ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। ০৫:৩৫ মিনিট

গৃহকর্মী নির্যাতন মামলা

বিমানের সাবেক এমডি শফিকুরসহ ৪ জন রিমান্ডে

বিমানের সাবেক এমডি শফিকুরসহ ৪ জন রিমান্ডে

১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত এসব আদেশ দেন। 

রিমান্ডে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন- শফিকুর রহমানের বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন এবং মোছা. সুফিয়া বেগম।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমানের পাঁচ ও তার স্ত্রী বিথীর সাত দিন এবং দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুনের পাঁচ, মোছা. সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

গত ৮ ফেব্রুয়ারি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোবেল মিয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওইদিন আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিদের বিষয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে ভিকটিমকে বেশি নির্যাতন করতো মর্মে জানা যায়। মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত গরম খুন্তি আসামিরা কোথায় রেখেছে সে সম্পর্কে জানে। ভিকটিমের শরীরের ক্ষতচিহ্ন থেকে ধারনা করা হচ্ছে ভিকটিমকে অন্য ভাবেও পার্শ্ববিক নির্যাতন করা হয়েছে তা আসামিরা জানে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন সহ মামলার ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ ও খুন্তি উদ্ধারের লক্ষ্যে আটক আসামিদেরকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন। 

এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাদের রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করে, বাদী পক্ষের এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৩টায় উত্তরা ৯ নং সেক্টরের বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেন উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। পরে এই মামলায় দেখিয়ে শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, মামলার বাদী একজন হোটেল কর্মচারী। মামলার আসামি শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীর বাসার সিকিউরিটি গার্ড জাহাঙ্গীরের সাথে বাদীর পরিচয় হয়। ওই বাসার সিকিউরিটি গার্ড জাহাঙ্গীর বাদীকে জানায়, সে যে বাসায় সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে চাকুরি করে সে বাসায় বসবাসরত দম্পতির বাচ্চা দেখাশোনা করার জন্য ছোট মেয়ে বাচ্চা খুঁজতেছেন। পরে তাদের সাথে দেখা করেন বাদী। তারা জানায়, যাকে রাখবে বিবাহসহ যাবতীয় খরচ বহন করবে। তাতে সম্মত হয়ে গত বছরের জুন মাসে মোহনাকে ওই বাসায় কাজে দেন বাদী। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় ১১ বছরের শিশুকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন বাবা। তবে এরপর আর ওই শিশুকে পরিবারের সাথে দেখা করতে দেয়নি আসামিরা। গত ৩১ জানুয়ারি বিথী শিশুটির বাবাকে ফোন করে জানান, তার মেয়েটি অসুস্থ। তাকে নিয়ে যেতে। পরে মেয়েকে আনতে যান তার বাবা। সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বাদীর কাছে তার মেয়েলে বুঝে দেন সাথী।

‎তখন বাদী দেখতে পান, তার মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্নস্থান গুরুতর জখম। মেয়েটি ভালোভাবে কথাও বলতে পারে না। সাথীকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে সদুত্তর দিতে পারে না। পরে তার মেয়েকে নিয়ে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন  আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তার মেয়ে জানায়, গত ২ নভেম্বর  তার বাবার সাথে দেখা করে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে শফিকুর রহমান এবং বিথীসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারপিটসহ খুন্তি আগুনে গরম করে তার শরীরের বিভিন্নস্থানে ছেঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করে। ওই ঘটনায় ভিকটিমের বাবা উত্তর পশ্চিম থানায় নির্যাতনের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। 

বিষয় : বিমানের সাবেক এমডি শফিকুর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিমানের সাবেক এমডি শফিকুরসহ ৪ জন রিমান্ডে

প্রকাশের তারিখ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত এসব আদেশ দেন। 

রিমান্ডে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন- শফিকুর রহমানের বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন এবং মোছা. সুফিয়া বেগম।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমানের পাঁচ ও তার স্ত্রী বিথীর সাত দিন এবং দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুনের পাঁচ, মোছা. সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

গত ৮ ফেব্রুয়ারি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোবেল মিয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওইদিন আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিদের বিষয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে ভিকটিমকে বেশি নির্যাতন করতো মর্মে জানা যায়। মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত গরম খুন্তি আসামিরা কোথায় রেখেছে সে সম্পর্কে জানে। ভিকটিমের শরীরের ক্ষতচিহ্ন থেকে ধারনা করা হচ্ছে ভিকটিমকে অন্য ভাবেও পার্শ্ববিক নির্যাতন করা হয়েছে তা আসামিরা জানে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন সহ মামলার ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ ও খুন্তি উদ্ধারের লক্ষ্যে আটক আসামিদেরকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন। 

এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাদের রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করে, বাদী পক্ষের এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৩টায় উত্তরা ৯ নং সেক্টরের বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেন উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। পরে এই মামলায় দেখিয়ে শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, মামলার বাদী একজন হোটেল কর্মচারী। মামলার আসামি শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীর বাসার সিকিউরিটি গার্ড জাহাঙ্গীরের সাথে বাদীর পরিচয় হয়। ওই বাসার সিকিউরিটি গার্ড জাহাঙ্গীর বাদীকে জানায়, সে যে বাসায় সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে চাকুরি করে সে বাসায় বসবাসরত দম্পতির বাচ্চা দেখাশোনা করার জন্য ছোট মেয়ে বাচ্চা খুঁজতেছেন। পরে তাদের সাথে দেখা করেন বাদী। তারা জানায়, যাকে রাখবে বিবাহসহ যাবতীয় খরচ বহন করবে। তাতে সম্মত হয়ে গত বছরের জুন মাসে মোহনাকে ওই বাসায় কাজে দেন বাদী। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় ১১ বছরের শিশুকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন বাবা। তবে এরপর আর ওই শিশুকে পরিবারের সাথে দেখা করতে দেয়নি আসামিরা। গত ৩১ জানুয়ারি বিথী শিশুটির বাবাকে ফোন করে জানান, তার মেয়েটি অসুস্থ। তাকে নিয়ে যেতে। পরে মেয়েকে আনতে যান তার বাবা। সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বাদীর কাছে তার মেয়েলে বুঝে দেন সাথী।

‎তখন বাদী দেখতে পান, তার মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্নস্থান গুরুতর জখম। মেয়েটি ভালোভাবে কথাও বলতে পারে না। সাথীকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে সদুত্তর দিতে পারে না। পরে তার মেয়েকে নিয়ে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন  আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তার মেয়ে জানায়, গত ২ নভেম্বর  তার বাবার সাথে দেখা করে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে শফিকুর রহমান এবং বিথীসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারপিটসহ খুন্তি আগুনে গরম করে তার শরীরের বিভিন্নস্থানে ছেঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করে। ওই ঘটনায় ভিকটিমের বাবা উত্তর পশ্চিম থানায় নির্যাতনের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। 


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত