ঢাকার কণ্ঠ
আপডেট : সোমবার, ০১ জুন ২০২৬ । ০২:২৩ মিনিট

আমি শুধু বাচ্চারে টুকরো করেছি, ধর্ষণ-মারছে ডলার! ডিএনএ টেস্টও নেয়নি_আদালত সোহেল

আমি শুধু বাচ্চারে টুকরো করেছি, ধর্ষণ-মারছে ডলার! ডিএনএ টেস্টও নেয়নি_আদালত সোহেল
ছবি: ঢাকার কণ্ঠ

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যাকান্ডের এবার মিরপুরের ডলার নামে এক ব্যক্তির উপর দায় চাপালেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা।

আদালত চত্তরে প্রধান আসামি সোহেল সাংবাদিকদের জানিয়েছে, সে শুধু বাচ্চারে (রামিসা) দুই টুকরো করেছি। ধর্ষণ করছে ডলার, মারেছে ডলার।

সোমবার সকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। শুনানি শেষে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে একথা বলে সোহেল।

এদিন সকাল পৌনে সাড়ে ৭ টার দিকে সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আর স্বপ্নাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিকালে তাদের এজলাসে তোলা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায় আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করে বলেন, শিশু রামিসা আক্তারকে বাসায় ডেকে নিয়ে বাথরুমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। তাকে বেঁধে নির্যাতনের একপর্যায়ে রামিসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে আসামি তাকে মৃত ভেবে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে শরীর থেকে গলা কেটে আলাদা করে। একই সঙ্গে বাথরুমের ভেতরেই তার হাত-পা বিচ্ছিন্ন করা হয়। 

এরপর আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মূলা কালিমূল্যাহ আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, তড়িঘড়ি করে মামলার তদন্ত শেষ করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও উপস্থাপন করতে পারেনি। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে আপত্তি জানান তিনি।

উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারক সোহেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনান। আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলতে চান সোহেল রানা। তবে অনুমতি দেননি।

পরে অপর আসামি স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও পড়ে শোনানো হয়। এরপর বিচারক স্বপ্না আক্তারকে নিজেকে দোষী মনে করেন কি না জানতে চাইলে তিনি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। তখন তিনি তার স্বামী সোহেল রানাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তুমি বলো আমি দোষী কিনা। এসময় সোহেল রানা আদালতে স্বপ্নাকে নির্দোষ দাবি করেন।

শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আগামীকাল মঙ্গলবার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন রাখেন। পরে এজলাস ত্যাগ করেন বিচারক। এরপর কাঠগড়ায় একে অপরের সাথে কথা বলেন সোহেল ও স্বপ্না। এসময় সোহেল স্বপ্নাকে চিনতে করতে না করে। তার (স্বপ্নার) কোন দোষ নেই বলে জবানবন্দি দিয়েছে বলেও জানায়। এরপর ১১ টা ৩৮ মিনিটের দিকে স্বপ্নাকে কাঠগড়া থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় হাজতখানায় নেওয়া হয়। এসময় স্বামী সোহেল রানার দিকে অপলক দৃষ্টিতো তাকিয়ে থাকেন স্বপ্না। সোহেলও তাকে অভয় দিয়ে বলেন চিন্তা না করতে। 

কাঠগড়ায় দাড়িয়ে সোহেল উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কেটেছি। ধর্ষণ করেছে ডলার নামে একজন। আমি পাপ করেছি, আমাকে সেই পাপের শাস্তি দেন। মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে ডলার তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে। এরপর পুলিশ সদস্যরা তাকে থামিয়ে দেন।

আদালত থেকে নেওয়ার পথে সোহেল সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন,''মিরপুর-১১ নম্বর লাইনে বাড়ি ডলারের। রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার মুল আসামি ওই ডলার। ধর্ষণও ডলার করছে, মারছেও ডলার। ওরে ধরেন আপনারা (সাংবাদিকরা) সব পাবেন। আমার স্ত্রী আমাকে সাহায্য করেনি। আমার স্ত্রী কোনো দোষ নাই। দোষ ডলারের আছে। আমার দোষ আছে, ডলারেও দোষ আছে। আমি অতো অপরাধী না। আমি শুধু বাচ্চারে দু'টুকরো করেছি। ধর্ষণ করছে ডলার, মারছে ডলার। আমার কোনো ডিএনএ টেস্ট নেয়নি। অটোমেটিক নিয়ে নিছে। ডলার আসাকে দুই লক্ষ টাকা দিছে। ডলার অনেক ধনী লোক, টাকাওয়ালা। 

বিষয় : রামিসা হত্যাকাণ্ড স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আমি শুধু বাচ্চারে টুকরো করেছি, ধর্ষণ-মারছে ডলার! ডিএনএ টেস্টও নেয়নি_আদালত সোহেল

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬

featured Image

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যাকান্ডের এবার মিরপুরের ডলার নামে এক ব্যক্তির উপর দায় চাপালেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা।

আদালত চত্তরে প্রধান আসামি সোহেল সাংবাদিকদের জানিয়েছে, সে শুধু বাচ্চারে (রামিসা) দুই টুকরো করেছি। ধর্ষণ করছে ডলার, মারেছে ডলার।

সোমবার সকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। শুনানি শেষে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে একথা বলে সোহেল।

এদিন সকাল পৌনে সাড়ে ৭ টার দিকে সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আর স্বপ্নাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিকালে তাদের এজলাসে তোলা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায় আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করে বলেন, শিশু রামিসা আক্তারকে বাসায় ডেকে নিয়ে বাথরুমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। তাকে বেঁধে নির্যাতনের একপর্যায়ে রামিসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে আসামি তাকে মৃত ভেবে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে শরীর থেকে গলা কেটে আলাদা করে। একই সঙ্গে বাথরুমের ভেতরেই তার হাত-পা বিচ্ছিন্ন করা হয়। 

এরপর আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মূলা কালিমূল্যাহ আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, তড়িঘড়ি করে মামলার তদন্ত শেষ করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও উপস্থাপন করতে পারেনি। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে আপত্তি জানান তিনি।

উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারক সোহেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনান। আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলতে চান সোহেল রানা। তবে অনুমতি দেননি।

পরে অপর আসামি স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও পড়ে শোনানো হয়। এরপর বিচারক স্বপ্না আক্তারকে নিজেকে দোষী মনে করেন কি না জানতে চাইলে তিনি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। তখন তিনি তার স্বামী সোহেল রানাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তুমি বলো আমি দোষী কিনা। এসময় সোহেল রানা আদালতে স্বপ্নাকে নির্দোষ দাবি করেন।

শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আগামীকাল মঙ্গলবার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন রাখেন। পরে এজলাস ত্যাগ করেন বিচারক। এরপর কাঠগড়ায় একে অপরের সাথে কথা বলেন সোহেল ও স্বপ্না। এসময় সোহেল স্বপ্নাকে চিনতে করতে না করে। তার (স্বপ্নার) কোন দোষ নেই বলে জবানবন্দি দিয়েছে বলেও জানায়। এরপর ১১ টা ৩৮ মিনিটের দিকে স্বপ্নাকে কাঠগড়া থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় হাজতখানায় নেওয়া হয়। এসময় স্বামী সোহেল রানার দিকে অপলক দৃষ্টিতো তাকিয়ে থাকেন স্বপ্না। সোহেলও তাকে অভয় দিয়ে বলেন চিন্তা না করতে। 

কাঠগড়ায় দাড়িয়ে সোহেল উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কেটেছি। ধর্ষণ করেছে ডলার নামে একজন। আমি পাপ করেছি, আমাকে সেই পাপের শাস্তি দেন। মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে ডলার তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে। এরপর পুলিশ সদস্যরা তাকে থামিয়ে দেন।

আদালত থেকে নেওয়ার পথে সোহেল সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন,''মিরপুর-১১ নম্বর লাইনে বাড়ি ডলারের। রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার মুল আসামি ওই ডলার। ধর্ষণও ডলার করছে, মারছেও ডলার। ওরে ধরেন আপনারা (সাংবাদিকরা) সব পাবেন। আমার স্ত্রী আমাকে সাহায্য করেনি। আমার স্ত্রী কোনো দোষ নাই। দোষ ডলারের আছে। আমার দোষ আছে, ডলারেও দোষ আছে। আমি অতো অপরাধী না। আমি শুধু বাচ্চারে দু'টুকরো করেছি। ধর্ষণ করছে ডলার, মারছে ডলার। আমার কোনো ডিএনএ টেস্ট নেয়নি। অটোমেটিক নিয়ে নিছে। ডলার আসাকে দুই লক্ষ টাকা দিছে। ডলার অনেক ধনী লোক, টাকাওয়ালা। 


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত