ঢাকার কণ্ঠ

আয়াতুল কুরসি

আয়াতুল কুরসি

প্রিয় পাঠক, আসুন অন্তত একটিবার পাঠ করি 

''আল্লাহু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়ুম, লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম। লাহু মা-ফিসসামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ্ব। মান জাল্লাজি ইয়াশফা’উ ইনদাহু ইল্লা বিইজনিহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম। ওয়ালা ইয়ুহিতুনা বিশাইইম মিন্ ইলমিহি ইল্লা বিমা- শাআ। ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়াতি ওয়াল আরদ্ব। ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুয়াল আলিয়্যূল আজিম।"

অর্থ হচ্ছে, "আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্ৰাও নহে। আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা কিছুই রয়েছে সবই তার। কে সে, যে তার অনুমতি ব্যতীত তার কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তার জ্ঞানের কোন কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তার কুরসী আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে,  আর এ দু’টোর রক্ষণাবেক্ষণ তার জন্য বোঝা হয় ন।  আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।''

উল্লেখিত আয়াতে কারিমা পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআনুল কারীমের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় সূরা আল বাকারার ২৫৫তম আয়াত। গুরুত্বপূর্ণ এই আয়াতে কারিমা যা আয়াতুল কুরসি নামে পরিচিত।  

 আয়াতুল কুরসির গুরুত্ব অপরশীম। বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ তিরমিজি শরীফে উল্লেখ রয়েছে,   রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

“প্রতিটি জিনিসের একটি চূড়া থাকে। কোরআনের চূড়া হলো সুরা বাকারা। এ সুরায় এমন একটি আয়াত আছে, যা কোরআনের অন্য আয়াতের ‘নেতা তাসেটা হলো "আয়াতুল কুরসি।” 

এজন্য আয়াতুল কুরসি কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আবু জর জুনদুব ইবনে জানাদাহ (রা:) প্রিয় নবী (সঃ) কে জিজ্ঞেস করেছিলেন,'হে আল্লাহর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনার প্রতি সবচেয়ে মর্যাদাসম্পূর্ণ কোন আয়াতটি নাজিল হয়েছে? উত্তরে প্রিয় নবী (সা:)  বলেছিলেন, আয়াতুল কুরসি।' (নাসায়ি শরীফ)

 আয়াতুল কুরসি পবিত্র কোরআন শরীফের শ্রেষ্ঠ আয়াত যা সাহাবায়ে কেরামগনও জানতেন। এ প্রসঙ্গে উবাই বিন কাব (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) উবাই বিন কাবকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমার দৃষ্টিতে কোরআন মাজিদের কোন আয়াতটি সর্ব শ্রেষ্ঠ? তিনি বলেছিলেন, আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুআল হাইয়্যুল কাইয়্যুম তথা আয়াতুল কুরসি। তারপর রাসুল (সা.) নিজ হাত দিয়ে তাঁর বুকে মৃদু আঘাত করে বলেন, আবুল মুনজির! এই জ্ঞানের কারণে তোমাকে মোবারকবাদ।'  (মুসলিম শরীফ)

দুনিয়ার এই জীবনে কম বেশী বিপদ আপদ কিংবা অশান্তিতে থাকতে হয়। সকল ধরনের বিপদ আপদ ও অশান্ত মন ও পারিবারিক বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আয়াতুল কুরসি পাঠের বিকল্প নেই। আয়াতুল কুরসি পাঠের মাধ্যমে পরিবারে শান্তি বিরাজ করে।  এ বিষয়ে বিশিষ্ট সাহাবী হজরত আলী (রা.) বলেন, আমি রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি এ আয়াতটি আয়াতুল কুরসি বিছানায় শোয়ার সময় পড়বে; আল্লাহ তার ঘরে বা সংসারে, প্রতিবেশীর ঘরে এবং আশপাশের সব ঘর-সংসারে শান্তি বজায় রাখবেন।’ (বাইহাকি শরীফ)

জান্নাতে যাওয়ার সহজ উপায় হল  আয়াতুল কুরসী পাঠ। পবিত্র এই আয়াত নিয়মিত পাঠ করিলে মহান আল্লাহ স্বীয় বান্দাকে জান্নাতে প্রবেশ সহজ করে দেন। আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়বে, তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ব্যতীত আর কোনো বাঁধা থাকবে না।' (নাসায়ি শরীফ)

শয়তান থেকে রক্ষা পেতে আয়াতুল কুরসি পাঠ জরুরী।   প্রিয় নবী (সাঃ) বলেছেন,  সকালে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান থেকে রক্ষা পাবে এবং যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে সে সকাল পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে। এমনকি পবিত্র আয়াতুল কুরসি পাঠ করিলে বাসা বাড়ি থেকেও শয়তান পালিয়ে যায়, যা হজরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, সূরা বাকারায় একটি শ্রেষ্ঠ আয়াত রয়েছে, যে ঘরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করা হবে সেখান থেকে শয়তান পালাতে থাকে। শুধু তাই নয়, আয়াতুল কুরসি ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা সারারাত একজন ফেরেস্তা নিযুক্ত করে রাখেন। রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বিছানায় যাওয়ার সময় আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে তার জন্য একজন প্রহরী নিযুক্ত করা হবে এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তার কাছে আসবে না।’ (বুখারি শরীফ)

জাদু,বদ নজর ও সকল ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত আয়াতুল কুরসি পাঠ করি। পরিবার সহ অন্যকে পাঠ করার জন্য উৎসাহ প্রদান করি। নিজের জীবনকে কোরআনে রঙে রাঙিয়ে হৃদয়ে আলোকিত করি। হে আল্লাহ আপনি প্রিয় বান্দা হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

লেখক: ইসলামি গবেষক।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আয়াতুল কুরসি

প্রকাশের তারিখ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

প্রিয় পাঠক, আসুন অন্তত একটিবার পাঠ করি 

''আল্লাহু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়ুম, লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম। লাহু মা-ফিসসামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ্ব। মান জাল্লাজি ইয়াশফা’উ ইনদাহু ইল্লা বিইজনিহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম। ওয়ালা ইয়ুহিতুনা বিশাইইম মিন্ ইলমিহি ইল্লা বিমা- শাআ। ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়াতি ওয়াল আরদ্ব। ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুয়াল আলিয়্যূল আজিম।"

অর্থ হচ্ছে, "আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্ৰাও নহে। আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা কিছুই রয়েছে সবই তার। কে সে, যে তার অনুমতি ব্যতীত তার কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তার জ্ঞানের কোন কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তার কুরসী আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে,  আর এ দু’টোর রক্ষণাবেক্ষণ তার জন্য বোঝা হয় ন।  আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।''

উল্লেখিত আয়াতে কারিমা পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআনুল কারীমের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় সূরা আল বাকারার ২৫৫তম আয়াত। গুরুত্বপূর্ণ এই আয়াতে কারিমা যা আয়াতুল কুরসি নামে পরিচিত।  

 আয়াতুল কুরসির গুরুত্ব অপরশীম। বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ তিরমিজি শরীফে উল্লেখ রয়েছে,   রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

“প্রতিটি জিনিসের একটি চূড়া থাকে। কোরআনের চূড়া হলো সুরা বাকারা। এ সুরায় এমন একটি আয়াত আছে, যা কোরআনের অন্য আয়াতের ‘নেতা তাসেটা হলো "আয়াতুল কুরসি।” 

এজন্য আয়াতুল কুরসি কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আবু জর জুনদুব ইবনে জানাদাহ (রা:) প্রিয় নবী (সঃ) কে জিজ্ঞেস করেছিলেন,'হে আল্লাহর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনার প্রতি সবচেয়ে মর্যাদাসম্পূর্ণ কোন আয়াতটি নাজিল হয়েছে? উত্তরে প্রিয় নবী (সা:)  বলেছিলেন, আয়াতুল কুরসি।' (নাসায়ি শরীফ)

 আয়াতুল কুরসি পবিত্র কোরআন শরীফের শ্রেষ্ঠ আয়াত যা সাহাবায়ে কেরামগনও জানতেন। এ প্রসঙ্গে উবাই বিন কাব (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) উবাই বিন কাবকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমার দৃষ্টিতে কোরআন মাজিদের কোন আয়াতটি সর্ব শ্রেষ্ঠ? তিনি বলেছিলেন, আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুআল হাইয়্যুল কাইয়্যুম তথা আয়াতুল কুরসি। তারপর রাসুল (সা.) নিজ হাত দিয়ে তাঁর বুকে মৃদু আঘাত করে বলেন, আবুল মুনজির! এই জ্ঞানের কারণে তোমাকে মোবারকবাদ।'  (মুসলিম শরীফ)

দুনিয়ার এই জীবনে কম বেশী বিপদ আপদ কিংবা অশান্তিতে থাকতে হয়। সকল ধরনের বিপদ আপদ ও অশান্ত মন ও পারিবারিক বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আয়াতুল কুরসি পাঠের বিকল্প নেই। আয়াতুল কুরসি পাঠের মাধ্যমে পরিবারে শান্তি বিরাজ করে।  এ বিষয়ে বিশিষ্ট সাহাবী হজরত আলী (রা.) বলেন, আমি রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি এ আয়াতটি আয়াতুল কুরসি বিছানায় শোয়ার সময় পড়বে; আল্লাহ তার ঘরে বা সংসারে, প্রতিবেশীর ঘরে এবং আশপাশের সব ঘর-সংসারে শান্তি বজায় রাখবেন।’ (বাইহাকি শরীফ)

জান্নাতে যাওয়ার সহজ উপায় হল  আয়াতুল কুরসী পাঠ। পবিত্র এই আয়াত নিয়মিত পাঠ করিলে মহান আল্লাহ স্বীয় বান্দাকে জান্নাতে প্রবেশ সহজ করে দেন। আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়বে, তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ব্যতীত আর কোনো বাঁধা থাকবে না।' (নাসায়ি শরীফ)

শয়তান থেকে রক্ষা পেতে আয়াতুল কুরসি পাঠ জরুরী।   প্রিয় নবী (সাঃ) বলেছেন,  সকালে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান থেকে রক্ষা পাবে এবং যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে সে সকাল পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে। এমনকি পবিত্র আয়াতুল কুরসি পাঠ করিলে বাসা বাড়ি থেকেও শয়তান পালিয়ে যায়, যা হজরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, সূরা বাকারায় একটি শ্রেষ্ঠ আয়াত রয়েছে, যে ঘরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করা হবে সেখান থেকে শয়তান পালাতে থাকে। শুধু তাই নয়, আয়াতুল কুরসি ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা সারারাত একজন ফেরেস্তা নিযুক্ত করে রাখেন। রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বিছানায় যাওয়ার সময় আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে তার জন্য একজন প্রহরী নিযুক্ত করা হবে এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তার কাছে আসবে না।’ (বুখারি শরীফ)

জাদু,বদ নজর ও সকল ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত আয়াতুল কুরসি পাঠ করি। পরিবার সহ অন্যকে পাঠ করার জন্য উৎসাহ প্রদান করি। নিজের জীবনকে কোরআনে রঙে রাঙিয়ে হৃদয়ে আলোকিত করি। হে আল্লাহ আপনি প্রিয় বান্দা হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

লেখক: ইসলামি গবেষক।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত