১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মানবসেবা ও জনকল্যাণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)।
স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ২৭ বছরের পথচলা সম্পন্ন করেছে।
ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত এই বিশেষ ক্রোড়পত্রে তুলে ধরা হয়েছে সংগঠনটির মানবিক কার্যক্রম, উল্লেখযোগ্য অর্জন ও ভবিষ্যৎ অঙ্গীকার।
এতে রয়েছে ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের বাণী, পরিচালকদের মূল্যায়ন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের শুভেচ্ছা। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহায়তা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের এই অভিযাত্রা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
-: জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্টের বাণী:-
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী বিশেষ করে চিকিৎসক, কৃষিবিদ, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, স্বেচ্ছাসেবক, শুভানুধ্যায়ী এবং মানবতার সেবায় নিয়োজিত সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে ১৯৯৯ সালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-জেডআরএফ-এর পথচলা শুরু হয়েছিল। মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই হচ্ছে জেডআরএফ-এর ব্রত। অর্থের অভাবে যারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারেন না, সেই পিছিয়ে পড়া ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে জেডআরএফ তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছে।
দীর্ঘ ২৭ বছরের পথচলা সবসময় মসৃণ ছিল না। নানা প্রতিকূলতা, বিশেষ করে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের সময় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও মানবসেবার যে অঙ্গীকার নিয়ে জেডআরএফ-এর জন্ম, তা কখনো থেমে যায়নি। প্রতিকূলতার মধ্যেও এই সংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ও চিকিৎসকগণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
যে কোনো দুর্যোগে ছুটে গেছেন দুর্গত মানুষের কাছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মহামারি কিংবা অন্য কোনো মানবিক সংকটে মানুষ যখন অসহায়, তখন জেডআরএফ-এর কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা নিজেদের নিরাপত্তার কথা না ভেবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের কঠিন সময়েও সংগঠনের সদস্যরা আন্দোলনকারী ও আহত মানুষের জীবন রক্ষায় সাহসের সঙ্গে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন।
সংগঠনের গৌরবময় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এই দিনে আমি বিশেষভাবে সেসব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের স্মরণ করতে চাই, যারা মানব সেবাকে কেবল পেশা হিসেবে নয় বরং মানুষের প্রতি দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন। প্রতিকূল সময়ে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা
অসুস্থ, আহত ও বিপন্ন মানুষের চিকিৎসা দিয়েছেন, তাদের অবদান কোনোদিন বিস্মৃত হওয়ার নয়। মানুষের জীবন বাঁচানোর চেয়ে মহৎ কাজ আর কী হতে পারে?
আমি বিশ্বাস করি, একটি সংগঠনের প্রকৃত শক্তি তার ভবন, অর্থ কিংবা সাংগঠনিক কাঠামোতে নয়; তার প্রকৃত শক্তি মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতায়। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—দুঃসময়ে মানুষের পাশে থাকার এই মানসিকতা, যা আজও অটুট রয়েছে।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, অতীতের মতো আগামী দিনেও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন তাদের কর্মপরিধি আরও বিস্তৃত করবে, সেবার পরিসর আরও বাড়াবে। চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা, কৃষি, দুর্যোগ মোকাবিলা, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে হবে। একটি অসহায় মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, একজন দরিদ্র শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেওয়া, একজন কৃষকের পাশে দাঁড়ানো কিংবা দুর্যোগে বিপন্ন একটি পরিবারের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়াও মানবতার একেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক—মানুষের দুঃখে আমরা পাশে থাকব, তাদের বিপদে এগিয়ে যাব এবং সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে প্রতিটি অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করব। যারা গত ২৭ বছর ধরে নীরবে, নিঃস্বার্থভাবে এবং সাহসের সঙ্গে মানবসেবার এই অভিযাত্রাকে এগিয়ে নিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি রইল আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা।
আসুন, মানবতার পতাকাকে আরও উঁচুতে তুলে ধরি। মানুষের সেবাকে আমাদের পরিচয় এবং মানবতাকে আমাদের পথচলার প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করি। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সফল ও সার্থক হোক। আল্লাহ আমাদের সবাইকে মানুষের কল্যাণে কাজ করার তৌফিক দান করুন।
তারেক রহমান। প্রেসিডেন্ট, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন
-:জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্টের বাণী:-
১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর আর্তমানবতার সেবায় জন্ম নেওয়া জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) আজ তার কলেবর বৃদ্ধি করে বিভিন্ন পেশার মানুষকে একই ছাদের নিচে এনে পরস্পরের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের বীজ বপন করতে সক্ষম হয়েছে। একটি অরাজনৈতিক, বেসরকারি ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় জনগণের প্রয়োজনে সেবা দিয়েছে বিরামহীনভাবে যা জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে করোনাকালীন সময়েও।
জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংগঠনটি মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, মানবিক মর্যাদা এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়। আজকে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন জাতির কাছে ভরসার এক প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ফাউন্ডেশনের প্রতিটি কাজ দেশ-বিদেশে হয়েছে সমাদৃত ও প্রশংসিত।
সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রেখে যাচ্ছে জেডআরএফ। একদিকে যেমন ছিল কোভিডকালীন মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে ভার্চুয়াল বিজ্ঞান মেলা : ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে, কড়াইলবাসীর হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের জন্য বিশেষায়িত মেডিকেল ক্যাম্প, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সচেতনতামূলক লিফলেট ও মশারী বিতরণ, মাইলস্টোন ট্রাজেডিতে আহত শিশুদের চিকিৎসার ব্যবস্থা, প্রাইমারি স্কুল সংস্কার। একই সাথে ছিল পরিবেশ রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো আয়োজন। উল্লেখ্য, ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত তৃতীয় বিজ্ঞান মেলা “ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে ২০২৬” অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
গরীব ও মেধাবী শিশুদের মাঝে বই বিতরণ, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের হেলথ চেক আপ ও ঔষধ প্রদানসহ শিক্ষা উপকরণ প্রদান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত সুরভি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত হেলথ চেক আপ ও ঔষধ প্রদানের ব্যবস্থা, বগুড়াতে মূক ও বধির স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন, ভাষানটেক, সাততলা, কড়াইলবাসী যেন নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পায় সেজন্য ভলান্টিয়ার টিম তৈরি করা, ভাষানটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশনসহ চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজনের মতো উদ্যোগগুলো কেবলমাত্র সামাজিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এই কর্মযজ্ঞে সম্পৃক্ত মানুষগুলোকে “যেখানেই ভাল কাজ সেখানেই জেডআরএফ” এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত করেছে।
প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে আজ অবধি অভিজ্ঞতা ও অর্জনের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন দেশের মানুষের আস্থার একটি মানবিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তার অবস্থান সুদৃঢ় করে চলেছে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বিজ্ঞানচর্চা, কৃষি, পরিবেশ, নারীর ক্ষমতায়ন ও দুর্যোগ মোকাবিলাসহ মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, ছোট ছোট উদ্যোগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
মানবিক সেবার এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রেসিডেন্ট জনাব তারেক রহমান-এর দেখানো পথেই এগিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। ২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত সকল সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা ও সেবার অঙ্গীকার নিয়ে আমাদের এই পথচলা অব্যাহত থাকুক। প্রতিটি উদ্যোগ মানুষের জীবনে স্বস্তি, সম্ভাবনা ও আত্মনির্ভরতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করুক।
পরিশেষে, ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আমি সকলের সুস্বাস্থ্য ও শুভকামনা করছি। আল্লাহ হাফেজ।
ডা. জুবাইদা রহমান। ভাইস-প্রেসিডেন্ট, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬
১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মানবসেবা ও জনকল্যাণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)।
স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ২৭ বছরের পথচলা সম্পন্ন করেছে।
ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত এই বিশেষ ক্রোড়পত্রে তুলে ধরা হয়েছে সংগঠনটির মানবিক কার্যক্রম, উল্লেখযোগ্য অর্জন ও ভবিষ্যৎ অঙ্গীকার।
এতে রয়েছে ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের বাণী, পরিচালকদের মূল্যায়ন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের শুভেচ্ছা। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহায়তা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের এই অভিযাত্রা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
-: জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্টের বাণী:-
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী বিশেষ করে চিকিৎসক, কৃষিবিদ, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, স্বেচ্ছাসেবক, শুভানুধ্যায়ী এবং মানবতার সেবায় নিয়োজিত সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে ১৯৯৯ সালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-জেডআরএফ-এর পথচলা শুরু হয়েছিল। মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই হচ্ছে জেডআরএফ-এর ব্রত। অর্থের অভাবে যারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারেন না, সেই পিছিয়ে পড়া ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে জেডআরএফ তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছে।
দীর্ঘ ২৭ বছরের পথচলা সবসময় মসৃণ ছিল না। নানা প্রতিকূলতা, বিশেষ করে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের সময় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও মানবসেবার যে অঙ্গীকার নিয়ে জেডআরএফ-এর জন্ম, তা কখনো থেমে যায়নি। প্রতিকূলতার মধ্যেও এই সংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ও চিকিৎসকগণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
যে কোনো দুর্যোগে ছুটে গেছেন দুর্গত মানুষের কাছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মহামারি কিংবা অন্য কোনো মানবিক সংকটে মানুষ যখন অসহায়, তখন জেডআরএফ-এর কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা নিজেদের নিরাপত্তার কথা না ভেবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের কঠিন সময়েও সংগঠনের সদস্যরা আন্দোলনকারী ও আহত মানুষের জীবন রক্ষায় সাহসের সঙ্গে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন।
সংগঠনের গৌরবময় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এই দিনে আমি বিশেষভাবে সেসব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের স্মরণ করতে চাই, যারা মানব সেবাকে কেবল পেশা হিসেবে নয় বরং মানুষের প্রতি দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন। প্রতিকূল সময়ে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা
অসুস্থ, আহত ও বিপন্ন মানুষের চিকিৎসা দিয়েছেন, তাদের অবদান কোনোদিন বিস্মৃত হওয়ার নয়। মানুষের জীবন বাঁচানোর চেয়ে মহৎ কাজ আর কী হতে পারে?
আমি বিশ্বাস করি, একটি সংগঠনের প্রকৃত শক্তি তার ভবন, অর্থ কিংবা সাংগঠনিক কাঠামোতে নয়; তার প্রকৃত শক্তি মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতায়। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—দুঃসময়ে মানুষের পাশে থাকার এই মানসিকতা, যা আজও অটুট রয়েছে।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, অতীতের মতো আগামী দিনেও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন তাদের কর্মপরিধি আরও বিস্তৃত করবে, সেবার পরিসর আরও বাড়াবে। চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা, কৃষি, দুর্যোগ মোকাবিলা, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে হবে। একটি অসহায় মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, একজন দরিদ্র শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেওয়া, একজন কৃষকের পাশে দাঁড়ানো কিংবা দুর্যোগে বিপন্ন একটি পরিবারের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়াও মানবতার একেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক—মানুষের দুঃখে আমরা পাশে থাকব, তাদের বিপদে এগিয়ে যাব এবং সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে প্রতিটি অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করব। যারা গত ২৭ বছর ধরে নীরবে, নিঃস্বার্থভাবে এবং সাহসের সঙ্গে মানবসেবার এই অভিযাত্রাকে এগিয়ে নিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি রইল আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা।
আসুন, মানবতার পতাকাকে আরও উঁচুতে তুলে ধরি। মানুষের সেবাকে আমাদের পরিচয় এবং মানবতাকে আমাদের পথচলার প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করি। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সফল ও সার্থক হোক। আল্লাহ আমাদের সবাইকে মানুষের কল্যাণে কাজ করার তৌফিক দান করুন।
তারেক রহমান। প্রেসিডেন্ট, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন
-:জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্টের বাণী:-
১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর আর্তমানবতার সেবায় জন্ম নেওয়া জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) আজ তার কলেবর বৃদ্ধি করে বিভিন্ন পেশার মানুষকে একই ছাদের নিচে এনে পরস্পরের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের বীজ বপন করতে সক্ষম হয়েছে। একটি অরাজনৈতিক, বেসরকারি ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় জনগণের প্রয়োজনে সেবা দিয়েছে বিরামহীনভাবে যা জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে করোনাকালীন সময়েও।
জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংগঠনটি মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, মানবিক মর্যাদা এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়। আজকে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন জাতির কাছে ভরসার এক প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ফাউন্ডেশনের প্রতিটি কাজ দেশ-বিদেশে হয়েছে সমাদৃত ও প্রশংসিত।
সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রেখে যাচ্ছে জেডআরএফ। একদিকে যেমন ছিল কোভিডকালীন মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে ভার্চুয়াল বিজ্ঞান মেলা : ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে, কড়াইলবাসীর হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের জন্য বিশেষায়িত মেডিকেল ক্যাম্প, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সচেতনতামূলক লিফলেট ও মশারী বিতরণ, মাইলস্টোন ট্রাজেডিতে আহত শিশুদের চিকিৎসার ব্যবস্থা, প্রাইমারি স্কুল সংস্কার। একই সাথে ছিল পরিবেশ রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো আয়োজন। উল্লেখ্য, ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত তৃতীয় বিজ্ঞান মেলা “ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে ২০২৬” অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
গরীব ও মেধাবী শিশুদের মাঝে বই বিতরণ, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের হেলথ চেক আপ ও ঔষধ প্রদানসহ শিক্ষা উপকরণ প্রদান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত সুরভি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত হেলথ চেক আপ ও ঔষধ প্রদানের ব্যবস্থা, বগুড়াতে মূক ও বধির স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন, ভাষানটেক, সাততলা, কড়াইলবাসী যেন নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পায় সেজন্য ভলান্টিয়ার টিম তৈরি করা, ভাষানটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশনসহ চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজনের মতো উদ্যোগগুলো কেবলমাত্র সামাজিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এই কর্মযজ্ঞে সম্পৃক্ত মানুষগুলোকে “যেখানেই ভাল কাজ সেখানেই জেডআরএফ” এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত করেছে।
প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে আজ অবধি অভিজ্ঞতা ও অর্জনের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন দেশের মানুষের আস্থার একটি মানবিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তার অবস্থান সুদৃঢ় করে চলেছে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বিজ্ঞানচর্চা, কৃষি, পরিবেশ, নারীর ক্ষমতায়ন ও দুর্যোগ মোকাবিলাসহ মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, ছোট ছোট উদ্যোগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
মানবিক সেবার এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রেসিডেন্ট জনাব তারেক রহমান-এর দেখানো পথেই এগিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। ২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত সকল সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা ও সেবার অঙ্গীকার নিয়ে আমাদের এই পথচলা অব্যাহত থাকুক। প্রতিটি উদ্যোগ মানুষের জীবনে স্বস্তি, সম্ভাবনা ও আত্মনির্ভরতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করুক।
পরিশেষে, ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আমি সকলের সুস্বাস্থ্য ও শুভকামনা করছি। আল্লাহ হাফেজ।
ডা. জুবাইদা রহমান। ভাইস-প্রেসিডেন্ট, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন

আপনার মতামত লিখুন