সমস্যার কারণ হতে পারতেন—এমন গুঞ্জন পুরোপুরি ভিত্তিহীন। বরং কৃষকদের আত্মহত্যার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি নানা পাটেকরের যে গভীর সহমর্মিতা ছিল, তা অনুকরণীয়।

কৃষক পরিবারগুলোকে সাহায্য করার জন্য তিনি দেড় কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি কেনা বাতিল করেছিলেন এবং সেই টাকা ১৫ হাজার টাকার চেকের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছিলেন।

সিদ্ধার্থ কান্নানের পডকাস্টে রণবীর পুষ্প বলেন, ‘একদিন তিনি খবরে দেখলেন কৃষকদের আত্মহত্যার পর পরিবারগুলো শোকে ভেঙে পড়েছে। অথচ ঠিক পরের দিনই তার দেড় কোটি টাকা দিয়ে একটি গাড়ি কেনার কথা ছিল। কিন্তু গাড়ি না কিনে তিনি তার এক শিল্পীকে ফোন করে বলেন, ১৫ হাজার টাকার চেক বানিয়ে সেগুলো কৃষক পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণ করতে। যিনি কৃষকদের চোখের জল মুছতে জানেন, তিনি কারও ক্ষতি করতে পারেন না। তিনি ‘নাম ফাউন্ডেশন’ গড়ে তুলেছিলেন, যা আজ পর্যন্ত অজস্র মানুষের তহবিল সংগ্রহ করেছে। তিনি নিজেও একটি খামারবাড়িতে সাধারণ জীবনযাপন করতেন।’

নানা পাটেকরের মেজাজ নিয়ে রণবীর পুষ্প স্পষ্ট জানান, তিনি কেবল অন্যায়ের প্রতিবাদেই মেজাজ হারাতেন। একবার রাস্তায় ময়লা ফেলার কারণে এক নাগরিককে ধমক দেওয়ার একটি ঘটনার কথা স্মরণ করেন তিনি।

রণবীর পুষ্প জানান, ‘তিনি গাড়ি থামিয়ে বোতলটি কুড়িয়ে নেন। এরপর ট্রাফিক সিগন্যালে গিয়ে ওই গাড়ির চালককে থামতে বলেন এবং কাঁচ নামাতে বলেন। নানা তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘ভারতকে পরিষ্কার কে রাখবে? গান্ধীজি তো চলে গেছেন, কিন্তু আপনি তো এই পৃথিবীতেই আছেন। তাহলে দেশটাকে পরিষ্কার রাখা কি একজন নাগরিক হিসেবে আপনার দায়িত্ব নয়? আমি যদি আপনার গাড়িটাকে ডাস্টবিন ভেবে এই বোতলটি ভেতরে ছুড়ে দিই, তবে কেমন লাগবে?’

‘অগ্নিসাক্ষী’ সিনেমায় চিত্রনাট্যকার হিসেবে নানা পাটেকরের সঙ্গে কাজ করেছিলেন রণবীর পুষ্প। ওই সিনেমায় নানা মূল চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত