প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর পূর্ণ করল জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)—একটি অরাজনৈতিক, জনকল্যাণমূলক ও মানবিক প্রতিষ্ঠান। এর প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় জেডআরএফ বিশ্বাস করে, মানুষের সেবা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি মানবিক দায়িত্ব। মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই এর সবচেয়ে বড় পরিচয়।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে জেডআরএফ দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা, পুনর্বাসন ও সামাজিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অ্যাজমা সেন্টার, বগুড়ার শিশুস্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে হাঁস-মুরগি ও ছাগল বিতরণ, এবং তীব্র পানিসংকটে থাকা দাশেরকান্দিতে সুপেয় পানির ট্যাংক স্থাপন—এসব উদ্যোগ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও জীবনমান উন্নয়নে ফাউন্ডেশনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
দেশজুড়ে শত শত স্বাস্থ্যশিবির, ছানি রোগীদের জন্য চক্ষুশিবির, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও সহায়তা, পশুসম্পদ রক্ষায় ভেটেরিনারি ক্যাম্প এবং বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বড় দুর্ঘটনায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো—জেডআরএফের কার্যক্রমের বিস্তৃতি প্রমাণ করে। কোভিড-১৯ মহামারির শুরুতেই চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করে সহায়তামূলক কার্যক্রম গ্রহণও ছিল এর উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর একটি।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নে অঙ্গহানি ও গুরুতর শারীরিক ক্ষতির শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও সহায়তায় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ মানবিক দায়বদ্ধতার এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
জুলাইয়ের শহীদ পরিবারগুলোর কাছে ঈদ উপহার পৌঁছে দিতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চললেও সরাসরি পৌঁছানোর প্রচেষ্টা প্রমাণ করে—মানবতার সেবা দূরত্ব বা অবস্থানের সীমা মানে না।
শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে বহু মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছে জেডআরএফ। তাদের অনেকে আজ চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও সেনা কর্মকর্তা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। এই সাফল্য শুধু ব্যক্তির নয়; এটি একটি মানবিক উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগের প্রতিফলন।
তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও সৃজনশীল চিন্তার সঙ্গে যুক্ত করতেও জেডআরএফের উদ্যোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে আয়োজিত বিজ্ঞান মেলা শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এসব মেলায় বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শন, উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন, প্রশ্নোত্তর ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা, দলগত কাজ ও নেতৃত্বের গুণ বিকশিত হচ্ছে। বিজ্ঞান মেলা কেবল একটি প্রদর্শনী নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুক্তিবাদী, প্রযুক্তিসচেতন ও দেশগঠনে সক্রিয় নাগরিক হিসাবে প্রস্তুত করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।
এই উদ্যোগে তারেক রহমানের প্রতিকৃতি যেন মানবিক নেতৃত্বের একটি প্রতীকী চিত্র হয়ে ওঠে—যেখানে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, তরুণদের প্রতি আস্থা এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যয় একসূত্রে মিলিত। তাঁর নেতৃত্বের ভাবনায় জেডআরএফের মানবিক কার্যক্রম যেমন মানুষের দুঃসময়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়, তেমনি বিজ্ঞান মেলার মতো উদ্যোগ তরুণদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের শক্তি জোগায়।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে জেডআরএফ মানুষের জন্য কাজ করার পরিসর আরও বিস্তৃত করতে চায়। স্বাস্থ্যসচেতনতা, পরিবেশ ও নিরাপদ পানি, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য, অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, বিজ্ঞানশিক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মের বিজ্ঞানমনস্কতা বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মানুষের জন্য, মানবতার জন্য এবং জ্ঞানভিত্তিক ভবিষ্যতের জন্য—জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের এই পথচলা অব্যাহত থাকুক। জেডআরএফের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সকল শুভানুধ্যায়ী, স্বেচ্ছাসেবক, চিকিৎসক, দাতা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সহযোগীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা।
লেখক: পরিচালক, বাংলাদেশ ক্যান্সার হাসপাতাল।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর পূর্ণ করল জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)—একটি অরাজনৈতিক, জনকল্যাণমূলক ও মানবিক প্রতিষ্ঠান। এর প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় জেডআরএফ বিশ্বাস করে, মানুষের সেবা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি মানবিক দায়িত্ব। মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই এর সবচেয়ে বড় পরিচয়।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে জেডআরএফ দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা, পুনর্বাসন ও সামাজিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অ্যাজমা সেন্টার, বগুড়ার শিশুস্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে হাঁস-মুরগি ও ছাগল বিতরণ, এবং তীব্র পানিসংকটে থাকা দাশেরকান্দিতে সুপেয় পানির ট্যাংক স্থাপন—এসব উদ্যোগ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও জীবনমান উন্নয়নে ফাউন্ডেশনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
দেশজুড়ে শত শত স্বাস্থ্যশিবির, ছানি রোগীদের জন্য চক্ষুশিবির, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও সহায়তা, পশুসম্পদ রক্ষায় ভেটেরিনারি ক্যাম্প এবং বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বড় দুর্ঘটনায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো—জেডআরএফের কার্যক্রমের বিস্তৃতি প্রমাণ করে। কোভিড-১৯ মহামারির শুরুতেই চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করে সহায়তামূলক কার্যক্রম গ্রহণও ছিল এর উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর একটি।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নে অঙ্গহানি ও গুরুতর শারীরিক ক্ষতির শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও সহায়তায় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ মানবিক দায়বদ্ধতার এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
জুলাইয়ের শহীদ পরিবারগুলোর কাছে ঈদ উপহার পৌঁছে দিতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চললেও সরাসরি পৌঁছানোর প্রচেষ্টা প্রমাণ করে—মানবতার সেবা দূরত্ব বা অবস্থানের সীমা মানে না।
শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে বহু মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছে জেডআরএফ। তাদের অনেকে আজ চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও সেনা কর্মকর্তা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। এই সাফল্য শুধু ব্যক্তির নয়; এটি একটি মানবিক উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগের প্রতিফলন।
তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও সৃজনশীল চিন্তার সঙ্গে যুক্ত করতেও জেডআরএফের উদ্যোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে আয়োজিত বিজ্ঞান মেলা শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এসব মেলায় বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শন, উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন, প্রশ্নোত্তর ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা, দলগত কাজ ও নেতৃত্বের গুণ বিকশিত হচ্ছে। বিজ্ঞান মেলা কেবল একটি প্রদর্শনী নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুক্তিবাদী, প্রযুক্তিসচেতন ও দেশগঠনে সক্রিয় নাগরিক হিসাবে প্রস্তুত করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।
এই উদ্যোগে তারেক রহমানের প্রতিকৃতি যেন মানবিক নেতৃত্বের একটি প্রতীকী চিত্র হয়ে ওঠে—যেখানে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, তরুণদের প্রতি আস্থা এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যয় একসূত্রে মিলিত। তাঁর নেতৃত্বের ভাবনায় জেডআরএফের মানবিক কার্যক্রম যেমন মানুষের দুঃসময়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়, তেমনি বিজ্ঞান মেলার মতো উদ্যোগ তরুণদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের শক্তি জোগায়।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে জেডআরএফ মানুষের জন্য কাজ করার পরিসর আরও বিস্তৃত করতে চায়। স্বাস্থ্যসচেতনতা, পরিবেশ ও নিরাপদ পানি, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য, অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, বিজ্ঞানশিক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মের বিজ্ঞানমনস্কতা বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মানুষের জন্য, মানবতার জন্য এবং জ্ঞানভিত্তিক ভবিষ্যতের জন্য—জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের এই পথচলা অব্যাহত থাকুক। জেডআরএফের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সকল শুভানুধ্যায়ী, স্বেচ্ছাসেবক, চিকিৎসক, দাতা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সহযোগীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা।
লেখক: পরিচালক, বাংলাদেশ ক্যান্সার হাসপাতাল।

আপনার মতামত লিখুন