জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকার বিমানবন্দর থানায় আমজাদ আলী নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আয়নাল হোসেনসহ ১৯৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আগামী ২৩ জুন ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার (৬ মে) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত এই তারিখ ধার্য করেন। ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন পুলিশের উপপরিদর্শক আবু বকর ভূঁইয়া ঢাকার কণ্ঠকে এতথ্য নিশ্চিত করেন।
সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিহতের ভাই ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ওইসময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে বিমানবন্দর থানার ওসিকে মামলাটি এজাহার হিসাবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কোটা সংস্কারের জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল ১০ টার সময়
বিমানবন্দর থানাধীন ফ্লাই ওভার ব্রিজের নীচে মেইন রোড ফুটপাতের উপর হাজার হাজার ছাত্র জনতা কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমর্থনে মিছিল করেছিল। সেই আন্দোলন দমনের জন্য আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমীকলীগ ও এর সহযোগী অন্যান্য সংগঠনের নেতা কর্মীগন সহ পুলিশ নির্বিচারে আন্দোলনকারীদের উপর গুলি, টিয়ার শেল, সাউন্ড বোমা, পেট্রোল বোমা ও অণ্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দমন-পীড়ন চালায়। এই মামলার বাদী সহ তার বড় ভাই ভিকটিম আমজাদ আলী বিমানবন্দর থানাধীন ফ্লাই ওভার ব্রিজের নীচে মেইন রোড ফুটপাতের উপর বরাবরের মত ভ্যানে করে ফলমূল বিক্রী করা অবস্থায় যৌক্তিক দাবীতে শান্তিপূর্ন মিছিলে অংশ গ্রহন করেছিলো।
এজাহারনামীয় আসামিদের নির্দেশে সহ অজ্ঞাতনামা প্রায় ১৫০/২০০ জন আসামিরা প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শান্তিপূর্ন মিছিলে আক্রমন চালায়। এরফলে ভিকটিম আমজাদ আলী এর নাভীর নিচে পেটের ডান পার্শ্বে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুলি পিছন দিকে দিয়ে বের হয়ে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম হয় এবং রক্তাক্ত জখম অবস্থায় মাটিতে পড়ে গেলে আসামিদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র, রামদা, চাইনিজ, কুড়াল দিয়ে ভিকটিমের হাতে কোপ মারে ও সারা শরীরে আঘাত করে। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় ভিকটিমের ছোট ভাই ইসলাম হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্য রয়েছে, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক এমপি হাজী সেলিম, আমির হোসেন আমু, ওবায়দুল কাদের, শাজাহান খান, লে. কর্ণেল (অব.) ফারুক খান, কামরুল ইসলাম, কাজী জাফর উল্লাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রাণ গোপাল দত্ত, খসরু চৌধুরী, এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সালমা চৌধুরী, শমসের মবিন চৌধুরীসহ প্রমুখ। এই মামলায় ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মো. আয়নাল হোসেন ৪০ নং এজাহারনামীয় আসামি।
বিষয় : কেরানীগঞ্জ আয়নাল হোসেন হত্যা মামলা

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকার বিমানবন্দর থানায় আমজাদ আলী নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আয়নাল হোসেনসহ ১৯৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আগামী ২৩ জুন ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার (৬ মে) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত এই তারিখ ধার্য করেন। ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন পুলিশের উপপরিদর্শক আবু বকর ভূঁইয়া ঢাকার কণ্ঠকে এতথ্য নিশ্চিত করেন।
সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিহতের ভাই ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ওইসময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে বিমানবন্দর থানার ওসিকে মামলাটি এজাহার হিসাবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কোটা সংস্কারের জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল ১০ টার সময়
বিমানবন্দর থানাধীন ফ্লাই ওভার ব্রিজের নীচে মেইন রোড ফুটপাতের উপর হাজার হাজার ছাত্র জনতা কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমর্থনে মিছিল করেছিল। সেই আন্দোলন দমনের জন্য আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমীকলীগ ও এর সহযোগী অন্যান্য সংগঠনের নেতা কর্মীগন সহ পুলিশ নির্বিচারে আন্দোলনকারীদের উপর গুলি, টিয়ার শেল, সাউন্ড বোমা, পেট্রোল বোমা ও অণ্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দমন-পীড়ন চালায়। এই মামলার বাদী সহ তার বড় ভাই ভিকটিম আমজাদ আলী বিমানবন্দর থানাধীন ফ্লাই ওভার ব্রিজের নীচে মেইন রোড ফুটপাতের উপর বরাবরের মত ভ্যানে করে ফলমূল বিক্রী করা অবস্থায় যৌক্তিক দাবীতে শান্তিপূর্ন মিছিলে অংশ গ্রহন করেছিলো।
এজাহারনামীয় আসামিদের নির্দেশে সহ অজ্ঞাতনামা প্রায় ১৫০/২০০ জন আসামিরা প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শান্তিপূর্ন মিছিলে আক্রমন চালায়। এরফলে ভিকটিম আমজাদ আলী এর নাভীর নিচে পেটের ডান পার্শ্বে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুলি পিছন দিকে দিয়ে বের হয়ে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম হয় এবং রক্তাক্ত জখম অবস্থায় মাটিতে পড়ে গেলে আসামিদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র, রামদা, চাইনিজ, কুড়াল দিয়ে ভিকটিমের হাতে কোপ মারে ও সারা শরীরে আঘাত করে। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় ভিকটিমের ছোট ভাই ইসলাম হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্য রয়েছে, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক এমপি হাজী সেলিম, আমির হোসেন আমু, ওবায়দুল কাদের, শাজাহান খান, লে. কর্ণেল (অব.) ফারুক খান, কামরুল ইসলাম, কাজী জাফর উল্লাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রাণ গোপাল দত্ত, খসরু চৌধুরী, এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সালমা চৌধুরী, শমসের মবিন চৌধুরীসহ প্রমুখ। এই মামলায় ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মো. আয়নাল হোসেন ৪০ নং এজাহারনামীয় আসামি।

আপনার মতামত লিখুন