ঢাকার কণ্ঠ

শেখ হাসিনা ছাড়া গোপালগঞ্জের ভোট

শেখ হাসিনা ছাড়া গোপালগঞ্জের ভোট

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। দলটির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, নেতাকর্মীরা রয়েছেন কারাগারে কিংবা আত্মগোপনে। অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালটে নেই নৌকা প্রতীক।

এরপরও আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে ফাঁকা নেই ভোটের মাঠ। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছেন প্রার্থীরা।

গোপালগঞ্জ-৩ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনি এলাকা হিসেবে পরিচিত। টুঙ্গিপাড়া ও কোটালিপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে রয়েছে শেখ হাসিনার পৈত্রিক বাড়ি এবং শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ।

আসনটিতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এস. এম. জিলানী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আবুল বাসার, যিনি ট্রাক প্রতীক নিয়ে লড়াই করছেন।

এ ছাড়াও এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস,  মো. আজিজ, মো. মারুফ শেখ ও শেখ সালাউদ্দিন।

প্রচারে লক্ষ করা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে থাকা আসনটিতে এবার উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনি কর্মকাণ্ড চলছে। ব্যানারে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। পথসভায় সরব হয়ে উঠেছেন প্রার্থীরা।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক গোপালগঞ্জের এক বাসিন্দা বলেন, শেখ হাসিনা ও তার অনুসারীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে মানুষকে দীর্ঘদিন জোর করে সমর্থন আদায় করত। এই জেলায় অনেক মানুষ তাকে পছন্দ করত না, কিন্তু ভয়ে মুখ খোলার সাহস পেত না।

কোটালিপাড়ার আরেক বাসিন্দা বলেন, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়ার মোড় সবখানেই নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বহুদিন পর নিজের ভোট নিজে দিতে পারব বলে আশা করছি।

স্থানীয় এক তরুণ ভোটার রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি। কেন্দ্রে গিয়ে শুনেছি আমার ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। এবার সত্যিকারেই ভোট দিতে পারব এজন্য নিজের ভেতরে এক ধরনের আনন্দ কাজ করছে।

তবে কেউ কেউ আবার ভোট দিতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন, কার্যচক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ভোট না দেওয়ার জন্য হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেখ হাসিনা ছাড়া গোপালগঞ্জের এই নির্বাচন শুধু একটি আসনের ভোট নয় বরং এটি ক্ষমতা পরিবর্তনের পর জনগণের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার একটি বড় পরীক্ষা।

বিষয় : গোপালগঞ্জ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শেখ হাসিনা ছাড়া গোপালগঞ্জের ভোট

প্রকাশের তারিখ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। দলটির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, নেতাকর্মীরা রয়েছেন কারাগারে কিংবা আত্মগোপনে। অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালটে নেই নৌকা প্রতীক।

এরপরও আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে ফাঁকা নেই ভোটের মাঠ। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছেন প্রার্থীরা।

গোপালগঞ্জ-৩ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনি এলাকা হিসেবে পরিচিত। টুঙ্গিপাড়া ও কোটালিপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে রয়েছে শেখ হাসিনার পৈত্রিক বাড়ি এবং শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ।

আসনটিতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এস. এম. জিলানী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আবুল বাসার, যিনি ট্রাক প্রতীক নিয়ে লড়াই করছেন।

এ ছাড়াও এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস,  মো. আজিজ, মো. মারুফ শেখ ও শেখ সালাউদ্দিন।

প্রচারে লক্ষ করা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে থাকা আসনটিতে এবার উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনি কর্মকাণ্ড চলছে। ব্যানারে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। পথসভায় সরব হয়ে উঠেছেন প্রার্থীরা।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক গোপালগঞ্জের এক বাসিন্দা বলেন, শেখ হাসিনা ও তার অনুসারীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে মানুষকে দীর্ঘদিন জোর করে সমর্থন আদায় করত। এই জেলায় অনেক মানুষ তাকে পছন্দ করত না, কিন্তু ভয়ে মুখ খোলার সাহস পেত না।

কোটালিপাড়ার আরেক বাসিন্দা বলেন, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়ার মোড় সবখানেই নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বহুদিন পর নিজের ভোট নিজে দিতে পারব বলে আশা করছি।

স্থানীয় এক তরুণ ভোটার রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি। কেন্দ্রে গিয়ে শুনেছি আমার ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। এবার সত্যিকারেই ভোট দিতে পারব এজন্য নিজের ভেতরে এক ধরনের আনন্দ কাজ করছে।

তবে কেউ কেউ আবার ভোট দিতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন, কার্যচক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ভোট না দেওয়ার জন্য হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেখ হাসিনা ছাড়া গোপালগঞ্জের এই নির্বাচন শুধু একটি আসনের ভোট নয় বরং এটি ক্ষমতা পরিবর্তনের পর জনগণের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার একটি বড় পরীক্ষা।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত