ঢাকার কণ্ঠ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ । ০৫:৩৯ মিনিট

কেরানীগঞ্জে পানের দোকান কর্মচারী খুন: ২৩ বছর পর ৪ জনের যাবজ্জীবন

কেরানীগঞ্জে পানের দোকান কর্মচারী খুন: ২৩ বছর পর ৪ জনের যাবজ্জীবন
ছবি: ঢাকার কণ্ঠ

২৩ বছর আগে জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জেরে সিনেমা দেখানোর কথা বলে জাবেদ নামে কেরানীগঞ্জের এক পানের দোকানের কর্মচারী খুনের দায়ে দুই ভাইসহ চার জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। 

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ৭ম অতিরিক্ত দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

সাজা প্রাপ্ত আসামিরা হলেন, দুই ভাই দেলোয়ার হোসেন ও হাবিবুল্লাহ এবং প্রতিবেশী সিরাজুল ইসলাম ও দ্বীন ইসলাম। আসামিরা সবাই কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরের রসুলপুরের বাসিন্দা।

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারি মানিক এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

মামলার অভিযোগসুত্রে জানা যায়, নুর হোসেন বাবুর পানের দোকানে কাজ করতো ভিকটিম জাবেদ। ২০০৩ সালের ১৮ মার্চ কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে দেলোয়ার, হাবিবুল্লাহ ও সিরাজ সিনেমা দেখানোর কথা বলে দ্বীন ইসলামের রিক্সায় করে কেরানীগঞ্জের ধলেশ্বরী ঘাটে সৈকত সিনেমা হলে নিয়ে যায়। রাত ১২ টার সময়ও বাসায় না ফেরায় নুর হোসেন মাইকিং করে জাবেদকে খোঁজাখুঁজি করেও পাননি। পরদিন সকাল ১০ টার দিকে লোকজন গোছলে নেমে নদীতে জাবেদের লাশ পায়। এ ঘটনায় ১৯ মার্চ নুর হোসেন কেরানীগঞ্জ থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন। নুর হোসেনের কথায় এবং আচরণে  জাবেদের মা আমিনা বেগমের সন্দেহ হয় তিনিও হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। দ্বীন ইসলাম বাদে অপর চারজন পরম আত্মীয়। জমি-জমা নিয়ে জাবেদের বাবার সাথে তাদের বিরোধ ছিল। এরই জেরে তারা জাবেদকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে লাশ গুম করতে নদীতে ফেলে দিয়েছে। ছেলেকে হত্যার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেন আমিনা বেগম। আদালত মামলাটি থানাকে এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেয়।

২০০৫ সালের ৩০ এপ্রিল মামলাটি তদন্ত করে কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মহসিনুল কাদির  পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন। 

পরের বছরের ৮ মে নুর হোসেনকে অব্যাহতি দিয়ে চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

বিষয় : কেরানীগঞ্জে কর্মচারী খুন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কেরানীগঞ্জে পানের দোকান কর্মচারী খুন: ২৩ বছর পর ৪ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

২৩ বছর আগে জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জেরে সিনেমা দেখানোর কথা বলে জাবেদ নামে কেরানীগঞ্জের এক পানের দোকানের কর্মচারী খুনের দায়ে দুই ভাইসহ চার জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। 

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ৭ম অতিরিক্ত দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

সাজা প্রাপ্ত আসামিরা হলেন, দুই ভাই দেলোয়ার হোসেন ও হাবিবুল্লাহ এবং প্রতিবেশী সিরাজুল ইসলাম ও দ্বীন ইসলাম। আসামিরা সবাই কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরের রসুলপুরের বাসিন্দা।

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারি মানিক এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

মামলার অভিযোগসুত্রে জানা যায়, নুর হোসেন বাবুর পানের দোকানে কাজ করতো ভিকটিম জাবেদ। ২০০৩ সালের ১৮ মার্চ কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে দেলোয়ার, হাবিবুল্লাহ ও সিরাজ সিনেমা দেখানোর কথা বলে দ্বীন ইসলামের রিক্সায় করে কেরানীগঞ্জের ধলেশ্বরী ঘাটে সৈকত সিনেমা হলে নিয়ে যায়। রাত ১২ টার সময়ও বাসায় না ফেরায় নুর হোসেন মাইকিং করে জাবেদকে খোঁজাখুঁজি করেও পাননি। পরদিন সকাল ১০ টার দিকে লোকজন গোছলে নেমে নদীতে জাবেদের লাশ পায়। এ ঘটনায় ১৯ মার্চ নুর হোসেন কেরানীগঞ্জ থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন। নুর হোসেনের কথায় এবং আচরণে  জাবেদের মা আমিনা বেগমের সন্দেহ হয় তিনিও হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। দ্বীন ইসলাম বাদে অপর চারজন পরম আত্মীয়। জমি-জমা নিয়ে জাবেদের বাবার সাথে তাদের বিরোধ ছিল। এরই জেরে তারা জাবেদকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে লাশ গুম করতে নদীতে ফেলে দিয়েছে। ছেলেকে হত্যার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেন আমিনা বেগম। আদালত মামলাটি থানাকে এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেয়।

২০০৫ সালের ৩০ এপ্রিল মামলাটি তদন্ত করে কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মহসিনুল কাদির  পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন। 

পরের বছরের ৮ মে নুর হোসেনকে অব্যাহতি দিয়ে চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত